হাঁটুতে
আইস ব্যাগ লাগানো ডান পা’টা সামনের চেয়ারে তুলে দিয়ে আরেক চেয়ারে এলায়িত
ভঙ্গিতে বসে শাহাদাত হোসেন। একটু দূরে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন আবুল
হাসান। ডাইনিং হলটা প্রায় ফাঁকা। তবে কাউন্টারে বয়-বেয়ারাদের বাসন-কোসন
সাজানো দেখে বোঝা গেল ব্যস্ততা শুরু হলো বলে।
কাল ভরদুপুরে হঠাৎ মিরপুরের একাডেমি ভবনে ঢুঁ মারার বিশেষ একটা উদ্দেশ্য ছিল। প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে আজ আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি সব খেলাতেই যুগ যুগ ধরে এই ম্যাচ ‘ঐতিহাসিক’, ‘মর্যাদার লড়াই’ ইত্যাদি বিশেষণে ভূষিত। তা শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এমন সম্ভাব্য উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের আগের দুপুরটা দুই দলের খেলোয়াড়েরা কেমন কাটাচ্ছেন? দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের ‘মর্যাদার লড়াইয়ে’র আগে নিশ্চয়ই সেখানে বারুদ-গন্ধ। রুমে রুমে স্নায়ুযুদ্ধের শীতল স্রোত। এমনও তো হতে পারে, করিডর দিয়ে যাওয়ার সময় এক দলের কোনো খেলোয়াড়ের গায়ে গুঁতো লেগে গেল প্রতিপক্ষের কারও কনুইয়ের। সেই নিয়ে তুমুল হট্টগোল। অথবা খেলা নিয়েই তর্ক-ঝগড়া, মাঠে দেখে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ। আবাহনী-মোহামেডান দুই দলই এবার তাদের খেলোয়াড়দের রেখেছে বিসিবির একাডেমি ভবনে রুম ভাড়া নিয়ে। এই দুই ক্লাবের খেলোয়াড়দের একই ছাদের নিচে মিলেমিশে থাকাটাও এই প্রথম। অথচ আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগে এটা কল্পনাও করা যেত না। আবাহনী-মোহামেডানের সহাবস্থান তখন ও রকম ঘটনাই ঘটাত নির্ঘাত। ক্লাবের পরিচয়েই যে তখন পরিচিত হতেন খেলোয়াড়েরা! ক্লাবের রক্ত বইত শরীরে।
—আর এখন?
একাডেমি ভবনের ডাইনিং থেকে দোতলায় উঠে একটা রুমের দরজা খুলে ঢুকে শাহাদাত শুয়ে পড়লেন খাটে। তিনি তো নন-ই, ওই রুমে আবাহনীরই কেউ থাকে না। রুমটা মোহামেডানের চার খেলোয়াড়ের। অথচ নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবাহনীতে নাম লেখানো শাহাদাত কিনা নিশ্চিন্তে বিশ্রাম নিচ্ছেন ‘শত্রু’র ডেরায়! দুই দলের খেলোয়াড়দের এখনকার মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের চালচিত্রটা তাহলে বুঝে নিন। এ নিয়ে সপ্তম মৌসুম মোহামেডানে খেলছেন ফয়সাল হোসেন। এক মৌসুম খেলার অভিজ্ঞতা আছে আবাহনীতেও। আবাহনী-মোহামেডান ‘ঐতিহ্যের লড়াই’য়ের দুই রূপই তাঁর দেখা। ঘরোয়া ক্রিকেটের পোড়-খাওয়া এই ক্রিকেটার কাল দুই দলের ‘চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতা’র কথা শুনে শুধরে দিলেন, ‘খেলোয়াড়দের মধ্যে এখন আর ওসব নেই। আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ আমরা শুধু মাঠে নামলেই বুঝি। দর্শকদের চিৎকার, মিডিয়ার আগ্রহ, ক্লাব কর্মকর্তাদের কথাবার্তা—এগুলোই মনে করিয়ে দেয় ম্যাচটা আবাহনী-মোহামেডানের।’ নাজিমউদ্দিনেরও আছে দুই ক্লাবের হয়েই প্রিমিয়ার লিগ খেলার অভিজ্ঞতা। একাডেমিতে আবাহনীর খেলোয়াড়দের সঙ্গে থাকার কথা বলতে গিয়ে জানালেন, ‘অনেক সময় তো মনেই থাকে না কে কোন ক্লাবের। দেখা হলে একসঙ্গে গল্প করছি, আড্ডা দিচ্ছি।’ আবাহনীর পেসার আবুল হাসান তো মনে হলো আবাহনী-মোহামেডান ‘বৈরিতা’র চেয়ে ‘বন্ধুত্ব’ই বেশি উপভোগ করছেন, ‘খেলোয়াড়দের মধ্যে ওসব কিচ্ছু নেই এখন। ওভাবে কেউ ভাবে না। ক্লাবে খেলার আগেও তো আমরা অন্যান্য দলে একসঙ্গে খেলেছি। আড্ডা-গল্প, পুল রুমে পুল খেলা সব একসঙ্গেই হচ্ছে।’ একাডেমি ভবনের বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের হাওয়াই কি তবে লাগল একাডেমি মাঠে! না, না দুই দল একই নেটে অনুশীলন করতে নামেনি কাল। তবে ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা মোহামেডানের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম যেভাবে সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে গেলেন, এই ম্যাচের আগে সেটা বিরল। মোহামেডানের হয়ে কথা বললেন কোচ সোহেল ইসলাম। কিন্তু খেলার আগের দিন অধিনায়কেরা কথা না বললে আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের আবহটাই যে ম্যাড়মেড়ে হয়ে যায়!!
