Tuesday, May 10, 2016

মহাশূন্যে হাঁটতে চান? by আব্দুল কাইয়ুম

আমাদের কয়জনেরই বা সৌভাগ্য হবে মহাশূন্যে হাঁটার। কিন্তু যাঁরা মহাশূন্যে পরিভ্রমণ করেছেন, তাঁদের কাছ থেকে তো জানতে পারি সেখানে বেড়াতে কেমন লাগে। এ রকমই একজন হলেন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মহাকাশচারী টম জোনস। তিনি এ পর্যন্ত চারবার স্পেস শাটল মিশনে মহাশূন্য পরিভ্রমণ করেছেন। শেষবার তিনি মহাশূন্যে বের হয়ে হেঁটেছেন, কাজ করেছেন। এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের রিসার্চ অ্যান্ড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল ক্যাপাবিলিটির কেন্দ্রীয় পরীক্ষাগার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ডেসটিনি ল্যাবরেটরি স্থাপনের কাজে অংশ নেন। আসুন, শুনি তাঁর কথা।
১. মহাশূন্যযানে যাওয়ার সময় খুব বেশি উত্তেজনাকর কিছু মনে হয় না। বরং ফিরে আসার সময়টা বেশি আকর্ষণীয়। কারণ রকেট উৎক্ষেপণের সময় ফ্লাইট ডেকের জানালাগুলো থাকে ওপরের শূন্য আকাশের দিকে। দেখার মতো বৈচিত্র্যময় কিছু থাকে না।
২. ফিরে আসার সময় ওই একই জানালা দিয়ে চোখের সামনে ভেসে ওঠে আমাদের প্রিয় পৃথিবীর অসাধারণ সুন্দর দৃশ্য। সবকিছু খুব দ্রুত কাছে চলে আসতে থাকে। আর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে বায়ু কণার সঙ্গে রকেট পৃষ্ঠের সংঘর্ষে চারপাশে সৃষ্টি হয় তপ্ত উজ্জ্বল প্লাজমার বেষ্টনী। এই আলোকোজ্জ্বল দৃশ্য ২০ মিনিটেরও বেশি স্থায়ী হয়। একেবারে নিঃশব্দ পরিবেশ। মহাশূন্যে উৎক্ষেপণের সময় এ রকম হয় না। তবে শেষ পাঁচ মিনিট একটু শব্দ হয়। এ সময় শব্দের বাধার মধ্য দিয়ে রকেটের গতি ধীরে ধীরে কমে আসতে থাকে।
৩. মজার ব্যাপার হলো, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন প্রতি ৯২ মিনিটে একবার করে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে। তার মানে দাঁড়ায়, প্রতি ২৪ ঘণ্টায় মহাশূন্যে আমরা ১৬ বার সূর্যোদয় ও ১৬ বার সূর্যাস্ত দেখি! সূর্যোদয়ের সময় প্রথমে দিগন্তে হালকা বেগুনি রেখা দেখা যায়। তারপর ধীরে ধীরে মহাকাশ স্টেশন থেকে দেখা যায় উষার নীলাভ-সবুজ রশ্মি। পৃথিবীর প্রান্ত ঘেঁষে দ্রুত রংধনুর আলো ছড়িয়ে পড়ে, আর প্রায় সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের সাদা আলোর প্রবল বন্যায় ভেসে যায় চারদিক। মাত্র ৩০ সেকেন্ডে এ চমকপ্রদ ঘটনাটি ঘটে যায়। এমনকি ডিজিটাল ক্যামেরায়ও এই দ্রুত পরিবর্তনশীল আলো ও রঙের খেলা ধারণ করা যায় না।
৪. মহাশূন্য থেকে ফিরে আসার পর আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে চার থেকে ছয় সপ্তাহ লাগে। প্রথমে মনে হয় হাত ও পা যেন পাথরের মতো ভারী। প্রথমে তো রকেটের ভেতর থেকে বের হওয়াই অসম্ভব মনে হয়। সব শক্তি দিয়েও আসন থেকে উঠতে পারি না। অন্যদের সাহায্যে বের হতে হয়। শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করে দাঁড়াতে পারি না। অন্তত তিন দিন লাগে সোজা হয়ে দাঁড়াতে। এ সময় গাড়ি চালানোও সম্ভব হয় না।
৫. তবে এরপরও মহাশূন্যে বেরিয়ে পড়ার আকর্ষণ সব সময়ই থাকবে। একদিন হয়তো এই পৃথিবী থেকে অন্য কোনো গ্রহের সন্ধানে মানুষ মহাকাশের অজানা ঠিকানায় রওনা হবে। সেই দুঃসাহসী অভিযানে বেরিয়ে পড়ার জন্য নিশ্চয়ই অনেকে রাজি হবেন।

No comments:

Post a Comment