Thursday, June 30, 2016

ভিনদেশী নারীদের ঈদ আয়োজন

বিশ্বের ১.৬ মিলিয়ন মুসলিম এবার পবিত্র ঈদুল ফিতর বা রোজার ঈদ পালন করার প্রস্তুতি নিয়েছে। আর এর ৫০ শতাংশের বেশিই হচ্ছেন নারী। ইসলামিক পঞ্জিকায় এটিই বছরের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। বিশ্বের মুসলিম নারীরা এখন মহাব্যস্ত রকমারি খাবার তৈরি, পোশাক কেনা, পোশাক তৈরি, ঘর-দুয়ার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা, প্রিয়জনকে ঈদ উপহার প্রদান ইত্যাদি কাজকে ঘিরে। অর্থাৎ ইসলামি দেশ যেমনÑ সৌদি আরব, ইরান প্রভৃতি দেশের নারীরা এখন খুবই ব্যস্ত ঈদুল ফিতর পালনে। নারী ক্রেতারা এটা সেটা কিনতে যেমন এখন যারপরনাই ব্যস্ত, তেমনি ব্যবসায়ী বা বিক্রেতারাও তাদের পণ্য তৈরি ও বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ঘুম রাত পার করছেন মহা আনন্দে। ইন্দোনেশিয়ায় ঈদুল ফিতরকে বলা হয় হারি রায়া ঈদুল ফিতরি। লেবারনও বলা হয় এ ঈদকে। এমন সময় দেশটির নারীরা ব্যস্ত থাকেন মিষ্টিজাতীয় খাবার কেটুপেট, অপর আয়াম, রেনডেং কুই, ডোডল ইত্যাদির প্রস্তুত নিয়ে। এ সময় ইন্দোনেশিয়ার মেয়েরা পোশাক হিসেবে পরিধান করেন কেবায়া কুরুং, কেবায়া ব্লøাউজ (ঢিলেঢালা এমব্রয়ডারি কাজযুক্ত), এর সাথে লম্বা স্কার্ট ইত্যাদি।
এ ছাড়া হিজাব, নেকাব ইত্যাদি তো আছেই। নানা রঙের রকমারি ডিজাইনের বোরকা দেশটির নারীদের অন্যতম পছন্দের। আরো আছে সারুং, ইকাট, সংকেট ইত্যাদি। এগুলো বাটিক শ্রেণীর। হিজাবের মধ্যে আছে কুরুডাং ইত্যাদি। সৌদি আরব ঈদ আয়োজনে বিশ্বের বৃহৎ দেশ। শুধু দুবাইয়েই আগমন ঘটে ১.৫ মিলিয়ন পর্যটকের। এর প্রায় ৫০ শতাংশই নারী। পর্যটকের আগমন মানে পণ্য কেনাকাটা বেশি হওয়া। আর স্থানীয় লোকজনের কেনাকাটা তো আছেই। তারা বেশি কিনেন লেটেস্ট ডিজাইনের আবায়াস এবং অন্যান্য ধর্মীয় পোশাক। ইউনাইটেড আরব আমিরাতসহ (ইউএই) অন্যান্য স্থানে ধর্মীয় বিধিবিধানও রয়েছে শালীন সুন্দর পোশাক পরিধানের। এমন সময়ে শপিংমলগুলো লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। এবারো এর যেন ব্যতিক্রম নেই। এ দিকে টানা পাঁচ দিন ঈদ আনন্দ চলে কাতারে। কাতারের এক চিফ মার্কেটিং অ্যান্ড প্রমোশনস অফিসার রাশেদ আল-কোরেশি বলেন, নারী-শিশুসহ সবার জন্য ঈদ আনন্দে দেশে নানা ধরনের বিনোদনের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আয়োজন হচ্ছেÑ দ্য রেনে ম্যাগরিটে শো,
দ্য বাবুল জো শো ইত্যাদি। এ জন্য রীতিমতো সরগরম থাকে হায়াত প্লাজা, সিটি সেন্টার দোহা, এজডান-মল, লেগুনা মল, আল-খোর মল, দার আস সালাম মল ইত্যাদি। রোজার ঈদে বিশ্বের বিভিন্ন মসজিদে নারীরাও একে অন্যের সাথে কোলাকোলি করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রতিটি ঈদেই পাকিস্তানের লাহোরের বাদশাহী মসজিদে প্রচুর মুসলিম নারীর উপস্থিতি ঘটে। অনেক নারী মিষ্টিজাতীয় খাবার তৈরি করে কিংবা কিনে মসজিদে নিয়ে এসে নারী-শিশুদের মধ্যে বিতরণ করে বিশেষ আনন্দ পান। তারা মনে করেন, এটি শুধু সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করে না বরং তা সওয়াবও। ফিলিপাইনের ম্যানিলায় লুনেটা পার্কে ঈদের নামাজে প্রচুর নারী অংশগ্রহণ করেন। আশা করা হচ্ছে, এবারো এর ব্যতিক্রম হবে না। নারীদের বিশাল ঈদের জামাত হয় গাজা শহরের গাজা স্ট্রিপেও। এতে অংশ নেবেন অগণিত ফিলিস্তিনি নারী। মিসরের কায়রোর তাহরির স্কোয়ারে ঈদের বিশাল জামাত অনুষ্ঠিত হয়। দূর-দূরান্ত থেকে এসেও এই জামাতে অংশ নেন বহু নারী। তাদের একজন মার্সিয়া সামারি বলেন, রমজান শুধু পবিত্র মাসই নয় বরং আমাদের দিকনির্দেশনাও।

No comments:

Post a Comment