আগামী
২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে কর অবকাশ সুবিধা ও রপ্তানিতে নগদ সহায়তা চেয়েছেন
সিরামিক শিল্পমালিকেরা। আমদানি পর্যায়ে বিদ্যমান ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক
বহাল রাখারও দাবি তাঁদের। সচিবালয়ে গতকাল বুধবার টাইলস, টেবিল ওয়্যার ও
স্যানিটারি ওয়্যার শিল্পমালিকদের সংগঠন সিরামিক ওয়্যারস ম্যানুফ্যাকচারার্স
অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে
অনুষ্ঠিত প্রাক্-বাজেট আলোচনা সভায় এসব দাবি জানান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের
(এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অ্যাসোসিয়েশনের
সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ইরফান উদ্দিনসহ সংগঠনের অন্য
সদস্যরা আলোচনায় অংশ নেন। অর্থমন্ত্রী অবশ্য বলেন, ‘দেশীয় শিল্পকে আমরা
অবশ্যই সহযোগিতা দেব। কিন্তু সুযোগসুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আয়ের
বিষয়টিও দেখতে হবে।’ অর্থ না পেলে সরকার দেশের উন্নয়ন করবে কী
দিয়ে—ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে উল্টো এমন প্রশ্ন রাখেন অর্থমন্ত্রী। মুহিত
বলেন, ‘বাংলাদেশের সিরামিকস পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এ
জন্য আমি গর্বিত। এ সরকারের আমলে দেশের সিরামিকস সেক্টরে সত্যিই উন্নতি
হয়েছে।’ দেশীয় শিল্প বিকাশে সরকার ব্যবসায়ীদের পাশে আছে উল্লেখ করে
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আপনারা পানির দামে গ্যাস-সুবিধা পাচ্ছেন। বিশ্বের
কোথাও এমনটি নেই। আপনারা দেশকে দেবেন, দেশও আপনাদের দেবে। তবে একটি
নির্দিষ্ট সময়ের পর আপনারা আর সুরক্ষা পাবেন না।’ অর্থমন্ত্রী জানিয়ে দেন,
আজীবন সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে না এবং তা উচিতও নয়। তিনি অবশ্য আশ্বস্ত
করেন, আগামী বাজেটে এমন কিছু করা হবে না, যাতে সিরামিক খাতের বর্তমান
প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হয়। ব্যবসায়ীরা বলেন, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক
আইন-২০১২-এ সিরামিক টাইলসের ওপর আমদানি ও দেশে উৎপাদিত পণ্যে সমান হারে ৪৫
শতাংশ সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। আমদানি পর্যায়ে সিরামিক পণ্যের
ওপর বিদ্যমান ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রাখার প্রস্তাব করেন এ খাতের
ব্যবসায়ী নেতারা। সিরামিক শিল্পের কাঁচামাল, উপকরণ ও যন্ত্রাংশের ওপর থেকে
আমদানি শুল্ক হ্রাস এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সমুদয় সম্পূরক শুল্ক ও
রেগুলেটরি ডিউটি মওকুফ করারও দাবি জানান তাঁরা। সংগঠনের সভাপতি সিরাজুল
ইসলাম মোল্লা বলেন, একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে
বিদেশি সিরামিক পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে আসছেন। এতে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি
হচ্ছে এবং দেশীয় শিল্প মার খাচ্ছে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment