গণভোট
শেষে আবেগী বক্তব্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড
ক্যামেরন। ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বৃটেন
ইজ এ স্পেশাল কান্ট্রি। ছয় বছর দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন
করে গর্বিত ও সম্মানিত। বৃটেন একটি গ্রেট নেশন। আমি এই দেশকে ভালোবাসি।
ক্যামেরনের দেয়া বক্তব্যের অনুবাদ হুবহু তুলে ধরা হলো: শুভ সকাল। আমাদের
দেশ বড় ধরনের একটি গণতান্ত্রিক চর্চায় অংশ নিয়েছে, সম্ভবত আমাদের ইতিহাসের
সবথেকে বড়। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও
জিব্রাল্টারের তিন কোটি তিরিশ লক্ষাধিক মানুষ তাদের রায় জানিয়েছেন। আমাদের
গর্ববোধ করা উচিত যে, এই দ্বিপগুলোতে আমরা এসব বড় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে
জনগণের প্রতি আস্থা রাখি।
আমাদের শুধু সংসদীয় গণতন্ত্র আছে তাই নয়, আমাদের শাসন ব্যবস্থা কেমন হবে সে প্রশ্নেও মাঝে মাঝে জনগণকে জিজ্ঞাসা করা উচিত। আর আমরা সেটাই করেছি। বৃটিশ জনগণ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে। তাদের ইচ্ছাকে অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে।
যারা আমার পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাতে চাই। ধন্যবাদ জানাতে চাই তাদেরকে যারা দলীয় মতপার্থক্য সরিয়ে রেখে জাতীয় স্বার্থের জন্য যা উত্তম বলে বিশ্বাস করেছেন তার পক্ষে কথা বলেছেন। আমি লিভ ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানাতে চাই তাদের উদ্যমী ও আবেগি দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার জন্য ।
বৃটিশ জনগণের ইচ্ছা হলো এমন একটি নির্দেশনা যেটা বাস্তবায়ন করতে হবে। এটা এমন কোনো সিদ্ধান্ত নয় যা হালকা ভাবে নেয়া হয়েছে; শুধু এ কারণে নয় যে এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব নিয়ে অনেক সংগঠন অনেক কিছু বলেছে। কাজেই, এই ফল নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।
বৃটেন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বজুড়ে মানুষ তা দেখছে। আমি ওইসব বাজার ও বিনিয়োগকারীদের প্রতি আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করতে চাই যে বৃটেনের অর্থনীতি মৌলিকভাবে শক্তিশালী। একইসঙ্গে আমি ইউরোপীয় দেশগুলোতে বসবাসরত বৃটিশ এবং এখানে বসবাসরত ইউরোপীয় নাগরিকদের পুনরায় আশ্বস্ত করতে চাই যে, তাদের পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তন আসবে না। সফর করা, পণ্য পরিবহন বা আমাদের সেবা বিক্রির বিষয়গুলোতে প্রাথমিকভাবে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটা সমঝোতার জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। এতে, যুক্তরাজ্যের সকল অংশের স্বার্থ সুরক্ষা এবং এগিয়ে নিয়ে যাওয়া নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হবে স্কটিশ, ওয়েলশ ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড সরকারের পূর্ণ সম্পৃক্ততা। তবে সর্বপোরি প্রয়োজন হবে শক্তিশালী, দৃঢ় ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি নেতৃত্ব।
