Saturday, May 7, 2016

তাঁরা নারী, তাঁরা রেফারি

বাঁশি হাতেও ফুটবল মাঠে প্রতিবন্ধকতা মাড়িয়ে চলতে হয় নারীদের। ছবি: সংগৃহীত
মার্তাকে নিশ্চয়ই চেনেন? ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড মার্তা, মেয়েদের ফুটবলের সর্বকালের সেরা ভাবা হয় যাঁকে। অবশ্য স্কার্ট পরা পেলে হিসেবেই পরিচিতিটা বেশি তাঁর। নামটি দিয়েছেন স্বয়ং পেলে। খুবই গৌরবের বিষয়। তবে এর মধ্যেও একটা ‘কিন্তু’ তো আছেই, নারী ফুটবলার বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে ‘স্কার্ট’ শব্দটি। নারী ফুটবল বৈষম্যের ছোঁয়া বাঁচাতে পারছে কই! তবে বৈষম্যের সবচেয়ে কদর্য চেহারাটি ফুটবলার নন, রেফারিদেরই সবচেয়ে বেশি দেখতে হয়। পেরুর মেলানি বেরমেহোর ঘটনাটি শুনুন। দ্বিতীয় বিভাগের ফুটবল লিগের রেফারি তিনি। মাঠে একবার ফাউলের সিদ্ধান্ত দেওয়ায় অপরাধী খেলোয়াড়ের টিটকারি, ‘রান্নাঘরে ফিরে যাও।’ ছেলেদের লিগে ম্যাচ চালাতে গিয়ে বেরমেহোর এমন টিটকারি হজমই হয়ে গেছে। এর চেয়েও খারাপ অনেক কিছুই নিয়মিত শুনতে হয় তাঁকে। বিভিন্ন দেশে এখন ছেলেদের লিগে রেফারির দায়িত্ব পালন করছেন নারীরা। ফিফার ৭২০ জন নিবন্ধিত নারী রেফারির ৩২৪ জনই মূল রেফারি হিসেবে কাজ করছেন। লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন শীর্ষ লিগেই আছেন বেশ কয়েকজন। ছেলেদের ফুটবলের গতি ও শারীরিক সক্ষমতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে খুব কম রেফারিই শীর্ষ পর্যায়ে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পান। যে কয়েকজন সব বাধা পেরিয়ে উঠে আসেন তাঁদেরও বৈষম্যের শিকার হতে হয়। আর্জেন্টিনার রেফারি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের পরিচালক কার্লোস কোরাডিনাও স্বীকার করে নিয়েছেন, নারী রেফারিদের বয়সভিত্তিক ও নারী ফুটবলের দায়িত্বই বেশি দেওয়া হয়।
এই আর্জেন্টিনাতেই ১৯৯৬ সালে রেফারি হিসেবে নিবন্ধনের দাবি তুলেছিলেন ফ্লোরেন্সিনো রোমানো। তখনকার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন প্রধান ব্যাপারটিকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দেয়। রোমানো নিজের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে অনশন শুরু করলে নতজানু হয় আর্জেন্টাইন ফেডারেশন। ২০০৪ সালে মেক্সিকোর ভার্জিনিয়া তোভার প্রথম নারী হিসেবে শীর্ষ লিগের দায়িত্ব পান। এ ঘটনায় মেক্সিকোর তারকা ফুটবলার কতেমক ব্ল্যাঙ্কোর প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘থালা বাসন ধোও গে, যাও!’ এত বছর পরও পরিস্থিতি খুব একটা পাল্টায়নি। নিকারাগুয়ার তাতিয়ানা গুজমানকে মাঠের মধ্যে আক্রমণ করেছিলেন এক খেলোয়াড়। ওই রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা নিয়েই প্রতিদিন মাঠে নামতে হয় তাঁকে। মাঠে রেফারিকে নিজের মোবাইল নম্বর লিখতে বলা, থুতু দেওয়া কিংবা গ্যালারি থেকে অভিসারে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া তো প্রতিদিনকার ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে ফিফাও যে খুব অগ্রণী ভূমিকা রাখছে তা নয়। বেশ কয়েক বছর আগে সাবেক সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার অনুযোগ করেছিলেন, নারী ফুটবলাররা কেন আরেকটু আঁটসাঁট পোশাক পরেন না! এ ধরনের বৈষম্যমূলক চিন্তাভাবনাই তো ফুটবলে নারীদের অংশগ্রহণকে কঠিন করে তুলছে।
এ অবস্থা থেকে মুক্তির উপায়ও কিন্তু হাতের নাগালেই—মানসিকতার পরিবর্তন। সূত্র: এএফপি।

No comments:

Post a Comment