![]() |
| চলছে নৌবাহিনীর অনুসন্ধান |
ইজিপ্টএয়ারের
যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনার কারণ সম্পর্কে গতকাল শুক্রবার
পর্যন্ত কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে ফ্রান্স ও মিসরের বক্তব্যে দুর্ঘটনার
কারণ সম্পর্কে কিছুটা ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে বিমানটির আরও কিছু
ধ্বংসাবশেষ ও মানুষের শরীরের ছিন্ন অংশ পাওয়া গেছে। মিসরের বেসামরিক বিমান
চলাচল মন্ত্রণালয় এক বার্তায় জানায়, দেশটির নৌবাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি
চালিয়ে বিমানের আরও কিছু ধ্বংসাবশেষ, আরোহীদের জিনিসপত্র এবং মানুষের
শরীরের ছিন্ন অংশ উদ্ধার করেছেন। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল মিসরীয়
বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, ইজিপ্টএয়ারের ওই বিমান বিধ্বস্ত
হওয়ার কারণ সম্পর্কে ‘কোনো রকম ইঙ্গিত’ পাওয়া যায়নি। আর মিসরের কর্তৃপক্ষ
বলছে, খুব সম্ভবত সন্ত্রাসী হামলা এর কারণ। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী
জ্যঁ-মার্ক অ্যঁরাল্ট ফ্রান্সের একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেন, দুর্ঘটনার
কারণ উদ্ঘাটনে সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফ্রান্সের কাছে যেসব তথ্য
আছে, তা জানাতে শনিবার (আজ) দেশটির সরকারি প্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত
পরিবারগুলোর সদস্যদের সঙ্গে দেখা করবেন। গত বৃহস্পতিবার ৬৬ জন আরোহী নিয়ে
প্যারিস থেকে কায়রো যাওয়ার পথে বিমানটি ভূমধ্যসাগরের ওপর দিয়ে ওড়ার সময়
রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে বিমানটির সন্ধানে ব্যাপক
অনুসন্ধান তৎপরতা শুরু হয়েছে। এরপর সাগরের কারপাথোস দ্বীপের কাছে কিছু
ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। গতকাল আরও কিছু ধ্বংসাবশেষের সন্ধান মিলেছে। বিমান
বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ সম্পর্কে মিসরের বিমান পরিবহনমন্ত্রী বৃহস্পতিবার
বলেন, বিমানটি রাডার থেকে কেন অদৃশ্য হয়ে গেল, সে সম্পর্কে কিছু বললে তা
খুব আগাম মন্তব্য করা হবে। তবে বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ কারিগরি ত্রুটির চেয়ে
কোনো সন্ত্রাসী হামলা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বিমানটি কারপাথোস দ্বীপ ও মিসর
উপকূলের মাঝামাঝি অবস্থানকালে রাডার থেকে হারিয়ে যায়। এর আগে বিমানের
ক্রুরা কোনো রকম বিপৎসংকেত পাঠাননি। গ্রিসের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পানোস
কামেনোস এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, শেষ মুহূর্তে এটি হঠাৎ করে ২২ হাজার ফুট
নিচে নেমে আসে। সেই সঙ্গে প্রথমে বাঁ-দিকে ৯০ ডিগ্রি ও পরে ডান দিকে পুরো
৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে যায়। গত ২৯ মার্চ ইজিপ্টএয়ারের একটি বিমান ছিনতাই করে
সাইপ্রাসে নিয়ে যান এক ব্যক্তি। আবার, গত বছর অক্টোবরে সন্ত্রাসী হামলায়
মিসরের আকাশসীমায় ভূপাতিত হয় একটি রুশ যাত্রীবাহী বিমান। তাতে প্রাণ হারান
২২৪ জন। ঘটনাটির জন্য জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসকে দায়ী করা হয়ে থাকে। এবার মিসরের
বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ওই হামলার আশঙ্কাকেই আবার জাগিয়ে তুলেছে।

No comments:
Post a Comment