Saturday, May 21, 2016

জয়ের পর বিরোধীদের ওপর চড়াও তৃণমূল

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে যেসব আসনে বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন, সেই আসনগুলোতে হামলার ব্যাপকতা বেশি। আর বেশির ভাগ জায়গায় নির্বাচনে বিজয়ী তৃণমূলের বিরুদ্ধে এসব হামলা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুরুলিয়ায় সংঘর্ষে তৃণমূলের একজন নিহত হয়েছেন। কলকাতার উত্তর দমদম আসনে জয়ী হয়েছেন বামপ্রার্থী। বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশের পর তৃণমূল সমর্থকেরা হামলা চালান সেখানকার স্থানীয় সিপিএম নেতা মানিক দত্তের বাড়িতে। পরে পুলিশ গিয়ে ওই নেতাকে উদ্ধার এবং বাড়িটিকে ভাঙচুরের হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করে। এতে তৃণমূলের কর্মীরা পুলিশের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তাঁরা নিউ ব্যারাকপুর থানায় ঢুকে ওসির কক্ষে ভাঙচুর চালান। এতে আহত হন ওসিসহ আরও দুই পুলিশ সদস্য। পরে পুলিশ তৃণমূলের একজন কাউন্সিলরসহ ১২ জন তৃণমূল নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডিতে সংঘর্ষে এক তৃণমূল সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। এই আসনে জয়ী হন বামের প্রার্থী নেপাল মাহাত। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙরে কংগ্রেস নেতা আবদুর রহমানের বাড়িতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছেন তৃণমূলের সমর্থকেরা। সোনারপুর উত্তরে সিপিএম কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। বর্ধমানের দুর্গাপুরে হামলা চালানো হয়েছে বাম সমর্থকদের বাড়িঘরেও। কলকাতার রাজারহাট-নিউটাউনে বাম দলের তিনজন এজেন্টের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও ব্যাপক বোমাবাজি করা হয়েছে। এ ছাড়া কলকাতার এন্টালি, কাশীপুর, বিরাটি, নিমতা, তালতলা, বসিরহাট, ব্যারাকপুর, শালবনীতে সিপিএম কার্যালয় ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। বীরভূমের নানুরে সংঘর্ষে দুজন তৃণমূলের কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বর্ধমানের আসানসোলের জামুরিয়ায় সিপিএম কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। হামলা করা হয়েছে সিপিএমের সাবেক বিধায়কের বাড়িসহ আরও পাঁচটি বাড়িতে। শুক্রবার শপথ মমতার: আগামী শুক্রবার দ্বিতীয় দফায় মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে প্রথা ভেঙে এবার তিনি শপথ নেবেন রাজভবনের বাইরে রেড রোডের উন্মুক্ত স্থানে। যাতে করে হাজারো মানুষ এই শপথ অনুষ্ঠান দেখতে পারে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে কালীঘাটের তৃণমূল অফিসে মমতা নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে প্রথম বৈঠক করেন। এই বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হন তিনি।

No comments:

Post a Comment