বাজেটে মোবাইল সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক
বাড়ানোর প্রস্তাবের পর গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা কাটা শুরু করেছে
মোবাইল অপারেটরগুলো। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণার পর জাতীয়
রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে নির্দেশনা পেয়ে অতিরিক্ত এ টাকা নেয়া শুরু করে
তারা। সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে ১০০ টাকার টকটাইমের জন্য ১২১
টাকা ৭৫ পয়সা হারে খরচ করতে হচ্ছে গ্রাহককে। বিষয়টি গ্রাহকদের এসএমএস-এর
মাধ্যমে জানিয়েও দিচ্ছে মোবাইল অপারেটররা। শীর্ষ মোবাইল অপারেটর
গ্রামীণফোনের হেড অব এক্সটার্নাল কমিউনিকেশন্স সৈয়দ তালাত কামাল এ ব্যাপারে
নয়া দিগন্তকে বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এরইমধ্যে নতুন ট্যারিফ
কার্যকর করা হয়েছে। নতুন ট্যারিফ কার্যকরের বিষয়টি এসএমএস এর মাধ্যমে
গ্রাহকদের জানিয়ে দিচ্ছে রবি। এসএমএসে তারা বলছে, ‘মোবাইল সেবার উপর আগের
আরোপিত তিন শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করে পাঁচ শতাংশ করা হয়েছে, যা আপনার
ট্যারিফে প্রতিফলিত হয়েছে। রবির সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।’
রবির
কমিউনিকেশন্স ও করপোরেট রেসপনসিবিলিটি বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকরাম কবির
এ ব্যাপারে নয়া দিগন্তকে জানান, নতুন ট্যারিফ কার্যকরের ব্যাপারে তারা
বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই কাজ শুরু করেছেন। অন্যদিকে আজ বাংলালিংকের পক্ষ
থেকে জানানো হয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাম্প্রতিক নির্দেশনা ও সরকারি
আদেশনামা অনুসারে সব মোবাইল ফোন সেবার ওপর বর্তমানের তিন শতাংশের পরিবর্তে
পাঁচ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে ৩ জুন থেকে সব
মোবাইল ফোন সেবার ওপর পরিবর্তিত চার্জ প্রযোজ্য হবে। এর আগে অর্থমন্ত্রী
আবুল মাল আবদুল মুহিত তার বাজেট বক্তব্যে বলেন, ‘গত অর্থবছরের বাজেটে আমরা
মোবাইলের সিম কর ব্যাপক হারে কমিয়েছি। এ কারণে সিম বা রিম কার্ডের মাধ্যমে
প্রদত্ত সেবার ওপর বিদ্যমান তিন শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করে পাঁচ শতাংশ
নির্ধারণের প্রস্তাব করছি।’ মোবাইল অপারেটরা জানায়, অর্থমন্ত্রীর এ ঘোষণার পরপরই এনবিআর এ বিষয়ে এসআরও জারি করেছে।
তবে মোবাইল সেবার উপর কর বাড়ানোর প্রস্তাবকে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার ও এ
খাতে সার্বিক অগ্রযাত্রার অন্তরায় হিসেবে দেখছে মোবাইল অপারেটররা। বিশেষ
করে নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঘোষণা
বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন তারা। একটি অপারেটরের সিনিয়র একজন কর্মকর্তা এ
প্রতিবেদককে জানান, দেশে বর্তমানে সর্বোচ্চ কলরেট প্রতি মিনিট দুই টাকা।
এর সাথে তিন শতাংশ সম্পূরক, ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং এক শতাংশ সারচার্জ দিতে হতো
গ্রাহককে। ওই এক মিনিটের জন্য মোট খরচ হতো দুই টাকা ৩৯ পয়সা। কিন্তু
সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর ফলে এখন তার খরচ বেড়ে হবে দুই টাকা ৪৪ পয়সা।
তবে এতো
তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে
অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আসলে এ দেশে কোনো কিছুর দাম বাড়লে তা যেমন
মুহূর্তেই কার্যকর হয়, কিন্তু দাম কমলে তা কার্যকর করতে সময়সাপেক্ষ ব্যাপার
হয়ে দাঁড়ায় তেমনি মোবাইল সেবায় অতিরিক্ত টাকা কাটার ব্যাপারটির ক্ষেত্রেও
একই অবস্থা। সিদ্ধান্ত কার্যকরে এসআরও জারি হওয়ায় এখানে অপারেটরদের কিছু
করার নেই।’ এ ব্যাপারে গ্রামীণফোনের হেড অব এক্সটার্নাল কমিউনিকেশন্স সৈয়দ
তালাত কামাল বলেন, ‘সিম ব্যবহারের উপর সম্পূরক শুল্ক ৩% থেকে ৫% এ বৃদ্ধির
ফলে আমাদের গ্রাহকদের উপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে। এখন থেকে একজন
গ্রাহককে ১০০ টাকার টকটাইমের জন্য ১২১.৭৫ টাকা ব্যয় করতে হবে। বাংলাদেশের
মোবাইল ফোন শিল্পের করের বোঝা এমনিতেই খুব বেশি, আরো কর বসানো হলে ডিজিটাল
বাংলাদেশ নির্মাণের ঘোষণা বাধাগ্রস্ত হবে। উল্লেখ্য, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে
নিবন্ধন শেষে ৩১মের হিসাবে দেশে ছয়টি অপারেটরের সর্বমোট ১০ কোটি ৮১ লাখেরও
বেশি মোবাইল ফোন বর্তমানে সচল রয়েছে। আর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির
হিসাবে, এপ্রিলের শেষ নাগাদ দেশে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল
পাঁচ কোটি ৮৬ লাখের বেশি। মোবাইলে শুল্ক বাড়ানোর ফলে এখন প্রত্যেককে বাড়তি
টাকা গুনতে হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment