ভারতে
গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে স্কুলে শিক্ষার্থীদের ফ্রি দুপুরের খাবার দিতে
প্রতিটি রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। দেশটিতে
চলমান খরা পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে করা এক আবেদনের ওপর শুনানি শেষে
আজ শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট এ আদেশ দেন। ভারতের স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের
অংশ হিসেবে ১২ কোটি শিক্ষার্থীকে ফ্রি দুপুরের খাবার দেওয়া হয়। তবে ছুটির
দিনে তা বন্ধ থাকে। কয়েক মাস ধরে মহারাষ্ট্র, গুজরাট, হরিয়ানা, রাজস্থানের
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, তেলেঙ্গানা, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ের বিভিন্ন জেলা
বৃষ্টিহীন। সবচেয়ে খারাপ হাল মহারাষ্ট্রের লাটুর এলাকায়। কেন্দ্রীয়
উদ্যোগে লাটুরে ট্রেনে করে পানি সরবরাহ করতে হচ্ছে। পরপর দুই বছরের
অনাবৃষ্টি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের কৃষি উৎপাদনে থাবা বসিয়েছে। মাটির নিচের
পানির স্তর এতটাই নেমে গেছে যে লাটুর, তেলেঙ্গানার কোনো কোনো অঞ্চলে
গভীর নলকূপ খনন করেও পানি মিলছে না। ভারতের প্রায় এক চতুর্থাংশ মানুষ
(প্রায় ৩৩ কোটি) প্রচণ্ড খরা পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। নেই তেমন কোনো
আয়-রোজগার। এতে হতাশাগ্রস্ত হয়ে কৃষকের মধ্যে আত্মহত্যার সংখ্যা বেড়ে
যাচ্ছে। অনেকে আবার দিনমজুর হিসেবে কাজ করতে শহরমুখী হচ্ছে। এক আবেদনের
পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট আজ বলেন, খরা দুর্গত এলাকার শিশুদের সপ্তাহে
ছয় দিনই ফ্রি খাবার দিতে হবে। সেই খাবার তালিকায় অবশ্যই ডিম অথবা দুধ রাখতে
হবে।বিচারপতি মদন বি. লোকুর তাঁর লিখিত আদেশে বলেন, ‘খরা দুর্গত এলাকার
শিশুদের জন্য দুপুরের খাবারে একটি ডিম বা ২০০ গ্রাম দুধ রাখতে হবে।’
সপ্তাহে ছয় দিন এ খাবার দেওয়ার কথা থাকলে আদালত বলেছেন, ‘স্কুলে
গ্রীষ্মকালীন ছুটিতেও এ কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। যাতে ওই সময়ও শিশুরা
খাবার থেকে বঞ্চিত না হয়।’ আদালতে আবেদনকারী যোগেন্দ্র যাদব সুপ্রিম
কোর্টের এই রায়কে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি অবিলম্বে এ ব্যাপারে
পদক্ষেপ নিতে রাজ্য সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। গরিব বা অসহায় শিশু
যাদের বাড়িতে খাবার জোটে না, বা যারা বাড়িতে মা-বাবাকে কাজে সহায়তা করতে
স্কুলে আসে না, তাদের ক্লাসে ধরে রাখতে ২০০১ সাল থেকে দেশটিতে জাতীয়ভাবে
ফ্রি মিল কার্যক্রম চালু হয়। ২০১৫ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে (জিএইচআই)
ভারতের অবস্থান ছিল ২০তম। বিশ্বব্যাংকের বিবরণ থেকে জানা যায়, এ দেশে
শিশুরা সবচেয়ে বেশি অপুষ্টিতে ভোগে। আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলের শিশুদের
তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ অপুষ্টিতে ভোগে তারা।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment