![]() |
| তৈরি পোশাক খাত নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষা প্রকাশ উপলক্ষে গতকাল বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) ও বিশ্বব্যাংক আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা l প্রথম আলো |
চীনা
পোশাকের দাম ১০ শতাংশ বাড়লে বাংলাদেশে ৪ দশমিক ২২ শতাংশ কর্মসংস্থান
বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়বে ১৩
দশমিক ৫৮ শতাংশ। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) উল্লেখযোগ্য হারে রপ্তানি বাড়বে
না। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সম্ভাবনাকে এভাবেই দেখছে বিশ্বব্যাংক।
গতকাল সোমবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘তৈরি পোশাক খাতে দক্ষিণ এশিয়ার
কর্মসংস্থান, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন’ শীর্ষক সমীক্ষায় এ কথা বলা
হয়েছে। বিশ্বব্যাংক যুক্তি দেখিয়েছে, তৈরি পোশাকের বিশ্ববাজার থেকে আস্তে
আস্তে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছে চীন। এতে বাংলাদেশের বিপুল কর্মসংস্থানের
সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের এ সম্ভাবনা নির্ভর করছে বিদেশি ক্রেতাদের
চাহিদা অনুযায়ী পোশাকের দর, মান, লিড টাইম, আস্থা এবং কারখানার নিরাপত্তা
মানের ওপর। ২০১২ সালের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তৈরি করা সমীক্ষায় আরও বলা
হয়েছে, বাংলাদেশে তৈরি পোশাক উৎপাদন ১ শতাংশ বাড়লে দশমিক ৩ থেকে দশমিক ৪
শতাংশ পর্যন্ত কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়। বিশ্বব্যাংক আরও বলছে, চীনা পোশাকের
দাম ১০ শতাংশ বাড়লে ভারতের পোশাক রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১৪ দশমিক
৬২ শতাংশ ও ইইউতে ১৯ শতাংশ বাড়বে। পাকিস্তানের রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রে সাড়ে
২৫ শতাংশ এবং ইইউতে শ্রীলঙ্কার রপ্তানি সাড়ে ২২ শতাংশ বাড়বে। তবে তৈরি
পোশাকের বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব এ তিনটি দেশের চেয়ে বেশি।
সমীক্ষা মতে, পোশাক তৈরির খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা চীন থেকে কারখানা কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামে নিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া চীন উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনে ঝুঁকছে। নব্বইয়ের দশকে চীনের মোট রপ্তানিতে তৈরি পোশাকের অবদান ছিল ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০১২ সালে তা কমে ৭ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে। যদিও চীন এখনো বিশ্ববাজারে সবচেয়ে বড় পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ।
আলোচনা: বিশ্বব্যাংকের এ সমীক্ষা নিয়ে গতকাল বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) ও বিশ্বব্যাংক আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের মুখ্য অর্থনীতিবিদ গ্লাদিস লোপেজ অ্যাসেভেদো আগারগাঁওয়ে বিআইডিএস মিলনায়তনে আয়োজিত এ আলোচনার প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি-বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান বলেন, শুধু নিম্ন মজুরির ওপর নির্ভরশীল হয়ে তৈরি পোশাক খাতটি টেকসই করা উচিত হবে না। নিম্ন মজুরি হলো সাময়িক সুবিধা। তাই তিনি দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মতো বৈশ্বিক আঙ্গিকে বাংলাদেশ অগ্রাধিকারমূলক বাজার-সুবিধা পায়। কিন্তু এর বাইরে ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপের (টিপিপি) মতো দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় চুক্তি বাংলাদেশের এ বাজার-সুবিধাকে সংকোচন করছে। তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রতিবছর ২০ লাখ তরুণ-তরুণী কর্মবাজারে প্রবেশ করেন। তাঁদের কর্মসংস্থানে তৈরি পোশাক খাত বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান বলেন, কাঁচামাল ও মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় চীনা পোশাকের দাম বেড়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় কর্মসংস্থানে সহায়তা করবে বলে তিনি মনে করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক কে এ এস মুরশিদ।
সমীক্ষা মতে, পোশাক তৈরির খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা চীন থেকে কারখানা কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামে নিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া চীন উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনে ঝুঁকছে। নব্বইয়ের দশকে চীনের মোট রপ্তানিতে তৈরি পোশাকের অবদান ছিল ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০১২ সালে তা কমে ৭ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে। যদিও চীন এখনো বিশ্ববাজারে সবচেয়ে বড় পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ।
আলোচনা: বিশ্বব্যাংকের এ সমীক্ষা নিয়ে গতকাল বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) ও বিশ্বব্যাংক আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের মুখ্য অর্থনীতিবিদ গ্লাদিস লোপেজ অ্যাসেভেদো আগারগাঁওয়ে বিআইডিএস মিলনায়তনে আয়োজিত এ আলোচনার প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি-বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান বলেন, শুধু নিম্ন মজুরির ওপর নির্ভরশীল হয়ে তৈরি পোশাক খাতটি টেকসই করা উচিত হবে না। নিম্ন মজুরি হলো সাময়িক সুবিধা। তাই তিনি দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মতো বৈশ্বিক আঙ্গিকে বাংলাদেশ অগ্রাধিকারমূলক বাজার-সুবিধা পায়। কিন্তু এর বাইরে ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপের (টিপিপি) মতো দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় চুক্তি বাংলাদেশের এ বাজার-সুবিধাকে সংকোচন করছে। তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রতিবছর ২০ লাখ তরুণ-তরুণী কর্মবাজারে প্রবেশ করেন। তাঁদের কর্মসংস্থানে তৈরি পোশাক খাত বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান বলেন, কাঁচামাল ও মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় চীনা পোশাকের দাম বেড়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় কর্মসংস্থানে সহায়তা করবে বলে তিনি মনে করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক কে এ এস মুরশিদ।

No comments:
Post a Comment