![]() |
| গ্রিসের আইডোমেনিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শরণার্থীরা। ভারী বৃষ্টি নামায় তাঁদের দুর্গতি আরও বেড়েছে l রয়টার্স |
গ্রিস
থেকে জোর করে তুরস্কে ফেরত পাঠানোর বিরুদ্ধে গ্রিসের আদালতে মামলা ঠুকে
জয়ী হয়েছেন এক সিরীয় শরণার্থী। গ্রিসের বিচারকেরা রায় দিয়েছেন,
সিরিয়ার আশ্রয়প্রত্যাশী ওই নাগরিককে তুরস্কে ফেরত পাঠানো হবে না; কারণ
তুরস্কে শরণার্থীদের মৌলিক মানবাধিকার নেই। এই রায় এ ধরনের হাজারো
অভিবাসনপ্রত্যাশীর জন্য সম্ভাবনাময় এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আর এর ফলে
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত শরণার্থীবিষয়ক চুক্তি
বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, এ সিদ্ধান্ত
ইইউ-তুরস্ক শরণার্থী চুক্তিকে অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। গ্রিসে আশ্রয়ের আশায়
যুদ্ধকবলিত সিরিয়ার এক নাগরিক আবেদন করলে দেশটির এক আদালত প্রাথমিকভাবে তা
প্রত্যাখ্যান করেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে গ্রিসের চিওস দ্বীপের বিচারক
প্যানেলে আবেদন করে জয়ী হন ওই সিরীয় নাগরিক। বিচারকেরা রায় দেন,
আশ্রয়প্রত্যাশী সিরিয়ার ওই নাগরিককে তুরস্কে ফেরত পাঠানো হবে না। কারণ
তুরস্ক নিরাপদ না। তাঁরা বলেন, তুরস্কে শরণার্থীদের মৌলিক মানবাধিকার নেই।
এমনকি সিরিয়ায় ফেরত পাঠানোর ঝুঁকিতেও রয়েছেন অনেকে। এদিকে যেদিন
বিচারকদের এ সিদ্ধান্ত এল, ঠিক সেদিনই গ্রিক ও ইইউ কর্তৃপক্ষ লেসবস ও কস
দ্বীপ থেকে নৌকায় করে ২১ জন শরণার্থীকে তুরস্কে ফেরত পাঠিয়েছে। তুরস্ক ও
ইইউয়ের চুক্তি অনুযায়ী গ্রিসে আসা যেসব শরণার্থী আশ্রয়ের জন্য আবেদন
করেছেন বা যাঁদের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, তাঁদের তুরস্কে ফেরত পাঠানো
হবে। চুক্তিটি গত মার্চ মাস থেকে কার্যকর হয় এবং এর আওতায় চার শতাধিক
লোককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অ্যামনেস্টির মুখপাত্র ইয়রজাস কসমোপুলেস বলেন,
তুরস্ক বর্তমানে শরণার্থী সনদের মানদণ্ড অনুযায়ী অভিবাসী ও শরণার্থীদের
সুরক্ষা করছে না। অ্যামনেস্টির এই মুখপাত্র বলেন, তুরস্কে অভিবাসীরা কাজ
করার অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা বা পারিবারিক জীবনে প্রবেশাধিকারের প্রত্যাশা
করতে পারে না। তিনি এ-ও বলেন, ‘যতক্ষণ না এটি নিরাপদ দেশ হয়, কাউকেই
সেখানে ফেরত পাঠানো উচিত হবে না।’

No comments:
Post a Comment