৬ বছর ধরে এ দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত ও সম্মানিত। আমি বিশ্বাস করি, আমরা বেশকিছু বড় পদক্ষেপ নিয়েছি। আমাদের ইতিহাসে সবথেকে বেশি সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ওয়েলফেয়ার ও শিক্ষায় সংস্কার হয়েছে। মানুষের জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। আরও বড়, আরও শক্তিশালী একটি সমাজ গড়ে উঠছে। বিশ্বের দরিদ্রতম মানুষদের প্রতি আমরা প্রতিশ্রুতি রাখছি। আর, নিজেদের যৌনতা নির্বিশেষে মানুষ যাকে ভালোবাসে তাকে বিয়ে করার সুযোগ পেয়েছে। সর্বপোরি বৃটেনের অর্থনৈতিক শক্তি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যারা এগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করেছেন তাদের প্রত্যেকের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
আমি সমসময় বিশ্বাস করে এসেছি আমাদের উচিত বড় সিদ্ধান্তগুলোর মুখোমুখি হওয়া, সেগুলো এড়িয়ে যাওয়া নয়। এ কারণেই আমরা ৭০ বছরের ইতিহাসে প্রথম জোট সরকার দিতে পেরেছি। খাদের কিনারা থেকে অর্থনীতিতে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। একই কারণে স্কটল্যান্ডে আমরা সুষ্ঠু, আইনি ও সুনির্দিষ্ট একটি গণভোট দিতে পেরেছি। আর এ কারণেই আমি ইউরোপীয় ইউনিয়নে বৃটেনের অবস্থান নিয়ে নতুন করে সমঝোতা করা এবং আমাদের সদস্যপদ নিয়ে গণভোট আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আর এগুলো আমরা করেছি।
আমি যেভাবে জানি ঠিক সেভাবেই এই প্রচারণায় লড়েছি- সেটা হলো আমি যা মনে, প্রাণে, অন্তকরণে ভাবি ও বিশ্বাস করি সেটাই সরাসরি ও আবেগ নিয়ে বলেছি। কোনো কিছু মনের ভেতরে রাখিনি। বৃটেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ হিসেবে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী, নিরাপদ এবং উত্তম- আমার এই বিশ্বাস নিয়ে আমি সম্পূর্ণ স্পষ্ট ছিলাম। আর আমি এটাও স্পষ্ট করেছি যে, গণভোট শুধুই এটা নিয়েই ছিল; আমি সহ নির্দিষ্ট কোনো রাজনীতিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে নয়। কিন্তু, বৃটিশ জনগণ ভিন্ন একটি পথ বেছে নেয়ার স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। আর এ কারণে আমি মনে করি ওই গন্তব্যে দেশকে নিয়ে যেতে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন।
সামনের সপ্তাহ ও মাসগুলোতে দেশের হাল শক্ত করে ধরে রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি যা কিছু সম্ভব করবো। কিন্তু আমি মনে করি, পরবর্তী গন্তব্যে দেশকে নিয়ে যেতে আমার নেতৃত্ব দেয়া সঠিক হবে না। আমি হালকাভাবে এ সিদ্ধান্ত নিই নি। তবে আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় স্বার্থেই স্থিতিশীলতা আনতে হবে। আর এরপরই প্রয়োজন হবে নতুন নেতৃত্বের।
আজকেই সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমার মতে অক্টোবর মাসে কনজারভেটিভ পার্টির কনফারেন্সে নতুন একজন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের লক্ষ্য আমাদের রাখা উচিত। গুরুত্বপূর্ণ হলো স্থিতিশীলতা আনয়ন। আর আমি প্রধানমন্ত্রী পদে আগামী তিন মাস আমার মন্ত্রিপরিষদ নিয়ে কাজ করে যাবে। সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে বসবে। ব্যাংক আর রাজস্ব বিভাগ অর্থনৈতিক বাজারকে আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করতে কি কি পদক্ষেপ নিচ্ছে তা নিয়ে বিবৃতি রাখবেন ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর।
পার্লামেন্টে আমরা গুরুত্বপূর্ণ যে আইন উপস্থাপন করেছি তা সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া অব্যাহত রাখবো। আমি আজ সকালে মহামান্য রাণীর সঙ্গে কথা বলেছি। আমি যে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি তা তাকে অবহিত করেছি। নতুন একজন প্রধানমন্ত্রীর অধীনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সমঝোতা শুরু হওয়া প্রয়োজন। আমি মনে করি, কখন আর্টিকেল ৫০ প্রয়োগ করা হবে এবং ইইউ ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে সে সিদ্ধান্ত নতুন প্রধানমন্ত্রীর নেয়াটাই ঠিক হবে।
