আমেরিকাকে
আবার চ্যালেঞ্জ ছোড়ার তোড়জোড় শুরু চীনে। এ বার আর বাগ্যুদ্ধ নয়।
প্রযুক্তির লড়াইতে মার্কিন বিমানবাহিনীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে চলেছে পিপলস
লিবারেশন আর্মির বিমানবাহিনী। স্টেল্থ ফাইটার বা রাডার এড়িয়ে হানা দিতে
সক্ষম যুদ্ধবিমান তৈরি করে ফেলেছে চীন। খুব শীঘ্রই চীনা বিমানবাহিনীর
অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে এই যুদ্ধবিমান। জে-২০ নামের এই স্টেল্থ ফাইটার যে
চীন তৈরি করছে, তা গোপন ছিল না। আমেরিকার সঙ্গে পাল্লা দিতে এই ধরনের
যুদ্ধবিমান তৈরি করা চীনের পক্ষে অত্যন্ত জরুরি ছিল। ২০১১ সালে প্রথমবার
পরীক্ষামূলকভাবে এই বিমান ওড়ায় চীন। ঘটনাচক্রে সে দিনই চীন সফরে গিয়েছিলেন
তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব রবার্ট গেটস। ওয়াকিবহাল মহলের মতে,
কাকতালীয়ভাবে নয়, ইচ্ছাকৃতই মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিবের সফরের দিনে স্টেল্থ
ফাইটার উড়িয়েছিল বেইজিং। তবে সে উড়ান ছিল নেহাতই পরীক্ষামূলক।
তখনও
জে-২০ নামে ওই যুদ্ধবিমানের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হয়নি। আরো অনেক
প্রযুক্তিগত পরিমার্জন বাকি ছিল। চীনা মিডিয়ায় সম্প্রতি একটি ছবি প্রকাশ
পেয়েছে। তাতে বিমানঘাঁটির টারম্যাকে জে-২০ যুদ্ধবিমানের চলাচল এবং উড়ান
দেখতে পাওয়া গিয়েছে। ওই ছবির ভিত্তিতেই চীনা মিডিয়া দাবি করে, জে-২০-র
নির্মাণ কাজ শেষ। ওই স্টেল্থ ফাইটার চীনা বিমানবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
তবে বিমানবাহিনীর তরফে সে কথা স্বীকার করা হয়নি। পিপলস লিবারেশন আর্মির
এয়ার ফোর্স জানিয়েছে, জে-২০-র নির্মাণ কাজ শেষ। এখন চূড়ান্ত পরীক্ষামূলক
উড়ান চলছে। তবে খুব শীঘ্রই এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান চীনা বাহিনীর
অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে। স্টেল্থ ফাইটার হলো এমন যুদ্ধবিমান, যাকে রোখা খুব
কঠিন। বিশেষ প্রযুক্তির কারণে এই ধরনের যুদ্ধবিমানের গতিবিধি রাডারে ধরা
পড়ে না। ফলে স্টেল্থ ফাইটার প্রতিপক্ষের এলাকায় ঢুকে পড়লেও, রাডার কিছুই
বুঝতে পারে না। বিমানহানা রোখার জন্য আগে থেকে কোনো প্রস্তুতি নেওয়া যায়
না। আমেরিকার এফ-২২ র্যাপটর হলো বিশ্বের সেরা স্টেল্থ ফাইটার। চীনের হাতে
তেমন কিছু ছিল না। জে-২০ তৈরি করে সেই অভাব পূরণের চেষ্টা করছে বেইজিং। তবে
জে-২০ এখনও এফ-২২ র্যাপটরের সমান শক্তিশালী হয়ে ওঠেনি বলেই বিশেষজ্ঞরা
মনে করছেন।

No comments:
Post a Comment