Sunday, May 22, 2016

জাহাজজট বাড়াল রোয়ানু by মাসুদ মিলাদ,

রোয়ানুর আঘাতে পতেঙ্গা সৈকতের বাঁধের
ওপর উঠে যায় এই টাগবোট l প্রথম আলো
ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ না হওয়ায় বন্দরে অবস্থানরত জাহাজগুলো থেকে পণ্য খালাস ও বোঝাইয়ের জন্য বাড়তি সময় অবস্থান করতে হবে। বন্দরে চলতে থাকা জাহাজজট আরও তীব্র হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে গতকাল শনিবার দুপুরে সাগরে অবস্থানরত দুটি জাহাজ একটির সঙ্গে আরেকটির ধাক্কা লেগে তীরের অদূরে কাছাকাছি আটকা পড়ে। এ দুটি জাহাজ হলো বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের এমভি বাংলার শিখা এবং বিদেশি জাহাজ এমটি গাগাসন জহর। বাংলার শিখার পেছনের অংশ এবং গাগাসন জহরের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া একটি টাগবোট সৈকতে উঠে যায়। দুই স্তর করে রাখা বন্দর চত্বরে চারটি খালি কনটেইনার নিচে পড়ে যায়। এ ছাড়া তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে। বন্দরে এখন জাহাজের জট রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কাজ না হওয়ায় এই জট আরও তীব্র হবে। সে ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের জরুরি পণ্যও হাতে পেতে কয়েক দিন বেশি সময় লাগবে। বন্দর সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকালের মধ্যে বন্দরের মূল জেটি ও বিশেষায়িত জেটিতে অবস্থানরত ১৯টি জাহাজ সাগরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। গত শুক্রবার রাত আটটা থেকে বন্দরের পণ্য ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। বন্দর চত্বরে চার স্তরে রাখা কনটেইনার নামিয়ে দুই স্তরে রাখা হয়। জেটি ছাড়াও বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত জাহাজগুলোতে পণ্য খালাসের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর। নৌযান ধর্মঘট ও লাইটার জাহাজের সংকটে বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে পুরোদমে পণ্য খালাস করা যায়নি। এখন ঘূর্ণিঝড়ের কারণে পণ্য খালাসের কাজ বন্ধ থাকায় এসব জাহাজকে আরও কয়েক দিন বাড়তি অবস্থান করতে হবে। বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য স্থানান্তরে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডেলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি এ কে এম শামসুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, বহির্নোঙরে পণ্য স্থানান্তর করতে হবে এমন জাহাজের সংখ্যা ৭৯টি। সাগর উত্তাল থাকায় পণ্য খালাস কখন শুরু হবে, তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। জাহাজগুলোর আরও বাড়তি সময় অবস্থান করতে হবে। বন্দরের ১৯৯৮ সালের এক সমীক্ষায় বলা হয়, বন্দরে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয় ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে। বন্দরের পুনর্বাসনের জন্য ১৬০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়। সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড় কোমেনের কারণে বন্দরে ১ কোটি ৬১ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে বন্দরের তৈরি করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়।

No comments:

Post a Comment