Sunday, May 22, 2016

বাজেট আগের মতোই হবে

প্রতিবছরই বাজেট খুব জটিল করে দেখানো হয় এবং উপস্থাপন করা বাজেট থেকে সরকারের আয়-ব্যয় পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় না—এই স্বীকারোক্তি দিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আগামী বাজেটটিও আগের মতোই হবে। শুধু নতুন কিছু বড় প্রকল্পের ঘোষণা আসবে এবং বড় প্রকল্পকে গুরুত্ব দিতে থাকবে স্বতন্ত্র বাজেট। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে গত শুক্রবার রাতে বেসরকারি টিভি চ্যানেল এনটিভি এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) আয়োজিত ‘কেমন বাজেট চাই’ অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। যৌথ এই আয়োজন ছিল টানা নবমবারের মতো। প্রায় আড়াই ঘণ্টার অনুষ্ঠান ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নিউইয়র্ক থেকে সরাসরি সম্প্রচার করে এনটিভি। অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, এবি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম এবং তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এবং অর্থমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ ছিলেন সঞ্চালক। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দশমবার বাজেট দিচ্ছি, আমার জন্য তা সৌভাগ্যের। তবে ধারাবাহিকভাবে এটা আমার অষ্টম বাজেট। এতে একধরনের সুবিধা আছে। অনেক অপূর্ণ ইচ্ছা থাকে, যা ধরাছোঁয়ার মধ্যে আসে না, সেটা করার চেষ্টা করি।’ অর্থনীতির ৮০ শতাংশ বেসরকারি খাত থেকে আসে বলে স্বাভাবিক কারণেই বাজেটকে ব্যবসায়ীবান্ধব করা হয় বলে জানান মুহিত। তিনি বলেন, ‘একই সঙ্গে দরিদ্র চাষির কথাও ভাবতে হয় আমাদের। ভাবা যায়, চাষিরা কোথা থেকে কোথায় নিয়ে গেছেন আমাদের! আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাজেট উচ্চাভিলাষী হওয়া প্রয়োজন এবং উচ্চাভিলাষী বাজেট করারই সুফল পাচ্ছি আমরা।’ মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, কয়েক বছরের বাজেট বিশ্লেষণে তিনি দেখেছেন, বাজেট যা-ই করা হয়, তার বাস্তবায়ন হয় না এবং এটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্বল অবকাঠামোকে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রধান প্রতিবন্ধকতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাগত জানানোর মতো সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে—এগুলো এখন হলেই হলো। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, আগামী বাজেটে রাজস্ব ব্যয়ের অংশ ঠিকই বাস্তবায়িত হবে। কারণ, বেশির ভাগ অর্থই খরচ হবে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ।
চ্যালেঞ্জটা হলো উন্নয়ন বাজেটের। আবার বিনিয়োগযোগ্য মূলধনের জোগান অনুযায়ী চাহিদা নেই। সরকারি বিনিয়োগ বাড়লেও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আগামী বাজেটে কী প্রণোদনা থাকছে, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, জ্বালানি নিয়ে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করতে হবে এবং তার সূচনা হতে পারে এই বাজেট থেকেই। এত কম মাথাপিছু জমি এ দেশে এবং এত বেশি জনগোষ্ঠী—তারপরও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এবং সন্তোষজনক প্রবৃদ্ধি—ইতিহাসে এর কোনো তুলনা নেই বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রী সাধারণ মানুষের কথা ভাবেন এবং আগামী বাজেটে সবাই খুশি হবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন। মন্ত্রী বলেন, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) নিয়ে অর্থমন্ত্রী এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না, যাতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়। বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চয়তা, সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়, উইমেন চেম্বারের সভাপতি সেলিমা আহমাদ ব্যবসায়ীদের জন্য কর-শুল্ক ও সুদের হার একক অঙ্কে নামিয়ে আনার দাবি জানান। দেশে ব্যবসা করার খরচ বেড়ে গেছে এবং আগামী বাজেটে সরকারের দিক থেকে এ বিষয়ে কী থাকবে—অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চান মেট্রো চেম্বারের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। নাসিম মঞ্জুরের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটা সত্য। তবে এ নিয়ে এখন কিছু বলতে পারব না। বাজেটের পর এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমরা বসব।’

No comments:

Post a Comment