আমি, আগামী সপ্তাহে ইউরোপীয় কাউন্সিলে যোগ দিয়ে বৃটিশ জনগণের সিদ্ধান্ত ও আমার নিজের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করবো। বৃটিশ জনগণ একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে শুধু সম্মান জানানো উচিত তাই নয়, বরং এ প্রশ্নের পরাজিত শিবিরে আমিসহ যারা ছিল- প্রত্যেকের উচিত জনগণের এই সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়ন করতে সহায়তা করা।
বৃটেন ইজ এ স্পেশাল কান্ট্রি। আমাদের অসাধারণ অনেক সুবিধা রয়েছে। সংসদীয় একটি গণতন্ত্র আছে যেখানে আমরা শান্তিপূর্ণ বিতর্কের মাধ্যমে আমাদের ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ নানা ইস্যু সমাধা করে থাকি। আমাদের রয়েছে দারুণ একটি বাণিজ্যিক রাষ্ট্র। সেই সঙ্গে আমাদের বিজ্ঞান, কলা, প্রকৌশল আর আমাদের সৃষ্টিশীলতা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। আমরা হয়তো নিখুঁত নই, তবে আমি বিশ্বাস করি আমরা বহুজাতিক, বহু ধর্মের একটি গণতন্ত্রের মডেল হতে পারি আমরা; যেখানে মানুষ এসে অবদান রাখতে পারে এবং নিজেদের মেধা অনুযায়ী সর্বোচ্চ শিখরে উঠতে পারে।
ইউরোপ ছাড়ার পথ আমি সুপারিশ না করলেও, আমিই প্রথমে আমাদের অসাধারণ শক্তির প্রশংসা করছি। আমি আগেও বলেছি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরেও বৃটেন চলতে পারবে। আর অবশ্যই আমরা একটি পথ খুঁজে নিতে পারবো। এখন, ইউরোপ ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে গেছে। আমাদেরকে সর্বোত্তম পথটা খুঁজে বের করতে হবে। সহায়তা করার জন্য আমি যা কিছু সম্ভব সবটাই করবো। আমি এই দেশকে ভালোবাসি। আর আমি এ দেশের সেবা করতে পেরে সম্মানিত। ভবিষ্যতে আমাদের এই ‘গ্রেট নেশন’- এর সফলতায় যতটুকু আমি সহায়তা করতে পারি, তা করবো। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আমাদের শুধু সংসদীয় গণতন্ত্র আছে তাই নয়, আমাদের শাসন ব্যবস্থা কেমন হবে সে প্রশ্নেও মাঝে মাঝে জনগণকে জিজ্ঞাসা করা উচিত। আর আমরা সেটাই করেছি। বৃটিশ জনগণ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে। তাদের ইচ্ছাকে অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে।
যারা আমার পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাতে চাই। ধন্যবাদ জানাতে চাই তাদেরকে যারা দলীয় মতপার্থক্য সরিয়ে রেখে জাতীয় স্বার্থের জন্য যা উত্তম বলে বিশ্বাস করেছেন তার পক্ষে কথা বলেছেন। আমি লিভ ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানাতে চাই তাদের উদ্যমী ও আবেগি দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার জন্য ।
বৃটিশ জনগণের ইচ্ছা হলো এমন একটি নির্দেশনা যেটা বাস্তবায়ন করতে হবে। এটা এমন কোনো সিদ্ধান্ত নয় যা হালকা ভাবে নেয়া হয়েছে; শুধু এ কারণে নয় যে এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব নিয়ে অনেক সংগঠন অনেক কিছু বলেছে। কাজেই, এই ফল নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।
