প্রচলিত
আয়কর-ব্যবস্থাকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড
ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) বলেছে, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে করযোগ্য আয়ের
অনেক উৎস অপ্রকাশিত থেকে যাচ্ছে। আর এ কারণেই সরকারের কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব
আদায় হচ্ছে না। সচিবালয়ে গতকাল সোমবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের
সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রাক্-বাজেট আলোচনায় ঢাকা চেম্বার এ কথা বলেছে। আলোচনায়
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি হোসেন খালেদ লিখিত বক্তব্য দেন। সংগঠনের জ্যেষ্ঠ
সহসভাপতি হুমায়ুন রশিদ, সহসভাপতি আতিক-ই-রাব্বানী, পরিচালক এ কে ডি খায়ের
মোহাম্মদ খান, কামরুল ইসলাম, মামুন আকবর, মোক্তার হোসেন চৌধুরী, ওসমান গনি,
রিয়াদ হোসেন, সেলিম আকতার খান প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। হোসেন খালেদ
বলেন, জমি বা সম্পত্তির বিক্রয়মূল্য এবং সরকার-নির্ধারিত মৌজা মূল্যের
মধ্যে পার্থক্য থাকায় প্রকৃত মূল্যে নিবন্ধন হয় না। ফলে বাড়তি টাকা
অপ্রদর্শিত থেকে যায়, যা পরে ব্যক্তি খাতে অপ্রদর্শিত আয় হিসেবে গণ্য হয়।
অপ্রদর্শিত আয়ের সিংহভাগ বিদেশে পাচার হচ্ছে এবং এ ধরনের আয়ের পথ বন্ধ করতে
ত্রুটিপূর্ণ আয়কর-ব্যবস্থার উন্নয়ন দরকার বলে মনে করেন হোসেন খালেদ। অতি
ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের শিল্প খাতের জন্য বর্তমান হারের চেয়ে
কিছুটা বাড়িয়ে ধরে হলেও ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ বহালের পক্ষে ঢাকা চেম্বার।
রিকন্ডিশন্ড গাড়ির চেয়ে নতুন গাড়ির ক্ষেত্রে সরকার আমদানি শুল্ক বেশি পায়
চার গুণ—এ কথা উল্লেখ করে ঢাকা চেম্বার বলেছে, আগামী অর্থবছরে সরকার নতুন
গাড়ি আমদানিতে উৎসাহ দিতে পারে। আয়কর আইন ও বিধিসংক্রান্ত ১৫টি, আয়করের হার
পরিবর্তন-সংক্রান্ত ১৫টি, আমদানি ও সম্পূরক শুল্ক নীতি আইনবিধি-সংক্রান্ত
৮টি, আমদানি ও সম্পূরক শুল্ক হার পরিবর্তন-সংক্রান্ত ৪৮টি, মূল্য সংযোজন কর
নীতি, আইন ও বিধি-সংক্রান্ত ৩টি এবং মূল্য সংযোজন কর হার
পরিবর্তন-সংক্রান্ত ৩টি প্রস্তাব করেছে ঢাকা চেম্বার। উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব
হচ্ছে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা আড়াই লাখ টাকা থেকে
বাড়িয়ে সাড়ে ৩ লাখ টাকা নির্ধারণ, পুঁজিবাজারে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত
লভ্যাংশ আয়করমুক্ত ঘোষণা, জ্বালানি তেলের মূল্য আরও কমানো ও গ্যাসের মূল্য
না বাড়ানো, রপ্তানির সংজ্ঞাকে সুস্পষ্ট করা, শক্তিশালী ও কার্যকর ব্যাংক
খাত তৈরি করা, বিদেশি অর্থায়নে প্রকল্পের জন্য আলাদা নীতিমালা প্রণয়ন, ঋণের
সুদের হার যৌক্তিকতা, নীতিমালার সমন্বয় বজায় রাখা, ওষুধশিল্পকে সুরক্ষা
দেওয়া, আবাসন খাতে গেইন ট্যাক্স কমানো ইত্যাদি। ঢাকা চেম্বারের পরিচালক ও
আগামী প্রকাশনীর কর্ণধার ওসমান গনি গ্রন্থাগার আন্দোলনকে দেশব্যাপী বেগবান
করা ও বই কেনার জন্য ১০০ কোটি টাকার থোক বরাদ্দের প্রস্তাব করেন।
অর্থমন্ত্রী কিছু বিষয়ে নোট নেন এবং মাঝেমধ্যে কথা বলেন। বিদ্যুৎ খাতের
উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রে আমদানি করা কয়লার পরিবর্তে
দেশীয় কয়লা ব্যবহারের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বলেন,
বিদ্যুতের সঞ্চালন ও বিতরণ-ব্যবস্থা এখনো দুর্বল। অর্থমন্ত্রী বলেন,
‘ফুলবাড়ীতে (দিনাজপুর) খনন করে কয়লা উৎপাদনের জন্য অনেক চেষ্টা করেছি।
কিন্তু এটা খুবই কঠিন। আর কিছু না হোক, এখান থেকে বহু লোক স্থানান্তর করতে
হবে। তার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী কয়লা আমদানির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটাই
ভালো।’ ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৭ সালের ডিসেম্বরের
মধ্যে লিক্যুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল হয়ে যাবে। আপনারা
এখন থেকে এ ব্যাপারে পরিকল্পনা শুরু করতে পারেন।’
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment