![]() |
| নরেন্দ্র মোদি |
আসামে
তরুণ গগৈয়ের টানা ১৫ বছরের রাজত্বের অবসান ঘটিয়ে বড় জয় ছিনিয়ে
নিয়েছে বিজেপি। গত বৃহস্পতিবার ঘোষিত ফল অনুযায়ী, এ রাজ্যে ৬০টি আসন দখল
করে সরকার গঠন করতে চলেছে দলটি। এই বিশাল জয়ে আনন্দের জোয়ারে ভাসতেই পারে
বিজেপি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সে পথে হাঁটতে নারাজ। আর পাঁচ
দিন পরই কেন্দ্র সরকারে ক্ষমতাসীন বিজেপির শাসনের দুই বছর পূর্ণ হবে।
পরবর্তী নির্বাচনের এখনো তিন বছর বাকি। কিন্তু এরই মধ্যে ২০১৯ সালের
প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন মোদি। মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা ছাড়াও বিজেপি
অর্গানাইজেশন, এমনকি রাজ্যপ্রশাসকদের সঙ্গেও আলোচনা করছেন তিনি। গত
শুক্রবার বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ এবং অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির সঙ্গে দুই
ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠক করেন মোদি। সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর এ বৈঠক
প্রস্তুতি পর্বের সূচনামাত্র। এভাবে সবার সঙ্গে বৈঠক করে আবারও বিজেপিকে
একটি কোন্দলহীন দলে পরিণত করতে চাইছেন তিনি। যে দল আবারও ঝড় তুলবে ২০১৯
সালের নির্বাচনে। তবে শুধু আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছেন না মোদি।
মন্ত্রিসভায়ও হয়তো পরিবর্তন আনবেন তিনি। সেই সঙ্গে নতুন মুখ সামনে এনে
অমিত শাহর জন্য নতুন একটি ক্ষেত্র প্রস্তুত করার চেষ্টা করবেন, যে ক্ষেত্র
থেকে বিজেপির সভাপতি তাঁর নতুন ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মহাসচিবদের পাবেন।
বিজেপির মন্ত্রিসভার একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী বলেছেন, ‘ক্ষমতার দুই বছর পর
প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, কে পারবে আর কে পারবে না। কাজেই
রদবদল আসন্ন। আগামী তিন বছর বিজেপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু
রাজ্যে তো অবশ্যই জয় ছিনিয়ে আনতে হবে।’ সূত্র বলছে, বিজেপির জন্য পরবর্তী
বড় পরীক্ষা ২০১৭ সালের উত্তর প্রদেশ নির্বাচন। এ রাজ্যে ২০১৪ সালের
লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ৭০ আসনে জয় পায়।
২০১৭
সালে আবারও নির্বাচন এখানে। এ নির্বাচনে যেকোনো ধরনের বিপত্তি ২০১৯ সালের
নির্বাচনে বিজেপির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসতে পারে। এ কারণেই মোদির
প্রস্তুতিতে উত্তর প্রদেশ বিশেষ গুরুত্ব পাবে। সূত্রের দাবি, কোনো একক
মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ছাড়াই উত্তর প্রদেশের নির্বাচনে যেতে পারে
বিজেপি। নরেন্দ্র মোদির বিশ্বস্ত ওএম মাথুরের পেশ করা প্রতিবেদন অনুযায়ী,
উত্তর প্রদেশকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করা হতে পারে। প্রতিটি অঞ্চলের
দায়িত্বে থাকবেন একজন করে নেতা। আবার প্রধানমন্ত্রী এমন কোনো পরিকল্পনাও
চান না, যা এই রাজ্যে কংগ্রেসকে প্রকারান্তরে সহায়তা করবে। সাম্প্রতিক ধস
কাটিয়ে উঠতে কংগ্রেস যদি গান্ধী পরিবারের কাউকে এ রাজ্যে প্রার্থী হিসেবে
দাঁড় করিয়ে দেয়, তাহলে বিজেপিও একজন প্রার্থী ঘোষণা করবে। বিজেপি সূত্র
বলেছে, ২০১৯ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতির পুরো বিষয়টাই
নিয়ন্ত্রণ করবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস। বিজেপির আদর্শগত
পরামর্শক আরএসএস। উত্তর প্রদেশ নির্বাচনে জয় অর্জন ছাড়া বিকল্প কিছু
দেখছে না এ সংঘ। তবে কবে নাগাদ মোদির এ প্রস্তুতি পর্ব পূর্ণরূপে শুরু হবে,
তার কোনো নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারছেন না। কয়েকটি সূত্রের দাবি, শুধু ২০১৭
সালের উত্তর প্রদেশ নির্বাচন নয়, ২০১৯ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে আসছে
জুনেই হয়তো বড় কোনো পদক্ষেপ নেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

No comments:
Post a Comment