বৃটেন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বজুড়ে মানুষ তা দেখছে। আমি ওইসব বাজার ও বিনিয়োগকারীদের প্রতি আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করতে চাই যে বৃটেনের অর্থনীতি মৌলিকভাবে শক্তিশালী। একইসঙ্গে আমি ইউরোপীয় দেশগুলোতে বসবাসরত বৃটিশ এবং এখানে বসবাসরত ইউরোপীয় নাগরিকদের পুনরায় আশ্বস্ত করতে চাই যে, তাদের পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তন আসবে না। সফর করা, পণ্য পরিবহন বা আমাদের সেবা বিক্রির বিষয়গুলোতে প্রাথমিকভাবে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটা সমঝোতার জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। এতে, যুক্তরাজ্যের সকল অংশের স্বার্থ সুরক্ষা এবং এগিয়ে নিয়ে যাওয়া নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হবে স্কটিশ, ওয়েলশ ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড সরকারের পূর্ণ সম্পৃক্ততা। তবে সর্বপোরি প্রয়োজন হবে শক্তিশালী, দৃঢ় ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি নেতৃত্ব।
৬ বছর ধরে এ দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত ও সম্মানিত। আমি বিশ্বাস করি, আমরা বেশকিছু বড় পদক্ষেপ নিয়েছি। আমাদের ইতিহাসে সবথেকে বেশি সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ওয়েলফেয়ার ও শিক্ষায় সংস্কার হয়েছে। মানুষের জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। আরও বড়, আরও শক্তিশালী একটি সমাজ গড়ে উঠছে। বিশ্বের দরিদ্রতম মানুষদের প্রতি আমরা প্রতিশ্রুতি রাখছি। আর, নিজেদের যৌনতা নির্বিশেষে মানুষ যাকে ভালোবাসে তাকে বিয়ে করার সুযোগ পেয়েছে। সর্বপোরি বৃটেনের অর্থনৈতিক শক্তি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যারা এগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করেছেন তাদের প্রত্যেকের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
আমি সমসময় বিশ্বাস করে এসেছি আমাদের উচিত বড় সিদ্ধান্তগুলোর মুখোমুখি হওয়া, সেগুলো এড়িয়ে যাওয়া নয়। এ কারণেই আমরা ৭০ বছরের ইতিহাসে প্রথম জোট সরকার দিতে পেরেছি। খাদের কিনারা থেকে অর্থনীতিতে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। একই কারণে স্কটল্যান্ডে আমরা সুষ্ঠু, আইনি ও সুনির্দিষ্ট একটি গণভোট দিতে পেরেছি। আর এ কারণেই আমি ইউরোপীয় ইউনিয়নে বৃটেনের অবস্থান নিয়ে নতুন করে সমঝোতা করা এবং আমাদের সদস্যপদ নিয়ে গণভোট আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আর এগুলো আমরা করেছি।
আমি যেভাবে জানি ঠিক সেভাবেই এই প্রচারণায় লড়েছি- সেটা হলো আমি যা মনে, প্রাণে, অন্তকরণে ভাবি ও বিশ্বাস করি সেটাই সরাসরি ও আবেগ নিয়ে বলেছি। কোনো কিছু মনের ভেতরে রাখিনি। বৃটেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ হিসেবে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী, নিরাপদ এবং উত্তম- আমার এই বিশ্বাস নিয়ে আমি সম্পূর্ণ স্পষ্ট ছিলাম। আর আমি এটাও স্পষ্ট করেছি যে, গণভোট শুধুই এটা নিয়েই ছিল; আমি সহ নির্দিষ্ট কোনো রাজনীতিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে নয়। কিন্তু, বৃটিশ জনগণ ভিন্ন একটি পথ বেছে নেয়ার স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। আর এ কারণে আমি মনে করি ওই গন্তব্যে দেশকে নিয়ে যেতে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন।
