Tuesday, May 10, 2016

ক্ষণিকের সহযাত্রী, একটুখানি বন্ধুত্ব by তরিকুল ইসলাম

রিকশায় একজন বসে আছেন, আরেকজন উঠছেন।
ছবি–জাহিদুল করিম
রিকশায় যাত্রী বহনে প্রচলিত একটা রীতি রয়েছে। গন্তব্যে পৌঁছা পর্যন্ত ওই রিকশায় একধরনের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয় যাত্রীর। ওতে শুধু যাত্রী আর তাঁর সঙ্গীই যান। অন্য কেউ যাওয়ার সুযোগ পান না। কিন্তু রাজধানীর বাংলামোটর থেকে মগবাজার মোড় পর্যন্ত চলা রিকশায় যাত্রী বহনে ব্যতিক্রম দেখা যায়। এখানে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এক রিকশায় বসা দুই যাত্রীর মধ্যে পরিচয় থাকে না। তবে এই অচেনা দুজনই কয়েক মিনিটের সহযাত্রী হয়ে একটুখানি বন্ধুত্বে জড়ান। মেতে ওঠেন খোশগল্পে। বাস থেকে কেউ নিউ ইস্কাটন রোডের সামনে নামলে এই ভিন্নতা চোখে পড়বে। কয়েক কদম এগোলেই দেখা যাবে রিকশায় একজন যাত্রী বসিয়ে আরেকজনের অপেক্ষায় রয়েছেন রিকশাচালক। উচ্চ স্বরে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন যেতে ইচ্ছুক আরেক যাত্রীকে। এই সড়কে বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে এটি। দুজন মিলে একটি রিকশা ভাড়া করে চলাচল। এই সড়কে নিয়মিত যাতায়াত করেন রবিউল হাসান। তিনি বলেন, আসলে এই সামান্য পথটুকুতে ভাড়া ২০ টাকা। একজনের জন্য তা পোষায় না। তাই লোকজনই একটা নিয়ম করে ফেলেছে। বিজ্ঞাপনী সংস্থার কর্মী ওই যুবক বলেন, ২০ টাকা দুজন ভাগ করে দিলে সেটা গায়ে লাগে না।  রাস্তা তো অল্প, হাঁটলেই তো পারেন? এমন প্রশ্নের জবাবে অন্য একজন যাত্রী বলেন, ফুটপাথের অবস্থা খারাপ থাকায় হাঁটা সম্ভব হয় না। তাই এভাবেই যাওয়া। যাঁরা রিকশায় ওঠেন, তাঁদের পরিচয় হয় ‘ভাই’। এ কারণে নিয়মিত যাতায়াত করা যাত্রীরা এ ধরনের রিকশাগুলোকে ‘ভাই ভাই রিকশা’ বলে উল্লেখ করেন। কয়েক দিন এ ধরনের রিকশায় চলাচল করে দেখা গেল, সঙ্গীদের কেউ কেউ কোনো আলোচনায় আগ্রহ দেখান না। আবার অনেকের মধ্যে ক্ষণিকের বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কেউ কেউ এই কয়েক মিনিটে রাজনৈতিক আলোচনায়ও মেতে ওঠেন। আবার কেউবা মেতে ওঠেন কয়েক মিনিটের জম্পেশ আড্ডায়। ‘এটা আসলেই অন্য রকম একটা ব্যাপার। অর্থও বাঁচে, আবার কথায় কথায় সময়ও কেটে যায়,’ রায়হান আক্তার নামের আরেকজন যাত্রীর এমনটাই মত। এ রুটের নিয়মিত রিকশাচালক জামাল একগাল হেসে বলেন, ‘এটাতে আমারও সুবিধা হয়। যাত্রীর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা করতে হয় না। ভাড়া নির্ধারিত। জনপ্রতি ১০ টাকা।’ জামাল বলেন, এই ব্যবস্থা চালুর আগে ‘এটুকু রাস্তাই কেন এত টাকা নেবেন? এত টাকা কেনইবা চাচ্ছেন, আর কত লাভ করবেন?’ এভাবে যাত্রী ও রিকশাচালকের মধ্যে বিতর্ক চলত। এখন আর সেটা নেই।

No comments:

Post a Comment