 |
| মার্শা বার্নিকাট |
আজ (৩ মে) আমরা বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস
উদ্যাপন করছি। জাতিসংঘ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এই দিবসটি আমাদের মনে করে দেয়,
গণতন্ত্র বিকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পালন করে। প্রেসিডেন্ট ওবামা যেমনটি বলেছেন, ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস
এমন একটি দিবস, যখন আমরা ওই সব সাংবাদিককে সম্মান প্রদর্শন করি, আমরা যখন
এই মুহূর্তে কথা বলছি, তাঁরা হয়তো কারাভোগ করছেন, লাঞ্ছিত হচ্ছেন এবং বিপদে
রয়েছেন এবং অবশ্যই তাঁদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করি, যাঁরা এ কারণে প্রাণ
হারিয়েছেন।’ বিশ্বব্যাপী আমরা সাংবাদিকদের সম্মান জানাই, যাঁরা অনেক
বিপদের মোকাবিলা করেও সত্য উন্মোচনের এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকারের জন্য
গণতান্ত্রিক আদর্শকে রক্ষা করেন। একটি গণতন্ত্রে সাংবাদিকেরা গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করে থাকেন। তাঁরা আমাদের নেতাদের এবং আমাদের অর্থাৎ জনগণকে
জবাবদিহির আওতায় আনেন। তাঁরা আমাদের ও আমাদের সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে
ধরেন এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে তাঁরা সাহায্য করেন। সাংবাদিকেরা তাঁদের
ভূমিকার জন্য প্রায়ই অন্যদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন, যাঁরা মনে করেন,
সাংবাদিকদের কারণে তাঁরা হুমকির মুখে। আমাদের বিশ্ব, দেশ এবং সমাজ যেসব
প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়, তা নিয়ে প্রতিবেদন করার প্রচেষ্টার কারণে
অনেকেই কারাবরণ করেছেন, হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং এমনকি নিহত হয়েছেন।
গণতন্ত্র কেবল সেখানেই বিকশিত হতে পারে, যেখানে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ
করতে পারে। সাংবাদিকেরা যেমন আমাদের গণতন্ত্র রক্ষা করেন, তেমন আমাদেরও
উচিত তাঁদের রক্ষা করা। বিশ্বের সর্বত্র নাগরিকদের সুবিধার জন্য গণমাধ্যমের
স্বাধীনতাকে একটি মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে আমাদের রক্ষা করতে হবে। নোবেল
পুরস্কার বিজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এমন একটি দেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন,
‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির; জ্ঞান যেথা মুক্ত।’ আমি বিশ্বাস করি,
তিনি এমন একটা বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে সব ধরনের লেখক, চিন্তাবিদ ও
সাংবাদিকেরা তাঁদের বোধে আসা যেকোনো সত্য কোনো প্রকার প্রতিহিংসার ভয়
ছাড়াই সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে পারবেন। আমরা সবাই এই স্বপ্নের প্রতি
সম্মান জানাই।
* মার্শা বার্নিকাট, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত
No comments:
Post a Comment