জঙ্গি ও সন্ত্রাসী ধরতে পুলিশের সাঁড়াশি
অভিযানের নামে জামায়াতসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি এবং গ্রেফতার
বাণিজ্যের নিন্দা জানিয়ে ও এ ব্যাপারে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছে
জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান। আজ
শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে একের পর এক হত্যাকাণ্ড চলছে।
হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টানসহ নানা পেশার নারী ও পুরুষ নির্মম গুপ্ত
হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ
তদন্ত ও বিচার হয়নি। কোনো একটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পরপরই
প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীবর্গ, আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও আইন-শৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ জামায়াত এবং অন্যান্য বিরোধী
দলের ওপর দোষ চাপিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে সঠিক ও
বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং প্রকৃত খুনিরা আড়ালে চলে গিয়ে এ
অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহ পাচ্ছে। সাম্প্রতিক প্রতিটি
হত্যাকাণ্ডের পরপরই আমরা বিবৃতির মাধ্যমে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের
শাস্তি দাবি করেছি। কিন্তু সরকার এ ব্যাপারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ
করেনি।
অথচ সরকারের প্রধানতম দায়িত্ব জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা।
প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত করে শাস্তি বিধানে সরকারের অনীহা কেন তা নিয়ে
জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। সাগর-রুনি দম্পত্তি হত্যাকাণ্ড, কুমিল্লায় তনু
হত্যা, কয়েকজন বিদেশী নাগরিকসহ ব্লগার হত্যা এবং ধর্মীয় নেতা ও ধর্মীয়
সেবকদের হত্যাকাণ্ডে দেশে-বিদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হলেও এখন পর্যন্ত কোনো একটি
হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। আদৌ এসব হত্যাকাণ্ডেরর বিচার হবে কি-না তা নিয়ে
নিহতদের পরিবারবর্গ উদ্বিগ্ন। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকার আইন-শৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীকে দলীয় কর্মীর ন্যায় ব্যবহার করছে। বিরোধী দলকে
শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে দিচ্ছে না। এমনকি সরকার ইফতার মাহফিলের মত
ধর্মীয় এবং সামাজিক কর্মসূচিও বন্ধ করে দিচ্ছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র
ব্যবস্থায় বিরোধী দল সরকারেরই একটি অংশ। কিন্তু ক্ষমতাসীন সরকার
জুলুম-অত্যাচার চালিয়ে বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে একদলীয় স্বৈরশাসন
শাসন কায়েম করতে চায়। গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েমের
জন্য সরকার বদ্ধপরিকর বলে মনে হচ্ছে।
সরকারের এহেন স্বৈরাচারী আচরণের কারণে
অর্থনীতির চাকা স্থবির হয়ে যাচ্ছে। দেশে কোনো বিনিয়োগ নেই। বিদেশে
বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রকৃত বিরোধী দলকে
রাজনীতির ময়দানে একেবারেই কোনঠাসা করার ফলে রাজনীতিতে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
সরকার একদিকে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদেরকে কারাগারে আটক করে রেখেছে, অন্যদিকে
দুর্বৃত্তদেরকে লালন-পালন করছে। ফলে দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে
উঠেছে। সরকার যদি আন্তরিকভাবে গুপ্ত হত্যা বন্ধ করতে চায়, তাহলে প্রয়োজন
দল-মত নির্বিশেষে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা। দেশকে বিভাজনের দিকে ঠেলে না
দেয়া। এ ব্যাপারে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে।

No comments:
Post a Comment