![]() |
| সিসিএসের খেলোয়াড়দের এই উল্লাসই বলে দিচ্ছে জয়টা কত কাঙ্ক্ষিত ছিল তাঁদের কাছে। ফতুল্লায় কাল ভিক্টোরিয়াকে হারিয়ে এবারের প্রিমিয়ার লিগে প্রথম জয় পেয়েছে দলটি l প্রথম আলো |
ক্রিকেট
কোচিং স্কুলে (সিসিএস) বোধ হয় নাচেরও শিক্ষা দেওয়া হয়! তা না হলে কাল
ফতুল্লায় সিসিএসের ক্রিকেটাররা এত সুন্দর নাচলেন কী করে! শুরুটা হয়েছিল
মুমিনুল হকের আউট দিয়ে। ভিক্টোরিয়ার ব্যাটসম্যান লং অন ফিল্ডারের মুঠোবন্দী
হতেই বোলার সালেহ আহমেদ শাওন ছুটে গেলেন ফিল্ডার সাঈদ সরকারের কাছে। এরপর
দলবেঁধে এক পাক নেচে নিলেন দলের সবাই। সেই শুরু, এরপর যতবার ভিক্টোরিয়া
উইকেট হারিয়েছে, সিসিএস একটু একটু করে এগিয়েছে জয়ের দিকে, প্রতিবারই নেচে
নিয়েছেন তাঁরা। আনন্দে সিসিএসের নাচারই কথা। প্রথম ছয় ম্যাচেই হেরে পয়েন্ট
তালিকার তলানিতে ছিল যারা, তারাই কাল হারাল ফর্মে থাকা ভিক্টোরিয়াকে, যারা
এই ম্যাচটা জিতলেই উঠে যেত পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে। ফতুল্লায় ঠিক আগের
ম্যাচে শক্তিশালী আবাহনীকে হারিয়ে প্রথম জয় পায় কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমি।
ধারাটা বজায় রইল কালও। ভিক্টোরিয়ার প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ২৬০। কিন্তু ১৭.৪
ওভার খেলা হওয়ার পর ঘণ্টা খানেকের বৃষ্টিবিরতির পর ওভার কমল ১৫টি, কিন্তু
জয়ের লক্ষ্যটা রয়ে গিয়েছিল প্রায় আগের মতোই, ২৫৩। জিততে হলে শেষ ১০৪ বলে
দরকার ১৫৭ রান। ভুল ভাববেন না। ভিক্টোরিয়ানরা ডাকওয়ার্থ ও লুইস সাহেবকে দোষ
দেওয়ার কোনো উপায়-ই রাখেনি। বৃষ্টি শুরুর আগেই ম্যাচটা প্রায় হাতের মুঠোয়
নিয়ে নিয়েছে সিসিএস। খেলা বন্ধ হওয়ার ঠিক আগে ৯৬ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায়
ভিক্টোরিয়া। ম্যাচ শেষ হয়েছে ৩২তম ওভারের প্রথম বলে লং অনে ঝাঁপিয়ে সিসিএস
অধিনায়ক রাজিন সালেহ ডলার মাহমুদের ক্যাচটা নিতেই। এরপরই শেষবারের মতো মাঠে
আরেক প্রস্থ নৃত্য প্রদর্শনী। আর তাতে মধ্যমণি শাওন। ৭ ওভারে ১৫ রান দিয়ে ৪
উইকেট, বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এই বাঁহাতি স্পিনার লিস্ট ‘এ’
ক্যারিয়ারের সেরা বোলিংটা করলেন কালই।
গত মৌসুমে ডিওএইচএসের হয়ে সবগুলো
ম্যাচ হারা শাওন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে প্রথম জয়ের স্বাদও পেলেন কাল। ম্যাচ
শেষে তাই একটু বেশিই আপ্লুত ছিলেন তিনি, ‘ম্যাচ জিততে তো ভালোই লাগে।
কিন্তু আজ একটু বেশিই ভালো লাগছে, কারণ প্রিমিয়ার লিগে আজই প্রথম জিতলাম।
আর তাতে ভালো বোলিং করে অবদানও রাখতে পেরেছি।’ সোহরাওয়ার্দী, মজিদ,
মুমিনুল—ভিক্টোরিয়ার প্রথম তিনটি উইকেটই নিয়েছেন শাওন। ম্যাচসেরাও হয়েছেন
তিনি। তবে তেড়েফুঁড়েই শুরু করেছিল ভিক্টোরিয়া। দুই ওপেনার মজিদ ও
সোহরাওয়ার্দী ৪.৪ ওভারেই ৪৪ রান তুলে ফেলেছিলেন। বিনা উইকেটে ৪৪ থেকে
স্কোরটা ৫ উইকেটে ৭৩ হয়ে যায় দ্বাদশ ওভারে বাঁহাতি স্পিনার নাসুম পরপর দুই
বলে আল আমিন ও চতুরাঙ্গা ডি সিলভাকে ফেরাতেই। সিসিএসের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৭৮
রান সাইফ হাসানের। তৃতীয় উইকেটে সালমানের সঙ্গে ৯৮ রানের জুটি গড়েছেন
সাইফ। সাইফ-সালমানরা অবশ্য নেচেছেন পিনাক-রাজিনের ৮৪ রানের ওপেনিং জুটির
শক্ত ভিতের ওপর। ৪টি করে উইকেট নিয়েছেন ভিক্টোরিয়ার পেসার কামরুল ইসলাম ও
ডি সিলভা। ২০১৪ এশিয়া কাপে ফতুল্লায় ওয়ানডে অভিষেক ডি সিলভার, সেখানেই তিন
ম্যাচ খেলে ১৫ উইকেট হয়ে গেল শ্রীলঙ্কান বাঁহাতি স্পিনারের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
সিসিএস: ৪৯.৪ ওভারে ২৫৯ (সাইফ ৭৮, পিনাক ৪২, রাজিন ৪২, সালমান ৪১; ডি সিলভা ৪/৪৭, কামরুল ৪/৫৪, সোহরাওয়ার্দী ২/৫৪)।
ভিক্টোরিয়া (লক্ষ্য ৩৫ ওভারে ২৫৩): ৩১.১ ওভারে ১৯৯ (নাদিফ ৫০, মজিদ ৩৯, ডলার ২৯, জুবায়ের ২২; শাওন ৪/১৫, নাসুম ২/৩৬, সাঈদ ১/১৭, সালমান ১/১৭, রাজিন ১/২৭, সাইফ ১/৪৮)।
ফল: সিসিএস ৫৩ রানে জয়ী (ডি-এল)।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সালেহ আহমেদ শাওন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
সিসিএস: ৪৯.৪ ওভারে ২৫৯ (সাইফ ৭৮, পিনাক ৪২, রাজিন ৪২, সালমান ৪১; ডি সিলভা ৪/৪৭, কামরুল ৪/৫৪, সোহরাওয়ার্দী ২/৫৪)।
ভিক্টোরিয়া (লক্ষ্য ৩৫ ওভারে ২৫৩): ৩১.১ ওভারে ১৯৯ (নাদিফ ৫০, মজিদ ৩৯, ডলার ২৯, জুবায়ের ২২; শাওন ৪/১৫, নাসুম ২/৩৬, সাঈদ ১/১৭, সালমান ১/১৭, রাজিন ১/২৭, সাইফ ১/৪৮)।
ফল: সিসিএস ৫৩ রানে জয়ী (ডি-এল)।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সালেহ আহমেদ শাওন।

No comments:
Post a Comment