সামনের সপ্তাহ ও মাসগুলোতে দেশের হাল শক্ত করে ধরে রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি যা কিছু সম্ভব করবো। কিন্তু আমি মনে করি, পরবর্তী গন্তব্যে দেশকে নিয়ে যেতে আমার নেতৃত্ব দেয়া সঠিক হবে না। আমি হালকাভাবে এ সিদ্ধান্ত নিই নি। তবে আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় স্বার্থেই স্থিতিশীলতা আনতে হবে। আর এরপরই প্রয়োজন হবে নতুন নেতৃত্বের।
আজকেই সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমার মতে অক্টোবর মাসে কনজারভেটিভ পার্টির কনফারেন্সে নতুন একজন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের লক্ষ্য আমাদের রাখা উচিত। গুরুত্বপূর্ণ হলো স্থিতিশীলতা আনয়ন। আর আমি প্রধানমন্ত্রী পদে আগামী তিন মাস আমার মন্ত্রিপরিষদ নিয়ে কাজ করে যাবে। সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে বসবে। ব্যাংক আর রাজস্ব বিভাগ অর্থনৈতিক বাজারকে আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করতে কি কি পদক্ষেপ নিচ্ছে তা নিয়ে বিবৃতি রাখবেন ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর।
পার্লামেন্টে আমরা গুরুত্বপূর্ণ যে আইন উপস্থাপন করেছি তা সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া অব্যাহত রাখবো। আমি আজ সকালে মহামান্য রাণীর সঙ্গে কথা বলেছি। আমি যে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি তা তাকে অবহিত করেছি। নতুন একজন প্রধানমন্ত্রীর অধীনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সমঝোতা শুরু হওয়া প্রয়োজন। আমি মনে করি, কখন আর্টিকেল ৫০ প্রয়োগ করা হবে এবং ইইউ ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে সে সিদ্ধান্ত নতুন প্রধানমন্ত্রীর নেয়াটাই ঠিক হবে।
আমি, আগামী সপ্তাহে ইউরোপীয় কাউন্সিলে যোগ দিয়ে বৃটিশ জনগণের সিদ্ধান্ত ও আমার নিজের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করবো। বৃটিশ জনগণ একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে শুধু সম্মান জানানো উচিত তাই নয়, বরং এ প্রশ্নের পরাজিত শিবিরে আমিসহ যারা ছিল- প্রত্যেকের উচিত জনগণের এই সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়ন করতে সহায়তা করা।
বৃটেন ইজ এ স্পেশাল কান্ট্রি। আমাদের অসাধারণ অনেক সুবিধা রয়েছে। সংসদীয় একটি গণতন্ত্র আছে যেখানে আমরা শান্তিপূর্ণ বিতর্কের মাধ্যমে আমাদের ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ নানা ইস্যু সমাধা করে থাকি। আমাদের রয়েছে দারুণ একটি বাণিজ্যিক রাষ্ট্র। সেই সঙ্গে আমাদের বিজ্ঞান, কলা, প্রকৌশল আর আমাদের সৃষ্টিশীলতা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। আমরা হয়তো নিখুঁত নই, তবে আমি বিশ্বাস করি আমরা বহুজাতিক, বহু ধর্মের একটি গণতন্ত্রের মডেল হতে পারি আমরা; যেখানে মানুষ এসে অবদান রাখতে পারে এবং নিজেদের মেধা অনুযায়ী সর্বোচ্চ শিখরে উঠতে পারে।
ইউরোপ ছাড়ার পথ আমি সুপারিশ না করলেও, আমিই প্রথমে আমাদের অসাধারণ শক্তির প্রশংসা করছি। আমি আগেও বলেছি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরেও বৃটেন চলতে পারবে। আর অবশ্যই আমরা একটি পথ খুঁজে নিতে পারবো। এখন, ইউরোপ ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে গেছে। আমাদেরকে সর্বোত্তম পথটা খুঁজে বের করতে হবে। সহায়তা করার জন্য আমি যা কিছু সম্ভব সবটাই করবো। আমি এই দেশকে ভালোবাসি। আর আমি এ দেশের সেবা করতে পেরে সম্মানিত। ভবিষ্যতে আমাদের এই ‘গ্রেট নেশন’- এর সফলতায় যতটুকু আমি সহায়তা করতে পারি, তা করবো। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

No comments:
Post a Comment