![]() |
| পুরো ইনিংসজুড়েই এমন আক্রমণাত্মক ছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ৫০ বলে সেঞ্চুরি করার পথে কাল ফতুল্লায় l প্রথম আলো |
ম্যাচের
ফল নিয়ে উত্তেজনা মিইয়ে গেছে আগেই। শেখ জামাল ধানমন্ডির বিপক্ষে কলাবাগান
ক্রীড়াচক্রের জয় পাওয়াটা তখন শুধুই আনুষ্ঠানিকতা। ফতুল্লায় সে সময় অসম্ভবের
পেছনে ছুটছে শেখ জামাল। মাশরাফি বিন মুর্তজার কলাবাগানকে হারাতে শেষ ৩
ওভারে ১ উইকেট হাতে নিয়ে মাহমুদউল্লাহর শেখ জামালকে করতে হবে ৭৫ রান। এমন
সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে একটু মজাই করে নিলেন কলাবাগান অধিনায়ক মাশরাফি।
৪৮তম ওভারে দেখা দিলেন অফ স্পিনার হিসেবে। বল করলেন ক্যাপ পরেই। উইকেটও
প্রায় পেয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু লং অফের ফিল্ডার ওয়াহিদুল আলমের ক্যাচটা তো
নিতেই পারলেন না, উল্টো বানিয়ে দিলেন ছক্কা। মাশরাফি অবশ্য তাতে কিছুই মনে
করেননি। এই একটা উইকেটে আর কী আসে যায়! ম্যাচটা যে আগেই নিজের করে
নিয়েছেন। ৫০ বলে সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের লিস্ট ‘এ’
ম্যাচের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। এরপর শেখ জামালের ইনিংসের চতুর্থ বলেই
মাহবুবুল করিমের উইকেট। ম্যাচে আর কিছু না করলেও চলত মাশরাফির। ফতুল্লায়
ছক্কা-বৃষ্টির ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ৩১৬ রান তোলে কলাবাগান।
এরপর পুরো ৫০ ওভার খেলে ২৯৫ রানে অলআউট শেখ জামাল। ষষ্ঠ ম্যাচে দ্বিতীয়
জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সুপার লিগে ওঠার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল কলাবাগান। সমান
ম্যাচে শেখ জামালের পয়েন্ট ৬।
কাল শুরু থেকেই দারুণ ব্যাট করছিল টস হেরে ব্যাটিং পাওয়া কলাবাগান। মাশরাফি নামার আগেই ৩৫.৩ ওভারে স্কোরবোর্ডে উঠে গেছে ১৬৯ রান। ব্যাট হাতে ঝড় তোলার দারুণ মঞ্চ, শেষ বৈশাখে মাশরাফি কালবৈশাখীর ঝড়ই তুললেন ফতুল্লায়। তাতে ছিন্নভিন্ন হলো শেখ জামালের বোলিং। ৩০ রানে প্রথম উইকেট হারালেও ওভারপ্রতি প্রায় ৫ রান করে তুলছিল কলাবাগান। দারুণ ব্যাট করছিলেন জসিমউদ্দিন ও মাসাকাদজা। ২ চার ও ২ ছয়ে ৪৭ বলে ৪৫ রান করে রানআউট হয়ে আরেকবার সম্ভাবনার অপমৃত্যু মাসাকাদজার ইনিংসের। উইকেটকিপার জসিম অবশ্য পেয়ে যান এবারের লিগে প্রথম ফিফটি (৬৪)। অহেতুক কাট করতে গিয়ে সোহাগ গাজীর বলে জসিম বোল্ড হতেই মঞ্চে এসে মাশরাফির ওই প্রলয়-নাচন। মাশরাফি উইকেটে এলেন ৩৬তম ওভারের চতুর্থ বলে, ফিরলেন ৪৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে। এ সময় দলের ১৩২ রানের ১০৪-ই করেছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।
জবাবে ১ রানেই ওপেনার মাহবুবুল করিমকে হারানোর পর সোহাগ গাজীকে নামিয়ে দেয় শেখ জামাল। দ্বিতীয় উইকেটে আবদুল্লাহ আল মামুনকে নিয়ে ৭১ রানের জুটি গড়ে আস্থার প্রতিদানও দিয়েছেন সোহাগ। ৪ চার ও ৩ ছয়ে ৩৮ বলে ৪০ রান আল মামুনের, ৫৩ বলে ৫ চার ও ১ ছয়ে ৪৭ রান সোহাগের। মাশরাফির মতো ৩৫ বলে ফিফটি করলেও বেশি দূর এগোতে পারেননি মুক্তার আলী (৩৮ বলে ৫১)। এরপর শেষের দিকে মাশরাফিদের পিকনিক মুডের বোলিংয়ে আরেকবার ছক্কা-বৃষ্টি দেখল দু-দুবার আসল বৃষ্টিতে বন্ধ হওয়া ম্যাচ। ইনিংসের শেষ ওভারে টানা তিনটি ছক্কা মেরেছেন শেখ জামালের ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান ওয়াহিদুল আলম। এই বাঁহাতির ২৭ বলের ৪৯ রানের ইনিংসে চার ২টি, ছক্কা ৬টি।
