![]() |
| বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে কেরানীগঞ্জের পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল (পিআইসিটি) l পিআইসিটি |
ঢাকা-চট্টগ্রাম
মহাসড়কের ওপর চাপ কমিয়ে সবচেয়ে কম খরচে কনটেইনার পণ্য পরিবহনের জন্য আড়াই
বছর আগে বুড়িগঙ্গার তীরে কেরানীগঞ্জে চালু করা হয়েছিল ‘পানগাঁও অভ্যন্তরীণ
কনটেইনার টার্মিনাল’। টার্মিনালে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। আছে
আমদানি-রপ্তানি পণ্য খালাস-বোঝাইয়ের সুযোগসুবিধাও। তবু ব্যবসায়ীদের
অনাগ্রহের কারণে এই টার্মিনালের কনটেইনার ওঠানো-নামানোর সক্ষমতার ৯৯
শতাংশই ব্যবহৃত হচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা এই টার্মিনাল ব্যবহার না করার পেছনে
দুটি প্রধান কারণের কথা বলছেন। যেমন, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চলে
কনটেইনারে পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য সড়ক ও রেলপথের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি খরচ
পড়ছে নৌপথে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-পানগাঁও নৌপথে নিয়মিত কনটেইনার জাহাজ না
চালানোর কারণে নৌপথে সময়ও লাগে বেশি। খরচ ও সময় বেশি হওয়ায় টার্মিনাল
ব্যবহারে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ তাই কম। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও
অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এটি নির্মাণ করে ২০১৩ সালের ৭
নভেম্বর চালু করে।
গত ২৮ এপ্রিল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে পানগাঁও টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, প্রায় ৩২ একর জায়গায় ওপর নির্মিত টার্মিনালটি কার্যত খালি পড়ে আছে। টার্মিনালের চত্বরের মাঝে দুই স্তরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে মাত্র ১১টি পণ্যভর্তি কনটেইনার। এক পাশে রাখা ৪৪টি কনটেইনারের সবগুলোই খালি। জেটিতে রাখা মোবাইল হারবার ক্রেন অলস বসিয়ে রাখা হয়েছে। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত অবস্থান করে টার্মিনালে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর যন্ত্রগুলোর চাকাও ঘুরতে দেখা যায়নি। টার্মিনাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন গন্তব্যে কনটেইনার আনা-নেওয়ার জন্য পাঁচ কিলোমিটার লম্বা সড়কও রয়েছে। তবে সড়কে পণ্যবাহী ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান দেখা যায়নি। পানগাঁও টার্মিনালের আশপাশের ব্যবসায়ীরাও কেন টার্মিনালটি ব্যবহার করছেন না, জানতে চাইলে রপ্তানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, এখনো সড়ক বা রেলপথের চেয়ে পানগাঁও টার্মিনাল ব্যবহার করে কনটেইনার পণ্য আমদানিতে খরচ বেশি পড়ে। আবার পানগাঁও থেকে চট্টগ্রামে প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত জাহাজ চলে না। ফলে রপ্তানি পণ্য এই টার্মিনালে আনার পর এক দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয় চট্টগ্রাম পাঠানোর জন্য। সময় ও খরচ বেশি হওয়ায় টার্মিনালটি ব্যবহার করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় কনটেইনার পণ্য পরিবহনের সময় ও খরচ এ দুটো বিষয় তুলনা করে দেখা যায়, নৌপথে এখন সবচেয়ে বেশি খরচ ও সময় লাগে বেশি। সম্প্রতি বন্দর থেকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় প্রতিটি ২০ ফুট লম্বা কনটেইনার পণ্য পরিবহনে নৌপথে খরচ হয় ৫৭ হাজার ৫৪ টাকা। অথচ সড়কপথে এ ব্যয় ২৯ হাজার ৪৫২ টাকা। রেলপথে খরচ হয় ২৪ হাজার ৮৫১ টাকা। চট্টগ্রাম-পানগাঁও নৌপথে প্রতি ১৫ দিন পর জাহাজ আসা-যাওয়ার সময়সূচি আছে। তবে পানগাঁওমুখী কনটেইনার থাকলে বিশেষ সার্ভিস দেওয়া হয়। সড়কপথে যখন খুশি তখন আনার সুযোগ আছে। রেলপথেও এক-দুদিনে কনটেইনার পণ্য আনা যায়। