বাংলাদেশে
ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলছেন, আঙুলের ছাপ দিয়ে সিম
পুনঃনিবন্ধনের সময়সীমা আর বাড়ানো হবে না। এজন্যে সময় বেঁধে দেওয়া
হয়েছে ৩১শে মে। এই সময় পার হলে অনিবন্ধিত সকল সিম বন্ধ করে দেয়া হবে।
কিন্তু এখনো প্রায় তিন কোটির মতো সিম অনিবন্ধিত রয়ে গেছে। আর মাত্র
দু’দিনে কতটা সম্ভব হবে এত বিশাল সংখ্যক সিম নিবন্ধনের কাজ? ঢাকার
ফার্মগেটে একটি মোবাইল ফোন কোম্পানির কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে গিয়ে দেখা
গেলো অনেক মানুষের ভিড়। আঙুলের ছাপ দিয়ে সিম পুনঃনিবন্ধনের শেষ সুযোগ
হারাতে চান না অনেকে। তবে বেশিরভাগই এসেছেন সিম বন্ধ করে দেয়া হবে এই
ভয়ে। অনেকে আবার বাধ্য হয়ে এলেও সিম নিবন্ধন নিয়ে ঠিক কি হচ্ছে সেনিয়ে
আস্থা রাখতে পারছেন না। এক ব্যবসায়ী বলছেন, “ধরুন আমার ফোনটা চুরি হল।
আমার সিম দিয়ে অপরাধী চক্র একটা কিছু করলো। তখন তো পুলিশ এসে আমাকে ধরবে।”
যে পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন হচ্ছে তাতে আপত্তি জানিয়ে আর একজন বলছেন,“ফর্মে
আপনি যা খুশি তাই লিখতে পারেন। কেউ সেগুলো খুলেও দেখছে না। হাটে মাঠে ঘাটে
যে যেখানে পেরেছে টুল নিয়ে মোবাইল সিম নিবন্ধন করতে বসে পড়েছে।”
দু’একজন
বলছেন, বিকল্প থাকলে আঙুলের ছাপ দিয়ে তিনি সিম নিবন্ধন করাতেন না। কিন্তু
বিকল্প যে নেই তা অনেক আগেই পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ডাক ও
টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট ভাষায়
জানিয়ে দিয়েছেন ৩১শে বায়োমেট্রিক সিম রিভেরিফিকেশনের শেষ দিন। বাড়িয়ে
দেয়া সময় শেষ হলেই বন্ধ করে দেয়া হবে সিম। সময় আর বাড়ছে না। কিন্তু
তিন কোটির মতো সিম পুনঃনিবন্ধন এখনো বাকি রয়ে গেছে সেটিও জানিয়েছেন তিনি।
গ্রামীণ ফোনের কর্পোরেট এ্যফেয়ার্সের প্রধান মাহমুদ হোসেইন বলছেন, মাত্র
দুদিনে এত সিম নিবন্ধন তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি বলছেন, “বাস্তবে এটা
সম্ভব নয়। পুরো মার্কেটের কথা জানি না তবে আমাদের কথা জানি। আমাদের এক
কোটি বিশ লাখ সিম পুনঃনিবন্ধন বাকি আছে। আগামী দুদিনে বিশ লাখের নিবন্ধন
কাজ হয়ত হতে পারে। বাকিটা নিবন্ধনের বাইরে রয়ে যাবে।” সরকারের
আল্টিমেটাম, মোবাইল ফোন কোম্পানির তরফ থেকে বিশেষ পুরস্কার, ফোন করলেই
পুনঃনিবন্ধনের আবেদন, এত কিছুর পরও যারা এখনো সিম নিবন্ধন করেন নি তাদের
সম্পর্কে এখন বিটিআরসির কাছ থেকে সর্বশেষ নির্দেশনার অপেক্ষায় মোবাইল
কোম্পানিগুলো।

No comments:
Post a Comment