Tuesday, May 3, 2016

কর্মপরিবেশই বড় ঝুঁকি

তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ড ও রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য কমপ্লায়েন্স বা কর্মপরিবেশই বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। চ্যালেঞ্জটি ভালোভাবে মোকাবিলা করার মধ্য দিয়েই শিল্পটির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অটুট রাখা সম্ভব। কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি পোশাকের তীব্র বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পণ্যের মান, সময়মতো পণ্য পৌঁছানোর বিষয়ে নির্ভরযোগ্যতা ও কৃত্রিম তন্তুর পোশাক তৈরির মাধ্যমে পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ করতে হবে। তৈরি পোশাক খাতে দক্ষিণ এশিয়ার কর্মসংস্থান, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন শীর্ষক বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষায় বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, বিদেশি ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান এখন শুধু পোশাকের মূল্য নয়, অন্যান্য বিষয়েও সমান গুরুত্ব দেয়। বিশ্বব্যাংক বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ বাড়ছে। বাংলাদেশের পোশাক খাতের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে সরকার, বিদেশি ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীরা কাজ করলেও অধিকার আদায়ের দর-কষাকষি এখনো জটিলতার মধ্যে আছে। দেশের শিল্প সম্পর্ক পদ্ধতিগত দুর্বলতার জন্য নারী শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বে ঘাটতি আছে। কৃত্রিম তন্তুর পণ্য: ভবিষ্যতে পোশাক রপ্তানি আয় বাড়াতে কৃত্রিম তন্তুর পণ্য উৎপাদনের দিকে যেতে হবে। অন্যথায় চীন উচ্চ মূল্যের পোশাক রপ্তানির ব্যবসা যেটুকু ছাড়বে, তা দখলে নিতে পারবে না বাংলাদেশ।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৫ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত আট বছরে কৃত্রিম তন্তুর ব্যবহার বেড়েছে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। বিশ্বের মোট রপ্তানির ৩২ শতাংশ পোশাকই এখন কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি কাপড়ের। আর তুলা দিয়ে তৈরি সুতি কাপড়ের হিস্যা ৪৬ শতাংশ। অবশ্য কৃত্রিম তন্তু ব্যবহারে বাংলাদেশের মতো ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা পিছিয়ে আছে। দেশগুলোর মোট রপ্তানির ৭৫ শতাংশ পোশাকই তুলা দিয়ে তৈরি সুতি কাপড়ের। অন্যদিকে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি করা ৪৭ শতাংশ সুতি কাপড়ের। চীনের এই হার ৩৯ শতাংশ। তবে বৈশ্বিক গতিধারা বিবেচনায় নিয়ে শ্রীলঙ্কা ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ পোশাক কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি করছে। মজুরি এখনো কম: তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। তবে আড়াই বছর আগে মজুরি বাড়ানোর পরও দেশের পোশাকশ্রমিকেরা এখনো অন্য প্রতিযোগী দেশের চেয়ে কম মজুরি পান। পোশাকশ্রমিকদের নিম্নতম মাসিক মজুরি বর্তমানে বাংলাদেশে ৬৮ মার্কিন ডলার, কম্বোডিয়ায় ১০০, শ্রীলঙ্কায় ৭১, পাকিস্তানে ১২০, ভিয়েতনামে ১০৯, ভারতে ১০১, ইন্দোনেশিয়ায় ১৩৪ এবং চীনে ২১১ মার্কিন ডলার। বিশ্বব্যাংক বলছে, শ্রমিকনির্ভর হওয়ায় শ্রমিক প্রাপ্যতা এবং তাদের জন্য খরচ পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তবে এশিয়ার অনেক দেশেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শ্রমিক আন্দোলন ও অন্য খাতের প্রতিযোগিতার কারণে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বেড়েছে। ফলে ভবিষ্যতে কম মজুরির কৌশল থেকে সরে আসতে হতে পারে। তাই মজুরির সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে উদ্যোক্তাদের।

No comments:

Post a Comment