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০১৩ সালের ৭ নভেম্বর টার্মিনালটি চালু হওয়ার পর গত এপ্রিল পর্যন্ত আমদানি পণ্যভর্তি ও খালি কনটেইনার পরিবহন হয়েছে ৩ হাজার ৩৫১টি (প্রতিটি ২০ ফুট লম্বা হিসেবে)। গত বছর টার্মিনালে ১ হাজার ২৪৭ একক কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়। এতে বছরে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর ক্ষমতা ১ লাখ ১৬ হাজারটি। এ হিসাবে গত বছর সক্ষমতার মাত্র ১ শতাংশ ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে রপ্তানি পণ্যভর্তি একটি কনটেইনারও পরিবহন হয়নি।
টার্মিনালটির সক্ষমতার বড় অংশই অব্যবহৃত থাকায় সড়কপথের ওপর চাপ কমছে না। ফলে যে উদ্দেশ্যে টার্মিনালটি চালু হয়েছে, তা পূরণ হচ্ছে না। বন্দরের হিসাবে, আমদানি হওয়া কনটেইনারভর্তি পণ্যের ৭০ শতাংশ ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চলের। গত বছরের হিসাবে, এর মধ্যে ৫ শতাংশ পরিবহন হয়েছে রেলপথে। নৌপথে এই হার দশমিক ১৭ শতাংশ। ঢাকামুখী আমদানি পণ্যের ৯৫ শতাংশ কনটেইনার খুলে বা কনটেইনারসহ সরাসরি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ব্যবহার করে ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চলে নেওয়া হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা টার্মিনালটি পুরোদমে ব্যবহার করবেন বলে নৌপরিবহনসচিব অশোক মাধব রায় আশাবাদী। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, পানগাঁও টার্মিনালের ব্যবহার বাড়াতে রাজস্ব বোর্ডের কাছে প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। টার্মিনালের মাশুল কমানোর জন্যও অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এই দুটো সুবিধা পাওয়া না গেলেও এখন টার্মিনালটির ব্যবহার বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কারণ, ভারতের সঙ্গে উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তির আওতায় সরাসরি কনটেইনার পণ্য পানগাঁও টার্মিনালে আনার সুযোগ আছে। পানগাঁও টার্মিনাল অব্যবহৃত থাকার সময় বেসরকারি খাতে মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর তীরে চালু হচ্ছে সামিট গ্রুপের একটি নৌ টার্মিনাল। টার্মিনালে রপ্তানি ও খালি পণ্য পরিবহনের অনুমতিও পেয়েছে গ্রুপটি। পানগাঁও কাস্টমস কমিশনার মো. মোস্তফা আলী প্রথম আলোকে বলেন, সামিটের টার্মিনাল চালু হলে পানগাঁও টার্মিনালে কনটেইনার পরিবহন বাড়বে। কারণ, সামিট নিজেদের জাহাজে রপ্তানি পণ্য নিয়ে যাবে চট্টগ্রামে। ফিরতি পথে তারা আমদানি পণ্য নিয়ে আসবে।
গত ২৮ এপ্রিল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে পানগাঁও টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, প্রায় ৩২ একর জায়গায় ওপর নির্মিত টার্মিনালটি কার্যত খালি পড়ে আছে। টার্মিনালের চত্বরের মাঝে দুই স্তরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে মাত্র ১১টি পণ্যভর্তি কনটেইনার। এক পাশে রাখা ৪৪টি কনটেইনারের সবগুলোই খালি। জেটিতে রাখা মোবাইল হারবার ক্রেন অলস বসিয়ে রাখা হয়েছে। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত অবস্থান করে টার্মিনালে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর যন্ত্রগুলোর চাকাও ঘুরতে দেখা যায়নি। টার্মিনাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন গন্তব্যে কনটেইনার আনা-নেওয়ার জন্য পাঁচ কিলোমিটার লম্বা সড়কও রয়েছে। তবে সড়কে পণ্যবাহী ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান দেখা যায়নি। পানগাঁও টার্মিনালের আশপাশের ব্যবসায়ীরাও কেন টার্মিনালটি ব্যবহার করছেন না, জানতে চাইলে রপ্তানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, এখনো