ছক্কা-বৃষ্টির ম্যাচে সব মিলিয়ে ম্যাচে আম্পায়ারকে ২৭ বার দুহাত ওপরে তুলে ছক্কার সংকেত দিতে হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
কলাবাগান ক্রীড়াচক্র: ৫০ ওভারে ৩১৬/৭ (মাশরাফি ১০৪, জসীমউদ্দিন ৬৪, মাসাকাদজা ৪৫, তাসামুল ৩৩; সোহাগ ২/৩৯, মাহমুদউল্লাহ ২/৫৬, নাজমুস ১/১৮, শফিউল ১/৬৩))। শেখ জামাল: ৫০ ওভারে ২৯৫ (জাবিদ ৫২*, মুক্তার ৫১, ওয়াহিদুল ৪৯, সোহাগ ৪৭, আল মামুন ৪০; মাসাকাদজা ৪/৩৭, তানভীর ১/২৫, সাব্বির ১/৩৫, মাশরাফি ১/৪২, রাজ্জাক ১/৫৫, নিহাদ ১/৭৩)।
ফল: কলাবাগান ক্রীড়াচক্র ২১ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মাশরাফি বিন মুর্তজা।
কাল শুরু থেকেই দারুণ ব্যাট করছিল টস হেরে ব্যাটিং পাওয়া কলাবাগান। মাশরাফি নামার আগেই ৩৫.৩ ওভারে স্কোরবোর্ডে উঠে গেছে ১৬৯ রান। ব্যাট হাতে ঝড় তোলার দারুণ মঞ্চ, শেষ বৈশাখে মাশরাফি কালবৈশাখীর ঝড়ই তুললেন ফতুল্লায়। তাতে ছিন্নভিন্ন হলো শেখ জামালের বোলিং। ৩০ রানে প্রথম উইকেট হারালেও ওভারপ্রতি প্রায় ৫ রান করে তুলছিল কলাবাগান। দারুণ ব্যাট করছিলেন জসিমউদ্দিন ও মাসাকাদজা। ২ চার ও ২ ছয়ে ৪৭ বলে ৪৫ রান করে রানআউট হয়ে আরেকবার সম্ভাবনার অপমৃত্যু মাসাকাদজার ইনিংসের। উইকেটকিপার জসিম অবশ্য পেয়ে যান এবারের লিগে প্রথম ফিফটি (৬৪)। অহেতুক কাট করতে গিয়ে সোহাগ গাজীর বলে জসিম বোল্ড হতেই মঞ্চে এসে মাশরাফির ওই প্রলয়-নাচন। মাশরাফি উইকেটে এলেন ৩৬তম ওভারের চতুর্থ বলে, ফিরলেন ৪৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে। এ সময় দলের ১৩২ রানের ১০৪-ই করেছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।
জবাবে ১ রানেই ওপেনার মাহবুবুল করিমকে হারানোর পর সোহাগ গাজীকে নামিয়ে দেয় শেখ জামাল। দ্বিতীয় উইকেটে আবদুল্লাহ আল মামুনকে নিয়ে ৭১ রানের জুটি গড়ে আস্থার প্রতিদানও দিয়েছেন সোহাগ। ৪ চার ও ৩ ছয়ে ৩৮ বলে ৪০ রান আল মামুনের, ৫৩ বলে ৫ চার ও ১ ছয়ে ৪৭ রান সোহাগের। মাশরাফির মতো ৩৫ বলে ফিফটি করলেও বেশি দূর এগোতে পারেননি মুক্তার আলী (৩৮ বলে ৫১)। এরপর শেষের দিকে মাশরাফিদের পিকনিক মুডের বোলিংয়ে আরেকবার ছক্কা-বৃষ্টি দেখল দু-দুবার আসল বৃষ্টিতে বন্ধ হওয়া ম্যাচ। ইনিংসের শেষ ওভারে টানা তিনটি ছক্কা মেরেছেন শেখ জামালের ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান ওয়াহিদুল আলম। এই বাঁহাতির ২৭ বলের ৪৯ রানের ইনিংসে চার ২টি, ছক্কা ৬টি।
ছক্কা-বৃষ্টির ম্যাচে সব মিলিয়ে ম্যাচে আম্পায়ারকে ২৭ বার দুহাত ওপরে তুলে ছক্কার সংকেত দিতে হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
কলাবাগান ক্রীড়াচক্র: ৫০ ওভারে ৩১৬/৭ (মাশরাফি ১০৪, জসীমউদ্দিন ৬৪, মাসাকাদজা ৪৫, তাসামুল ৩৩; সোহাগ ২/৩৯, মাহমুদউল্লাহ ২/৫৬, নাজমুস ১/১৮, শফিউল ১/৬৩))। শেখ জামাল: ৫০ ওভারে ২৯৫ (জাবিদ ৫২*, মুক্তার ৫১, ওয়াহিদুল ৪৯, সোহাগ ৪৭, আল মামুন ৪০; মাসাকাদজা ৪/৩৭, তানভীর ১/২৫, সাব্বির ১/৩৫, মাশরাফি ১/৪২, রাজ্জাক ১/৫৫, নিহাদ ১/৭৩)।
ফল: কলাবাগান ক্রীড়াচক্র ২১ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মাশরাফি বিন মুর্তজা।

No comments:
Post a Comment