![]() |
| শিক্ষার্থীরা খেলার নিয়ম তৈরি করে নিয়েছেন নিজেদের মতো করে। ছবি: পলাশ রায়হান |
ব্যাট
হাতে রীতিমতো ফুঁসছেন ‘রোরিং ৪১’ দলের বিধ্বংসী খেলোয়াড় মোহাম্মদ মেহেদী
হাসান। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রানশিকারি হতে প্রয়োজন মাত্র ১১ রান। ইনিংসের
প্রথম বলটা করলেন ক্যাম্পাসের হালিম বিক্রেতা রাকিব। চোখের নিমেষেই বোল্ড!
উপড়ে গেল মিডল স্ট্যাম্প। মাঠের এক পাশে হইহই, চিত্কার! আরেক পাশ একেবারে
স্তব্ধ। গল্পটা ২৪ এপ্রিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য শেষ হওয়া
কেসিএল-এর ফাইনাল ম্যাচের। কেসিএল মানে কামালউদ্দিন হল ক্রিকেট লীগ। এবার
বসেছিল এই টুর্নামেন্টের অষ্টম আসর। গ্রুপ পবের্র প্রথম ম্যাচ মাঠে গড়ায় ৮
এপ্রিল। আর দশটা সাধারণ টুর্নামেন্টের চেয়ে কেসিএলকে আলাদা করে তুলেছে
খেলার নিয়মগুলো। দলপ্রতি ছয়জন করে খেলোয়াড় নিয়ে প্রতি ইনিংসে ৫ ওভার খেলা
হয়। এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। কিন্তু আধুনিক ক্রিকেট মানেই তো রানের খেলা।
মাত্র ৫ ওভারের রান আর কতই-বা হবে! এই ভাবনা থেকে কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়,
প্রতি ওভারে বল হবে মোট আটটা। শুধু তা-ই নয়। রানের হিসাবটাও গোলমেলে।
বাউন্ডারি লাইনের ওপর গড়িয়ে বল পড়লে ৪ রানের বদলে যোগ হয় ৬ রান। আর ওপর
দিয়ে উড়ে গেলে হয় ৮। সঙ্গে নো আর ওয়াইড বলের জরিমানা গুনতে হয় ২ রানের। খুব
বেশি ব্যাটিংবান্ধব এই টুর্নামেন্টে ব্যাটসম্যানদের জন্যও বিপদ আছে। কেউ
৪০ রান করে ফেললে ব্যাটিং ছেড়ে দিতে হয় বাকিদের কাঁধে। দলের ৫ উইকেট পড়ে
যাওয়ার পর আবার নামার সুযোগ মেলে। টুর্নামেন্টের আগের আনুষ্ঠানিকতাও বেশ
মজার। ঘটা করে নিবন্ধন আর নিলামের দিন-ক্ষণ জানিয়ে দেওয়া হয়। খেলোয়াড় আর
দলের নিবন্ধন শেষ হলে নির্দিষ্ট দিনে হয় নিলাম। প্রতি দলের মালিক,
ম্যানেজার আর আইকন প্লেয়ার নিলাম থেকে আটজন খেলোয়াড় কিনতে পারেন। এবার
নিবন্ধন করেছিল মোট ১৩টি দল। এ ছাড়া ‘ওল্ড ইজ গোল্ড’ নামে প্রাক্তন
ছাত্রদের একটা দলও খেলে টুর্নামেন্টে। বটতলাসহ পুরো ক্যাম্পাসের বিভিন্ন
দোকানের কর্মীদের নিয়ে গড়া হয়েছিল ‘বটতলা স্টারস’ দলটি। টুর্নামেন্ট শুরুর
আগে কে ভেবেছিল, এই দলটাই ‘রোরিং ৪১’-এর সঙ্গে ফাইনাল খেলবে! ফাইনালের
গল্পটা শেষ করি এবার। প্রথম বলে রোরিং ৪১ তাদের আইকন খেলোয়াড়কে হারিয়ে
ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল ঠিকই। কিন্তু দল ঠিকই সম্মানজনক স্কোর পায় তানভীর
হাসান খানের ব্যাটিং নৈপুণ্যে। আর দুর্দান্ত বল করে বটতলা স্টারসের কফিনে
শেষ পেরেক ঠুকে অনিক ইসলাম বনে যান ম্যাচসেরা। তবে এবারের টুর্নামেন্টের
চমক ছিল নবাগত ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদুজ্জামান। টুর্নামেন্টে
সর্বোচ্চ ২০০ রান করে নিজ দল দুরন্ত ৪৫-কে সেমিফাইনাল পর্যন্ত টেনে নিয়ে
সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের খেতাবটা নিজের করে নিয়েছে সে।

No comments:
Post a Comment