 |
প্রার্থী আনজুমান আরার বাড়ির পাশে বাঁধা রয়েছে লাখ টাকা দামের মহিষ। ছবি: প্রথম আলো |
হাটে গিয়ে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে বড়
একটি মহিষ কিনেছেন সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী। বলেছেন, জিতলে
পরদিনই সেই মহিষ জবাই করে তিন ওয়ার্ডের ভোটারদের খাওয়াবেন। মহিষটির গায়ে
পোস্টার লাগিয়ে প্রার্থী ও তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা এ গ্রাম-ও গ্রাম ঘুরে
বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী
আনজুমান আরার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। তিনি জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার
সোনামুখী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সংরক্ষিত দুই নম্বর ওয়ার্ডের
সদস্যপদে মাইক প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৭ মে সেখানে চতুর্থ ধাপ
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে। ওই ওয়ার্ডে আনজুমান আরা ছাড়া তিনজন প্রার্থী
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন পরীবানু (সূর্যমুখী ফুল), হানু বালা
(বই) ও জোসনা বানু (তালগাছ)। ওই তিন প্রার্থীর ভাষ্য, প্রতিদ্বন্দ্বী
প্রার্থী আনজুমান আরা ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় মহিষ কিনে এনেছেন। তিনি মহিষের
গায়ে তাঁর প্রতীকের পোস্টার লাগিয়ে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন। নির্বাচনে জিতলে
মহিষ জবাই করে ভোটারদের খাওয়াবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এতে তাঁরা বেকায়দায়
পড়েছেন। প্রার্থী পরীবানু বলেন, ভোট চাইতে গিয়ে তাঁরা বিব্রতকর পরিস্থিতির
শিকার হচ্ছেন। কাঁঠালবাড়ি গ্রামের ভোটার আকতার হোসেন বলেন, খাওয়ার লোভ
দেখিয়ে ভোট আদায়ের কৌশল এটি। মোহাম্মদপুর গ্রামের ভোটার কালাম বলেন, মহিষ
দিয়ে নির্বাচন করা হচ্ছে। তিনটি ওয়ার্ডে যত মানুষ তাতে একটি মহিষ দিয়ে
কিছুই হবে না। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে প্রার্থী আনজুমান আরার বাড়িতে
গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর ছেলে ইমদাদুল হক জানান, তাঁর মা নির্বাচনী
গণসংযোগ করতে গেছেন। মা কখন বাড়িতে ফিরবেন, জানেন না। নির্বাচন উপলক্ষে
মায়ের মহিষ কেনার কথা তিনি স্বীকার করেছেন। ইমদাদুল হক বলেন, ‘আমার মা ভোট
চাইতে গেলে বয়স্ক নারী ভোটারেরা তাঁর কাছে মহিষ জবাই করে খাওয়ানোর আবদার
করেন। ভোটারদের আবদার রক্ষার জন্য সোনাইচণ্ডী হাটে গিয়ে ১ লাখ ১০ হাজার
টাকায় বড় একটি মহিষ কিনে এনেছি। আমরা মহিষটি নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে
বেড়িয়েছি। এটি জানার পর আমার মায়ের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মহিষটি আমরা
ভাড়া করে এনেছি বলে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।’ ইমদাদুল হক কেনা মহিষটি
সাংবাদিকদের দেখান। মহিষটি বাড়ির পাশে একটি ডোবার পানিতে বেঁধে রাখা হয়েছে।
সোনামুখী ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাচন
কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম প্রামাণিক বলেন, ভোটারদের মহিষ জবাই করে খাওয়ানোর
প্রলোভন দেখিয়ে ভোট চাওয়া নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী। কেউ অভিযোগ করলে
আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
No comments:
Post a Comment