Saturday, June 4, 2016

কালো টাকা সাদা করার বিধান আগামীতেও থাকবে : অর্থমন্ত্রী

বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী কালো টাকা সাদা করার বিধান আছে, এবং আগামীতে তা অব্যাহত থাকবে। কথাটি সাফ তিনি জানিয়ে দিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তিনি বলেন, বর্তমান সরকার যতদিন আছে এ নিয়ম ততদিন বহাল থাকবে। জরিমানা নিয়ে যে কেউ তাদের অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করে নিতে পারবেন। এর কোনো ব্যত্যয় হবে না।
রাজধানী ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আজ শুক্রবার ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেটোত্তর এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী একথা বলেন। সাংবাদিকেরা অর্থমন্ত্রীকে বাজেটে কালো টাকা সাদা করার বিধান অব্যাহত রাখা বিষয়ে প্রশ্ন করেন। জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি একটি ব্যাখ্যা দেব। সমালোচনা করা হচ্ছে, এ বিষয়ে আমি চুপ করে আসি কেন? প্রতিবার বাজেটের পর এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো কারণ নেই। জরিমানা দিয়ে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার স্থায়ী ব্যবস্থা দু’বছর আগেই করে দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অব্যাহত থাকবে। এটা পরিবর্তন করা হবে না।’
সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীকে সহায়তা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তাফা কামাল, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান। এ সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবেরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে বরাবরের মতো এবারও বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব এবং ‘উচ্চাভিলাষী’ হলেও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে দাবি করেন অর্থমন্ত্রী। প্রতিবছর পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হলে বাজেট নিয়ে জনগণের মধ্যে এক ধরনের আস্থাহীনতা সৃষ্টি হতে পারে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি’র এমন মন্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেট অবশ্যই বাস্তবায়ন সম্ভব। বাজেট উচ্চাভিলাষী হওয়ায় সরকারের দায়িত্ব বাড়ছে, বাড়ছে দক্ষতা। বাজেট বাস্তবায়নের হার অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এক, হতে পারে, সব কিছু কমিয়ে ধরা হলো এবং পরে অর্জন হলো তার চেয়েও বেশি। আমি অতীতে এ ধরনের বাজেট দিয়েছি। এটা নতুন করে প্রমাণ করার কিছু নেই।’ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অবশ্যই উচ্চাভিলাষী। গতবারের চেয়ে এবার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। গত বছর রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বেশ নিম্নমানের ছিল। এজন্য বিশেষ নজর দেয়া হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দিকে।
অর্থপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে নেয়া হয়েছে একগুচ্ছ পরিকল্পনা। চলতি মাস থেকেই এ কার্যক্রম শুরু হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সাত বছর ধরে এ মন্ত্রণালয়ে আছি। সাত বছরে রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা বহুগুণে বাড়ানো হয়েছে। কয়েক হাজার লোক নিয়োগ হয়েছে। নতুন নতুন অফিস করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। রাজস্ব আদায়ে এনবিআরে সক্ষমতা বেড়েছে।’ অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার কী সেবা দিল -আমরা তা নিয়ে হৈ চৈ করি। কিন্তু ভালো সেবার জন্য যে পর্যাপ্ত রাজস্ব দরকার -তা নিয়ে মাথা ঘামাই না। আমরা পৃথিবীর সব দেশের থেকে কম রাজস্ব আদায় করি। ভালো সেবা পেতে হলে পর্যাপ্ত রাজস্ব দিতে হবে। আর সে জন্য একটু রাজস্ব বেশি দিলে মন্দ হয় না।’ ‘লক্ষ্য এখন উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক বক্তৃতায় এটা খুব সহজ বলে তুলে ধরা হলেও এতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ আছে। সে লক্ষ্য পূরণে আগামী বাজেটে শুরু হবে নতুন কর্মযজ্ঞ।’ ‘প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাংক্ষিত মাত্রায় বিনিয়োগ হবে কি না’ -এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ বাড়বে বলে আমি আশাবাদী। এ ব্যাপারে বাজেট বক্তৃতায়ও বলেছি।’ ‘গত অর্থবছরে ৮৭টি পণ্যের দাম কমানো হলেও সত্যিই দাম কমেছে কি না’ -এমন প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, ‘গত সাত বছর ধরে পণ্যের দাম বাড়ে না। এ বছর দাম কমছে। প্রধান কারণ দুটি। তেলের দাম বিশ্ববাজারে কম। ফলে সব পণ্যের দাম কম। এর প্রভাব অবশ্যই বাজারে থাকবে।’ ‘করপোরেট কর কমিয়ে উৎসে কর বাড়ানো হয়েছে, এতে ব্যবসায়ীদের লাভ হয়েছে কি না’ -জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা এ বিষয়ে সন্তুষ্ট। সুতরাং উৎসে কর বাড়ানোর পরিকল্পনা যৌক্তিক।’
মোবাইল ফোনে কথা ওপর কর বাড়ানো প্রভাব পরবে না
মোবাইলে কথা বলার ওপর ট্যাক্স বসানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আগে সিমের মাধ্যমে যে ট্যাক্স আসতো এখন তা আসে না। ১৩ কোটি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। এটা আর বাড়বে বলে মনে হয় না। তার মানে এখান থেকে আর বেশি কর আসার সম্ভাবনা নেই।’ তিনি আরো বলেন, ‘মোবাইল সেবার (টক টাইম, এসএমএস, এমএমএস ও ইন্টারনেট) ওপর কর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোয় জনমনে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না। যারা কথা বলেন তাদের এটা গ্রাহ্য করা উচিত নয়। এটি রাজস্ব আয় বাড়ানোর উত্তম উপায়।’ প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় মোটরসাইকেল উৎপাদন শিল্পের ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহর করায় শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অদূর ভবিষ্যতে আমরা মুক্তবাজার অর্থনীতিতে প্রবেশ করবো। এর অংশ হিসেবে আমদানি পণ্যে শুল্ক ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে হবে। এক সময় ৩০০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপিত ছিল। এখন তা কমিয়ে ৪৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এখন দেশীয় শিল্পকে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

No comments:

Post a Comment