পাঁচ ম্যাচে দুই হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে থাকা আবাহনী অধিনায়ক তামিম ইকবাল তবু কিছুটা দায়িত্ব পালন করলেন। ক্যামেরা-রেকর্ডারের সামনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে বোঝাতে চাইলেন, আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ এখনো খেলোয়াড়দের রক্তে নাচন লাগায়। কিন্তু কীভাবে? ক্লাবের পরিচয়টাই যে এখন আর নেই ক্রিকেটারদের নামের পাশে! এবার আসল কথাটা বললেন তামিম, ‘এই দুই দলের মধ্যে যে খেলাটা হয়, তার একটা ইতিহাস আছে। ওই ইতিহাস মাথায় আছে বলে আমরাও জানি এই ম্যাচের গুরুত্ব।’ হ্যাঁ, আবাহনী-মোহামেডানের ঐতিহ্যবাহী লড়াই এখন শুধু ইতিহাসেরই পাতায়। খেলোয়াড়েরা সেটিকে কৃত্রিম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তুলে আনতে চাইলেও পারছেন কই! ইতিহাসটা যে ভুলে গেছেন আবাহনী-মোহামেডানের কর্মকর্তারাই! স্বার্থের সমঝোতায় জড়িয়ে পড়া ক্রিকেট প্রশাসনও কি সেটাই বলে না?
কাল ভরদুপুরে হঠাৎ মিরপুরের একাডেমি ভবনে ঢুঁ মারার বিশেষ একটা উদ্দেশ্য ছিল। প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে আজ আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি সব খেলাতেই যুগ যুগ ধরে এই ম্যাচ ‘ঐতিহাসিক’, ‘মর্যাদার লড়াই’ ইত্যাদি বিশেষণে ভূষিত। তা শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এমন সম্ভাব্য উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের আগের দুপুরটা দুই দলের খেলোয়াড়েরা কেমন কাটাচ্ছেন? দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের ‘মর্যাদার লড়াইয়ে’র আগে নিশ্চয়ই সেখানে বারুদ-গন্ধ। রুমে রুমে স্নায়ুযুদ্ধের শীতল স্রোত। এমনও তো হতে পারে, করিডর দিয়ে যাওয়ার সময় এক দলের কোনো খেলোয়াড়ের গায়ে গুঁতো লেগে গেল প্রতিপক্ষের কারও কনুইয়ের। সেই নিয়ে তুমুল হট্টগোল। অথবা খেলা নিয়েই তর্ক-ঝগড়া, মাঠে দেখে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ। আবাহনী-মোহামেডান দুই দলই এবার তাদের খেলোয়াড়দের রেখেছে বিসিবির একাডেমি ভবনে রুম ভাড়া নিয়ে। এই দুই ক্লাবের খেলোয়াড়দের একই ছাদের নিচে মিলেমিশে থাকাটাও এই প্রথম। অথচ আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগে এটা কল্পনাও করা যেত না। আবাহনী-মোহামেডানের সহাবস্থান তখন ও রকম ঘটনাই ঘটাত নির্ঘাত। ক্লাবের পরিচয়েই যে তখন পরিচিত হতেন খেলোয়াড়েরা! ক্লাবের রক্ত বইত শরীরে।
—আর এখন?
