Sunday, May 15, 2016

সব ছাপিয়ে ওই নো বল by রানা আব্বাস

শামসুর: ১০১ করেও হ​​েলা না সেঞ্চুরি , অলক: এই বলেই ৫ উইকেট
ম্যাড়মেড়ে ম্যাচের ‘আদর্শ’ উদাহরণই হতে পারত কাল বিকেএসপিতে হওয়া গাজী গ্রুপ-কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমির ম্যাচটি। কিন্তু সব রোমাঞ্চ-বিতর্ক যেন লুকিয়ে ছিল ম্যাচের শেষ বলটিতেই। শামসুর রহমানের রান তখন ৯৫। জয়ের জন্য গাজী গ্রুপের দরকার ৫৮ বলে ১ রান। কলাবাগান একাডেমির পেসার আবদুল হালিমের প্রথম দুটি বলে জয়সূচক রান নিলেন না গাজীর ওপেনার। তৃতীয় বলটি মারলেন ডিপ মিড উইকেটের ওপর দিয়ে উড়িয়ে। ছক্কা মেরে ‘সেঞ্চুরি’! উচ্ছ্বাসের ঢেউ শামসুর রহমানের চোখেমুখে। সতীর্থ ও কোচের অভিনন্দন শেষে ড্রেসিংরুমে ঢুকবেন, তখনই শুনলেন খবরটি। হালিমের বলটা ‘নো’ হওয়ায় শামসুরের শেষ ৬ রান যোগ হয়নি। তাঁর নামের পাশে অপরাজিত ৯৫ রানই থেকে গেছে। ব্যথিত-হতভম্ব গাজী গ্রুপের ওপেনার গজরাতে গজরাতে ছুটলেন আম্পায়ারদের রুমে। তাঁর পেছনে পেছনে অধিনায়ক অলক কাপালি। আম্পায়ার আনিসুর রহমান ও মাসুদুর রহমান তাঁকে বোঝালেন, ম্যাচ যখন ১ রানের সমীকরণে চলে আসে, তখন অতিরিক্ত রান (নো, ওয়াইড) হলে নিয়মানুযায়ী সেটিই হিসাবে ধরা হয়; ব্যাটসম্যানের রান আর যোগ হয় না। ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে জয়ের পরও বিকেলের সোনালি রোদ্দুরে গাজী গ্রুপের খেলোয়াড়দের মুখে আনন্দের পূর্ণ ছটা খুঁজে পাওয়া কঠিনই হলো। শামসুরের সেঞ্চুরিবঞ্চিত হওয়ার ঘটনায় তাঁরা ব্যথিত। শুকনো মুখে কোচ সালাউদ্দিন তাঁকে সান্ত্বনা দিলেন, ‘ব্যাপার না, পরের ম্যাচে করে নিস।’ গাজী গ্রুপ অবশ্য প্রশ্ন তুলল হালিমের বোলিং নিয়ে। শামসুরের সেঞ্চুরি ঠেকাতে তিনি ‘ইচ্ছাকৃত’ নো বল দিয়েছেন বলেই তাদের দাবি। যদিও হালিমের দাবি, মোটেও তিনি ইচ্ছাকৃত নো বল করেননি। আগের দুটি বল দারুণ করেছিলেন। শেষটিও ভালো করার লক্ষ্য ছিল, ‘কেন ইচ্ছে করে করব? আর আমি তো নিয়মটাই জানতাম না।’ যে সেঞ্চুরি নিয়ে এত হট্টগোল, একটা সময় ভাবাই যায়নি তিন অঙ্ক ছুঁতে পারবেন শামসুর! ৯৬ বলে যখন হাফ সেঞ্চুরি করলেন, দলের দরকার ৯৩ বলে ৬২ রান। সমীকরণটা নেমে আসে ৭৫ বলে ৪০ রানে। ১০৫ বলে শামসুর তখন অপরাজিত ৫৭ রানে। যতীন সাক্সেনার করা ৩৭.৪ ওভারে হঠাৎই ব্যাটিংয়ের ধরন পাল্টে ফেললেন শামসুর। খোলস থেকে বেরিয়ে চার-ছক্কায় মাতিয়ে তুললেন বিকেএসপির তপ্ত বিকেল। পরে ১৫ বলেই করলেন ৩৮ রান। ছক্কা মেরে সেঞ্চুরির উদ্যাপন পণ্ড হলো নো বল কাণ্ডে!
ম্যাচ গাজী গ্রুপ জিতবে, অনেকটা নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল কলাবাগান একাডেমির ব্যাটিংয়ের পরই। অলকের ঘূর্ণিতে দিশেহারা কলাবাগান ৪৭.৩ ওভারে ১৮৬ রানে অলআউট। গাজী গ্রুপের অধিনায়ক লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে প্রথমবারের মতো পেয়েছেন ৫ উইকেট। দল জিতেছে, হয়েছেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ। তবু অলকের মুখে পাওয়া গেল না বিকশিত হাসি, ‘৫ উইকেট পেয়েছি ভালো লাগছে। তবে খারাপ লাগছে শুভর (শামসুর) সেঞ্চুরিটা না হওয়ায়। ছন্দ ধরে রাখলে আশা করি সামনে পেয়ে যাবে সে।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর
কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমি: ৪৭.৩ ওভারে ১৮৬ (সাক্সেনা ৪৪, মাহমুদুল ৪১, নুরুজ্জামান ২৫; অলক ৫/৪৪, আনোয়ার ২/২৭, মুস্তাফিজ ২/৩২)। গাজী গ্রুপ: ৪০.২ ওভারে ১৮৭ (শামসুর ৯৫*, মেহেদি ৩৯, এনামুল ২৯; মেহেদী ১/৩১, সাক্সেনা ১/৪২)। ফল: গাজী গ্রুপ ৮ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: অলক কাপালি।

No comments:

Post a Comment