স্কুলে সর্বপ্রকার শাসন আইনগত নিষিদ্ধ। এ
বিষয়ে প্রথম থেকে সর্বোচ্চ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা পর্যন্ত অবগত। ফলে
শিক্ষকেরাও আর আগের মতো শাসন-বারণ করেন না। তারাও ‘পরিবেশের সাথে খাপ
খাওয়ানো’র চেষ্টা করছেন। কিছু দুর্ঘটনা এখনো ঘটছে। আর সরকারের এই আইনের
সদ্ব্যবহার করছে কিছু শিক্ষার্থী। এরা সঙ্ঘবদ্ধভাবে (বিশেষ করে অষ্টম-দশম
শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা) সাধারণ শিক্ষার্থীদের মুখ খোলার সাহস নেই। কিছু
শিক্ষার্থী কাসরুমে বসে শুধু গল্প আর আড্ডা মারে। তাদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ
শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো কাস করতে পারে না। কিন্তু কী করবেন স্যার? কাসের বাইরে
বের করে দিলে তারা ‘অপমানিত’ বোধ করবে। শিক্ষকেরা অভিভাবকদের জানাতে
জানাতে কান্ত। এরই মধ্যে সরকার স্কুল কেবিনেট নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিল।
এবার দুষ্টু শিক্ষার্থীরা যেন হাতে আলাদিনের চেরাগ পেল।
কোনো মাধ্যমিক
স্কুলে ১-১০ রোল ধারী কোনো শিক্ষার্থী নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে কি না সন্দেহ।
অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন কাসের দুষ্টু শিক্ষার্থীরা জোট করে নির্বাচনে
দাঁড়িয়ে ‘বিজয়’ লাভ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে যারাই দাঁড়িয়েছে তাদেরকেই
প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়েছে। এভাবে কাজ না হলে কিছু স্কুলে
ব্যালটপেপারও ছিনতাই হয়েছে, যা দেশবাসী পত্রিকা মারফত জানতে পেরেছে। এই
অপকর্মে ছাত্রলীগ নামধারী কলেজ শাখার নেতারা সরাসরি জড়িত। তাদের পরামর্শেই
স্কুল কেবিনেট চলছে। সরকার স্কুল কেবিনেট সদস্যদের লাইসেন্স দিয়েছে বিভিন্ন
অপকর্ম করার।
কেউ কেউ স্কুলের ব্যাগে চাপাতিসহ বিভিন্ন অস্ত্র বহন করে।
তথ্যগুলো সরকার গোয়েন্দা বিভাগের মাধ্যমে যাচাই করতে পারে। অনেক শিক্ষার্থী
এখন নেশাগ্রস্ত, পর্নো আসক্ত। স্কুলে মোবাইল এনে বন্ধুরা বা বান্ধবীরা
একসাথে বসে পর্নো ছবি দেখে। অনেক মা-বাবা তাদের কাছে অসহায়। কেবিনেট
ব্যস্ত থাকে মারামরি করা ও মেটাতে। এর মধ্যে কিছু অসহায় জীব (শিক্ষক) কাসে
যান জীবিকার প্রয়োজনে। সরকারের রাজনীতির শিকার হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের
জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এসব কিশোর অপরাধীর কী হবে? তারা কি আইনের
ঊর্ধ্বে? শিক্ষা আইনে এ সংক্রান্ত বিধান থাকা প্রয়োজন। অন্যথায় এরাই বড় হয়ে
দেশ ও জাতির জন্য কলঙ্কিত অধ্যায় রচনা করতে পারে।
No comments:
Post a Comment