Thursday, May 12, 2016

জড়িত তিন হ্যাকার গ্রুপের দুটি পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়ার

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় তিনটি হ্যাকার গ্রুপের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি হ্যাকার গ্রুপকে শনাক্ত করা গেছে। যার একটি পাকিস্তানের, অপরটি উত্তর কোরিয়ার। তবে তৃতীয় গ্রুপটিকে এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এই তৃতীয় গ্রুপটিকেই ঘটনার মূল হোতা হিসেবে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের গতকাল বুধবারের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে। রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনার ফরেনসিক তদন্তের সঙ্গে যুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ফায়ার আইয়ের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য তুলে ধরেছে ব্লুমবার্গ। তবে ওই দুই কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করা হয়নি প্রতিবেদনে।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে (নিউইয়র্ক ফেড) রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চলে যায় ফিলিপাইনে আর ২ কোটি ডলার যায় শ্রীলঙ্কায়। শ্রীলঙ্কায় যাওয়া ২ কোটি ডলার বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে ফেরত পেয়েছে। তবে ফিলিপাইনে যাওয়া অর্থের পুরোটা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে রিজার্ভের অর্থ চুরির এ ঘটনার বিজ্ঞানসম্মত (ফরেনসিক) তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ইনফোমেটিক্সকে। পরে ওয়ার্ল্ড ইনফোমেটিক্সের পক্ষ থেকে এ তদন্তকাজের সঙ্গে ফায়ার আইকে যুক্ত করা হয়। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ফায়ার আইয়ের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ বলছে, ডিজিটাল আঙুলের ছাপ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনার সঙ্গে যুক্ত পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়ার দুটি হ্যাকার গ্রুপকে শনাক্ত করা হয়েছে। কিন্তু তৃতীয় গ্রুপটিকে এখনো শনাক্ত করা হয়নি। আর এ তৃতীয় গ্রুপটিকেই ঘটনার মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান ফায়ার আই। তৃতীয় গ্রুপটি কোনো অপরাধী চক্র নাকি অন্য কোনো রাষ্ট্রের এজেন্ট ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনা নিয়ে গত মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের বাসেলে বাংলাদেশ ব্যাংক, নিউইয়র্ক ফেড ও আর্থিক লেনদেনের আন্তর্জাতিক বার্তা আদান-প্রদানকারী মাধ্যম সুইফটের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় এক সভা হয়। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির ও নিউইয়র্ক ফেডের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম ডাডলি অংশ নেন। সভা শেষে ওই দিনই নিউইয়র্ক ফেডের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়েছে, ঘটনার পর তিন পক্ষ থেকে যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, তা তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত আদান-প্রদান হয়। রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় বৈঠকে তিন পক্ষই উদ্বেগ প্রকাশ করে। সেই সঙ্গে লেনদেন কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া চুরি হওয়া পুরো অর্থ উদ্ধার করে জড়িত ব্যক্তিদের উপযুক্ত বিচারের আওতায় এনে বিশ্ব অর্থনীতিকে সাইবার আক্রমণ থেকে রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারেও তিন পক্ষ সম্মতি প্রকাশ করেছে বলে নিউইয়র্ক ফেডের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
নিউইয়র্ক শেডের ওই বিবৃতির পর গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও বৈঠক সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে মূলত নিউইয়র্ক ফেডের বিবৃতির বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করা হয়। এদিকে রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ লোকজনের জড়িত ছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) সন্দেহের বিষয়টিও তুলে ধরা হয় ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে। বেলজিয়ামভিত্তিক সুইফটের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) লিওনার্দ শাংকের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ বলছে, রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনার এক বছর আগে থেকে এর প্রাথমিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভুয়া পরিচয় বা আইডি ব্যবহার করে লেনদেন ব্যবস্থায় ভুয়া হিসাব খোলা হয়। এ সময়ের মধ্যে তারা তথ্যপ্রযুক্তির দুর্বলতা খুঁজে বের করে সেটিকে কাজে লাগিয়ে ঘটনা ঘটায়।

No comments:

Post a Comment