Saturday, May 21, 2016

ব্যাটিং–দাপটে লারদের হতাশা

ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে চলছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। শেষ পর্যন্ত কে থাকবেন শীর্ষে, অনুমান না করা গেলেও এবার লিগ যে ব্যাটসম্যানদেরই দাপট, বলাই যায়। সাত রাউন্ড শেষে ৪০০ রান পেরিয়েছেন দুই ব্যাটসম্যান। চার শর কাছাকাছি আছেন আরও দুজন। শীর্ষ ১০ ব্যাটসম্যানের নয়জনেরই গড় ৫০-এর ওপর। ব্যাটসম্যানদের দাপট হতাশা বাড়াচ্ছে বোলারদের, বিশেষ করে পেসারদের। এক দিনের ক্রিকেটে গত দেড় বছরে জাতীয় দলের বোলিং আক্রমণ পেসনির্ভর হলেও প্রিমিয়ার লিগে চিত্রটা ভিন্ন। স্পিনারদের ওপর বেশি আস্থা রাখছে অধিকাংশ দল। পেসারদের জন্য উইকেট খুব সহায়ক নয় বলে মাশরাফি বিন মুর্তজা, মাহমুদউল্লাহর মতো ক্ষুরধার মস্তিষ্কের অধিনায়কেরা কখনো কখনো ইনিংসের শুরুতেই আক্রমণে আনছেন স্পিনারদের। ৭ ম্যাচে ১৯ উইকেট নিয়ে সবার ওপরে আছেন চতুরাঙ্গা ডি সিলভা। প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে বড় ব্যবধানেই এগিয়ে আছেন লঙ্কান বাঁহাতি স্পিনার। তাঁর নিচে থাকা পাঁচজন বোলার পেয়েছেন ১৩ উইকেট করে। লিগে শীর্ষ ১০ বোলারের আটজনই স্পিনার। এ পর্যন্ত ম্যাচে ৫ উইকেট পাওয়ার ঘটনা ছয়টি। পাঁচটিই পেয়েছেন স্পিনাররা। ভিক্টোরিয়ার ডি সিলভা পেয়েছেন দুবার, আবাহনীর জুবায়ের হোসেন, গাজী গ্রুপের অধিনায়ক অলক কাপালি ও শেখ জামাল ধানমন্ডির মাহমুদউল্লাহ একবার করে। পেসারদের মধ্যে রূপগঞ্জের আবু হায়দার ৫ উইকেট পেয়েছেন একবার। প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো খেলতে না পারার পেছনে উইকেটকেই দায়ী করছেন বোলাররা। পেসারদের মধ্যে শীর্ষে (১৩ উইকেট) থাকার পরও প্রাইম দোলেশ্বরের আল আমিনের মুখে হাসি নেই, ‘উইকেট খুব একটা বোলিং-সহায়ক নয়। পেসারদের জন্য তেমন কিছু নেই। এমন উইকেটে প্রতিপক্ষকে অলআউট করা খুব কঠিন। দেখছেন না ব্যাটসম্যানরা কীভাবে মারছে!’ পেসারদের মধ্যে দুইয়ে থাকা কামরুল ইসলাম রাব্বীর কণ্ঠেও একই কথা, ‘উইকেটে যদি সুইং-মুভমেন্ট না থাকে পেসারদের জন্য উইকেট বের করা কঠিন।’ ১৩ উইকেট নিয়ে বোলারদের মধ্যে দুইয়ে থাকা আবাহনীর লেগ স্পিনার জুবায়েরও বোলারদের দুর্গতির কথাই বললেন, ‘পেসার বলেন আর স্পিনার, আসলে কেউ উইকেট থেকে খুব একটা সাহায্য পাচ্ছে না। ৯ নম্বর ব্যাটসম্যানও বিপজ্জনক হয়ে যাচ্ছে অনেক সময়। ম্যাচ জিতিয়ে দিচ্ছে।’ মজার ব্যাপার, জুবায়ের নিজেও একবার দলকে জিতিয়েছেন ‘ব্যাটসম্যান’ হিসেবেই।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট স্পোর্টিং হলেও বোলারদের প্রশ্ন মূলত বিকেএসপি ও ফতুল্লার উইকেট নিয়ে। বিকেএসপির উইকেট নিয়ে কামরুল হালকা রসিকতা করলেন, ‘এটা পিচঢালা রাস্তার মতো! দ্রুত বলের ছাল উঠে যায়।’ ফতুল্লার উইকেট অবশ্য কিছুটা স্পিন-সহায়ক। মন্থর ও নিচু উইকেটে স্পিনাররা কখনো কখনো টার্ন পাচ্ছেন। তবে সেটি সব সময় নয় বলেই জানালেন জুবায়ের, ‘সকালের দিকে একটু সহায়তা পাওয়া যায়। রোদের তেজ বাড়লে উইকেট ফ্ল্যাট হয়ে যায়। বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে উইকেট পাওয়া খুব কঠিন।’ পরিসংখ্যানও তা-ই সাক্ষ্য দিচ্ছে। ফতুল্লায় যে তিনবার ৫ উইকেট পেয়েছেন বোলাররা, দুটিই প্রথম ইনিংসে। তবে বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির ব্যবস্থাপক সৈয়দ আবদুল বাতেন বললেন ভিন্ন কথা, ‘ব্যাটিংবান্ধব উইকেট বানানো হয়েছে, এমন কিছু নয়। ভালো উইকেটই তৈরি করছি আমরা। ৩১৪ রান করেও টাই হচ্ছে, আবার ১৮০ রানের নিচেও অলআউট হচ্ছে। তবে আমাদের চেষ্টা থাকছে তিন ভেন্যুতেই স্পোর্টিং উইকেট তৈরি করার।’ প্রিমিয়ার লিগের সেরা ১০ বোলার উইকেট ম্যাচ
চতুরাঙ্গা ডি সিলভা (ভিক্টোরিয়া) ১৯ ৭
জুবায়ের হোসেন (আবাহনী) ১৩ ৭
নাঈম ইসলাম (মোহামেডান) ১৩ ৭
এনামুল হক জুনিয়র (মোহামেডান) ১৩ ৭
আল আমিন (প্রাইম দোলেশ্বর)* ১৩ ৭
কামরুল ইসলাম (ভিক্টোরিয়া)* ১৩ ৭
হাবিবুর রহমান (মোহামেডান) ১২ ৭
অলক কাপালি (গাজী গ্রুপ) ১২ ৭
সালেহ আহমেদ শাওন (সিসিএস) ১২ ৭
আবদুর রাজ্জাক (কলাবাগান কেসি) ১২ ৭
* পেসার

No comments:

Post a Comment