সড়ক বা রেলপথের চেয়ে পানগাঁও টার্মিনাল ব্যবহার করে কনটেইনার পণ্য আমদানিতে খরচ বেশি পড়ে। আবার পানগাঁও থেকে চট্টগ্রামে প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত জাহাজ চলে না। ফলে রপ্তানি পণ্য এই টার্মিনালে আনার পর এক দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয় চট্টগ্রাম পাঠানোর জন্য। সময় ও খরচ বেশি হওয়ায় টার্মিনালটি ব্যবহার করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় কনটেইনার পণ্য পরিবহনের সময় ও খরচ এ দুটো বিষয় তুলনা করে দেখা যায়, নৌপথে এখন সবচেয়ে বেশি খরচ ও সময় লাগে বেশি। সম্প্রতি বন্দর থেকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় প্রতিটি ২০ ফুট লম্বা কনটেইনার পণ্য পরিবহনে নৌপথে খরচ হয় ৫৭ হাজার ৫৪ টাকা। অথচ সড়কপথে এ ব্যয় ২৯ হাজার ৪৫২ টাকা। রেলপথে খরচ হয় ২৪ হাজার ৮৫১ টাকা। চট্টগ্রাম-পানগাঁও নৌপথে প্রতি ১৫ দিন পর জাহাজ আসা-যাওয়ার সময়সূচি আছে। তবে পানগাঁওমুখী কনটেইনার থাকলে বিশেষ সার্ভিস দেওয়া হয়। সড়কপথে যখন খুশি তখন আনার সুযোগ আছে। রেলপথেও এক-দুদিনে কনটেইনার পণ্য আনা যায়। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০১৩ সালের ৭ নভেম্বর টার্মিনালটি চালু হওয়ার পর গত এপ্রিল পর্যন্ত আমদানি পণ্যভর্তি ও খালি কনটেইনার পরিবহন হয়েছে ৩ হাজার ৩৫১টি (প্রতিটি ২০ ফুট লম্বা হিসেবে)। গত বছর টার্মিনালে ১ হাজার ২৪৭ একক কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়। এতে বছরে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর ক্ষমতা ১ লাখ ১৬ হাজারটি। এ হিসাবে গত বছর সক্ষমতার মাত্র ১ শতাংশ ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে রপ্তানি পণ্যভর্তি একটি কনটেইনারও পরিবহন হয়নি।
টার্মিনালটির সক্ষমতার বড় অংশই অব্যবহৃত থাকায় সড়কপথের ওপর চাপ কমছে না। ফলে যে উদ্দেশ্যে টার্মিনালটি চালু হয়েছে, তা পূরণ হচ্ছে না। বন্দরের হিসাবে, আমদানি হওয়া কনটেইনারভর্তি পণ্যের ৭০ শতাংশ ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চলের। গত বছরের হিসাবে, এর মধ্যে ৫ শতাংশ পরিবহন হয়েছে রেলপথে। নৌপথে এই হার দশমিক ১৭ শতাংশ। ঢাকামুখী আমদানি পণ্যের ৯৫ শতাংশ কনটেইনার খুলে বা কনটেইনারসহ সরাসরি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ব্যবহার করে ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চলে নেওয়া হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা টার্মিনালটি পুরোদমে ব্যবহার করবেন বলে নৌপরিবহনসচিব অশোক মাধব রায় আশাবাদী। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, পানগাঁও টার্মিনালের ব্যবহার বাড়াতে রাজস্ব বোর্ডের কাছে প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। টার্মিনালের মাশুল কমানোর জন্যও অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এই দুটো সুবিধা পাওয়া না গেলেও এখন টার্মিনালটির ব্যবহার বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কারণ, ভারতের সঙ্গে উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তির আওতায় সরাসরি কনটেইনার পণ্য পানগাঁও টার্মিনালে আনার সুযোগ আছে। পানগাঁও টার্মিনাল অব্যবহৃত থাকার সময় বেসরকারি খাতে মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর তীরে চালু হচ্ছে সামিট গ্রুপের একটি নৌ টার্মিনাল। টার্মিনালে রপ্তানি ও খালি পণ্য পরিবহনের অনুমতিও পেয়েছে গ্রুপটি। পানগাঁও কাস্টমস কমিশনার মো. মোস্তফা আলী প্রথম আলোকে বলেন, সামিটের টার্মিনাল চালু হলে পানগাঁও টার্মিনালে কনটেইনার পরিবহন বাড়বে। কারণ, সামিট নিজেদের জাহাজে রপ্তানি পণ্য নিয়ে যাবে চট্টগ্রামে। ফিরতি পথে তারা আমদানি পণ্য নিয়ে আসবে।

No comments:
Post a Comment