Saturday, June 18, 2016

ইউরোতে মাঠের মধ্যে আগুনের গোলা

ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে দর্শক হাঙ্গামায় নতুন দলের সমর্থক যোগ হলো। ফ্রান্সে চলমান ইউরো কাপের শুরু থেকে ইংলিশ ও রাশিয়ার সমর্থকরা বিভিন্ন শহরে তা-ব চালিয়েছে। এমন কি এই দুই পক্ষ মাঠেও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তাদের বিরুদ্ধে ইউয়েফা কঠোর হুশিয়ারি দিয়েও বাগে আনতে পারেনি। এবারের দর্শক হাঙ্গামার ঘটনা আগের সব রেকর্ডকে পেছনে ফেলে নিয়েছে। এরই মধ্যে নতুনভাবে হাঙ্গামা ও তা-ব শুরু করলো ক্রোয়েশিয়ার সমর্থকরা। শুক্রবার চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে মাঠে নামে ক্রোয়েশিয়া। এতিয়েন স্টেডিয়ামের ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার কিছু সমর্থকের উগ্র ও জঙ্গী আচরণে বেশ কিছু সময় খেলা বন্ধ রাখতে বাধ্য হন রেফারিরা। ম্যাচের ৮০ মিনিটের দিকে হঠাৎ করে ক্রোয়েশিয়ার সমর্থকরা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এক গ্রুপ অন্য গ্রুপের ওপর বোতল ছুড়তে শুরু করে। গ্যালারিতে মারধরে ঘটনাও দেখা যায়। এক সময় গ্যালারি থেকে তা ছড়িয়ে পরে মাঠের মধ্যে। ক্রোয়েশিয়ার কিছু উগ্র সমর্থক মাঠের মধ্যে আাগুনের গোলা নিক্ষেপ করে। মাঠের একপাশে প্রায় ২০টি আগুনের গোলা নিক্ষেপ করা হয়। এতে ধোঁয়ায় ভরে যায় মাঠ। মাঠে দায়িত্বরত কয়েকজন কোনো রকমে আগুনের হাত থেকে বেঁচে যান। ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়রা চিৎকার করে দুই হাত উঁচু করে দর্শকদের শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু দর্শকরা তাতেও থামেনি। এতে বাধ্য হয়ে ৮৬ মিনিটে সাময়িক খেলা বন্ধ রাখের রেফারিরা। ক্রোয়েশিয়ার সমর্থকদের এমন হাঙ্গামার কঠোর সমালোচনা করেছেন দেশটির ফুটবল দলের কোচ। তিনি এটাকে ‘সন্ত্রাসী’ কর্মকা- বলে অভিহিত করেছেন। দোষী সমর্থকদের শাস্তির আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বলেন, তারা মূলত ক্রোয়েশিয়ার সমর্থক নয়, তারা সন্ত্রাসী। মাত্র ৭ থেকে ১০ জন দর্শক এই ঘটনায় জড়িত। এই কয়েকজন মানুষ ক্রোশেয়ার সব মানুষকে ইউরোপের সামনে অপমান করেছে। আশা করছি- তাদের চিহ্নিত করে আটক করা হবে। তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল অ্যাসেসিয়েশন যথাযথ ব্যবস্থা নিবে বলে আশা করছি।’ নিজ দেশের সমর্থকদের এমন আচরণে সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ক্রোয়েশিয়ার বার্সেলোনার মিডফিল্ডার ইভান রাকিতিচ। তিনি বলেন, ‘আমরা ইউয়েফা, চেক প্রজাতন্ত্র এবং বিশ্বের সব ফুটবলপ্রেমীর কাছে আমাদের দর্শকদের এমন আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।’

No comments:

Post a Comment