Wednesday, May 4, 2016

রওশনের কাছে এরশাদের দ্বিতীয় হার! by সোহরাব হাসান

জাতীয় পার্টিতে এখন তিনজন চেয়ারপারসন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ফুল বা পূর্ণ চেয়ারম্যান। রওশন এরশাদ সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান। গোলাম মোহাম্মদ কাদের কো-চেয়ারম্যান। অথচ কয়েক মাস আগে এরশাদ যখন তাঁর ছোট ভাই গোলাম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান এবং সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলুকে সরিয়ে রুহুল আমিন হাওলাদারকে মহাসচিব করেছিলেন, তখন দলের ভেতরে প্রতিবাদ উঠলেও তিনি আমলে নেননি। নেতা-কর্মীদের সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর কথাই চূড়ান্ত। নতুন কাউকে কো-চেয়ারম্যান করা হবে না। কো-চেয়ারম্যান নিয়োগ প্রশ্নে তখন এরশাদের নেতৃত্বে এক পক্ষ ও রওশন এরশাদের নেতৃত্বে আরেক পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছিল। উভয় পক্ষই আলাদা আলাদা বৈঠক করে প্রতিপক্ষের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেন। এরশাদ সমর্থকেরা দাবি করেন যে সংগঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার চেয়ারম্যানের। তিনি যা বলবেন, সেটাই সবাইকে মানতে হবে। সাংসদ বা সংসদীয় দলের কিছু বলার সুযোগ নেই। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির অধিকাংশ সাংসদ রওশন এরশাদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে জানিয়ে দেন, তাঁকে (রওশান এরশাদ) সিনিয়র কো-চেয়ারপারসন করা না হলে তাঁরা এরশাদের সিদ্ধান্ত মানবেন না এবং জাতীয় কাউন্সিলেও যাবেন না। এ অবস্থায় এরশাদের নেতৃত্ব নতুন করে চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে। এর আগে তিনি একাধিকবার জাতীয় পার্টির মন্ত্রীদের সরকার থেকে পদত্যাগ করার তাগিদ দিলেও কেউ তাঁর কথা আমলে নেননি। বরং তাঁরা এরশাদের মন্ত্রীর পদ মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হয়ে অন্যদের মন্ত্রিত্ব ছাড়তে বলা অনৈতিক বলে জানিয়ে দেন। এই টানাপোড়েন চলার মধ্যেই হঠাৎ করেই এরশাদ ঘোষণা দিলেন, রওশন এরশাদকে দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান করা হলো। রওশনপন্থীরা এটিকে দেখছেন তাঁদের জয় হিসেবে। মে দিবসের সমাবেশে এরশাদ ও রওশন পাশাপাশি বসেন। কাকরাইলে জাতীয় পার্টির প্রধান কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে এরশাদ বলেন, ‘সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদকে স্বাগত জানাচ্ছি। আমার আনন্দ জানানোর ভাষা নেই। দুর্যোগের ঘনঘটা শেষ হয়েছে। তার উপস্থিতিতে আমার হৃদয় আজ আনন্দে ভরপুর। আজকের দিনটি শুধু শ্রমিকদের জন্যই নয়, জাতীয় পার্টির জন্যও আনন্দের দিন।’ আসলেই জাতীয় পার্টিতে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না, সেটি জানতে হয়তো আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। কেননা, এরশাদ কখন কী বলেন, কখন কী করেন, সেটি বোঝা কঠিন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে এরশাদ বলেছিলেন, বিএনপি ছাড়া নির্বাচন অর্থবহ হবে না এবং জাতীয় পার্টিও সেই নির্বাচনে অংশ নেবে না। তিনি দলের নেতাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ারও নির্দেশ দেন। পরে দেখা গেল রওশন এরশাদ নির্বাচনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিলে এরশাদ অগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হন। কিন্তু যারা এরশাদের কথা শুনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন, তাঁরা সংসদে আসতে পারেননি। এরশাদ ঘন ঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন আছে। এ কারণে সামরিক শাসনামলেও তাঁর পদবি সিএমএল-এর অর্থ করা হতো ক্যানসেল মাই লাস্ট অ্যানাউন্সমেন্ট। এখন দেখা যাক, জাতীয় পার্টির কাউন্সিলের আগে তাঁর কাছ থেকে আরও কোনো অ্যানাউন্সমেন্ট আসে কি না। তবে এবারেও যে তিনি রাজনৈতিক কৌশলে রওশনের কাছে হেরে গেলেন, তা বলার অপেক্ষা রাখেন না।

No comments:

Post a Comment