Thursday, May 19, 2016

খালেদা জিয়াকে ২ জুন আদালতের হাজিরের নির্দেশ

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার অন্যতম আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পরবর্তী ধার্য দিন ২ জুন আদালতে হাজির হতে হবে। সেদিন অনুপস্থিত থাকলে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ইঙ্গিত দেন আদালত। আদালত বলেন, ‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’ ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার আজ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।
খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হওয়ায় বৃহস্পতিবার এই মামলায় তার আত্মপক্ষ সমর্থন আরো এক দফা পিছিয়ে যায়। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তার অন্যতম আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া এদিন আবার সময়ের আবেদন করেন। ওই আবেদন শুনে আদালত এই মামলায় নতুন তারিখ ঠিক করে দেন। পাশাপাশি ওইদিন খালেদা জিয়াকে হাজির হতে নির্দেশ দেন।
আদেশের পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল সাংবাদিকদের বলেন, আমি আজই গ্রেফতারি পরোয়ানা চেয়েছিলাম। বার বার কথা দিয়ে তার আইনজীবীরা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছেন না। খালেদা জিয়াও আদালতকে শ্রদ্ধা দেখাচ্ছেন না। এ কারণে বৃহস্পতিবারই আসামিকে পলাতক দেখিয়ে যুক্তিতর্ক শুরু করারও আবেদন করেছিলেন বলে জানান দুদকের এই আইনজীবী।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা দুটি মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলছে রাজধানীর বকশিবাজারে কারা অধিদফতরে প্যারেড মাঠে স্থাপিত ৩ নম্বর বিশেষ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য গত ৭, ১৭ ও ২৫ এপ্রিল এবং ৫ মে চার দফা সময় মঞ্জুর করা হয় খালেদা জিয়াকে। এর আগে গত বছরের শুরুর দিকে টানা তিন মাস খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে থাকার সময় আদালতে না যাওয়ায় একই বিচারক তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। পরোয়ানা জারির এক মাস ১০ দিন পর খালেদা জিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করে এই দুই মামলায় জামিন পান।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে জমি কেনার সময় ছয় কোটি ৫২ লাখ সাত হাজার টাকা অবৈধভাবে লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুদক ২০১১ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে।
অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার অন্যতম আসামি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে মামলার বাদি দুদকের উপপরিচালক হারুনুর রশিদকে জেরা অব্যাহত রয়েছে। আংশিক জেরা শেষে এই মামলার পরবর্তী তারিখ রাখা হয়েছে ২৬ মে।
এদিন তারেক রহমানের পক্ষে বাদিকে জেরা করেন অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন। এ সময় আদালতে আরো উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মহসিন মিয়া, জাকির হোসেন ভূইয়া, আমিনুল ইসলাম, তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ, জিয়াউদ্দিন জিয়া প্রমুখ।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে দর্নীতি দমন কমিশন। এতে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে।

No comments:

Post a Comment