একাডেমি ভবনের ডাইনিং থেকে দোতলায় উঠে একটা রুমের দরজা খুলে ঢুকে শাহাদাত শুয়ে পড়লেন খাটে। তিনি তো নন-ই, ওই রুমে আবাহনীরই কেউ থাকে না। রুমটা মোহামেডানের চার খেলোয়াড়ের। অথচ নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবাহনীতে নাম লেখানো শাহাদাত কিনা নিশ্চিন্তে বিশ্রাম নিচ্ছেন ‘শত্রু’র ডেরায়! দুই দলের খেলোয়াড়দের এখনকার মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের চালচিত্রটা তাহলে বুঝে নিন। এ নিয়ে সপ্তম মৌসুম মোহামেডানে খেলছেন ফয়সাল হোসেন। এক মৌসুম খেলার অভিজ্ঞতা আছে আবাহনীতেও। আবাহনী-মোহামেডান ‘ঐতিহ্যের লড়াই’য়ের দুই রূপই তাঁর দেখা। ঘরোয়া ক্রিকেটের পোড়-খাওয়া এই ক্রিকেটার কাল দুই দলের ‘চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতা’র কথা শুনে শুধরে দিলেন, ‘খেলোয়াড়দের মধ্যে এখন আর ওসব নেই। আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ আমরা শুধু মাঠে নামলেই বুঝি। দর্শকদের চিৎকার, মিডিয়ার আগ্রহ, ক্লাব কর্মকর্তাদের কথাবার্তা—এগুলোই মনে করিয়ে দেয় ম্যাচটা আবাহনী-মোহামেডানের।’ নাজিমউদ্দিনেরও আছে দুই ক্লাবের হয়েই প্রিমিয়ার লিগ খেলার অভিজ্ঞতা। একাডেমিতে আবাহনীর খেলোয়াড়দের সঙ্গে থাকার কথা বলতে গিয়ে জানালেন, ‘অনেক সময় তো মনেই থাকে না কে কোন ক্লাবের। দেখা হলে একসঙ্গে গল্প করছি, আড্ডা দিচ্ছি।’ আবাহনীর পেসার আবুল হাসান তো মনে হলো আবাহনী-মোহামেডান ‘বৈরিতা’র চেয়ে ‘বন্ধুত্ব’ই বেশি উপভোগ করছেন, ‘খেলোয়াড়দের মধ্যে ওসব কিচ্ছু নেই এখন। ওভাবে কেউ ভাবে না। ক্লাবে খেলার আগেও তো আমরা অন্যান্য দলে একসঙ্গে খেলেছি। আড্ডা-গল্প, পুল রুমে পুল খেলা সব একসঙ্গেই হচ্ছে।’ একাডেমি ভবনের বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের হাওয়াই কি তবে লাগল একাডেমি মাঠে! না, না দুই দল একই নেটে অনুশীলন করতে নামেনি কাল। তবে ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা মোহামেডানের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম যেভাবে সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে গেলেন, এই ম্যাচের আগে সেটা বিরল। মোহামেডানের হয়ে কথা বললেন কোচ সোহেল ইসলাম। কিন্তু খেলার আগের দিন অধিনায়কেরা কথা না বললে আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের আবহটাই যে ম্যাড়মেড়ে হয়ে যায়!!
পাঁচ ম্যাচে দুই হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে থাকা আবাহনী অধিনায়ক তামিম ইকবাল তবু কিছুটা দায়িত্ব পালন করলেন। ক্যামেরা-রেকর্ডারের সামনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে বোঝাতে চাইলেন, আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ এখনো খেলোয়াড়দের রক্তে নাচন লাগায়। কিন্তু কীভাবে? ক্লাবের পরিচয়টাই যে এখন আর নেই ক্রিকেটারদের নামের পাশে! এবার আসল কথাটা বললেন তামিম, ‘এই দুই দলের মধ্যে যে খেলাটা হয়, তার একটা ইতিহাস আছে। ওই ইতিহাস মাথায় আছে বলে আমরাও জানি এই ম্যাচের গুরুত্ব।’ হ্যাঁ, আবাহনী-মোহামেডানের ঐতিহ্যবাহী লড়াই এখন শুধু ইতিহাসেরই পাতায়। খেলোয়াড়েরা সেটিকে কৃত্রিম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তুলে আনতে চাইলেও পারছেন কই! ইতিহাসটা যে ভুলে গেছেন আবাহনী-মোহামেডানের কর্মকর্তারাই! স্বার্থের সমঝোতায় জড়িয়ে পড়া ক্রিকেট প্রশাসনও কি সেটাই বলে না?

No comments:
Post a Comment