রাশিয়ার
সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক ভালো
যাচ্ছে না। দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই উত্তেজনা সর্বাত্মক
যুদ্ধে রূপ নেবে বলে মনে হয় না। তবে অনেকে মস্কো ও আঙ্কারার মধ্যে ‘প্রক্সি
যুদ্ধের’ আশঙ্কা করছে। বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বছরের
নভেম্বরে রুশ জঙ্গি বিমান ভূপাতিত করে তুরস্ক। এরপর থেকে দেশ দুটির মধ্যে
একপ্রকার নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা চলছে। তুরস্কের দাবি, রুশ বিমান তাদের
আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল। আঙ্কারার এই দাবি নাকচ করে আসছে মস্কো। বিমান
ভূপাতিত করার পর থেকেই মস্কো ও আঙ্কারার মধ্যে তীব্র বাগযুদ্ধ লক্ষ করা
যাচ্ছে। গত সপ্তাহেও তাদের মধ্যে একচোট হয়ে গেছে। রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে
এই বিরোধ কত দিন চলবে বা তারা সম্পর্কোন্নয়নে উদ্যোগী হবে কি না, তা দেখার
বিষয়।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, তিনি রাশিয়ার সঙ্গে
সম্পর্ক ভালো করতে চান। কিন্তু এ ক্ষেত্রে মস্কো কোন ধরনের প্রথম উদ্যোগ
আশা করছে, তা বুঝতে পারছেন না তিনি। অবশ্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
স্পষ্ট করেছেন, মস্কো চায়- বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় আঙ্কারা
আনুষ্ঠানিকভাবে ও প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করুক। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণও
দিক। তবে আঙ্কারা তেমনটা করবে বলে মনে হয় না। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞ সেমিহ
ইদিজের মতে, সম্পর্কোন্নয়নে তুরস্ক পদক্ষেপ নিতে চায়। কিন্তু তা পিছু হটে
নয়। ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারে তুরস্কের ওপর কোনো আন্তর্জাতিক চাপ নেই। মস্কোর
দাবি অনুয়ায়ী আঙ্কারা ক্ষমা চাইবে বলে মনে হয় না। এরদোগানের ক্ষমা চাওয়ার
সম্ভাবনা দেখেন না যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান ওয়াশিংটন
ইনস্টিটিউটের সোনের ক্যাগাপটেও।
অনেকে মনে করেন, এরদোগান প্রকাশ্যে ক্ষমা
চাইলে নিজ দেশে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন তিনি। শিক্ষাবিদ আহমেদ
কাসিম হান মনে করেন, এরদোগান বা দেশটির ক্ষমতাসীন দল এমন ঝুঁকি নেবে না।
তুরস্কের সীমান্তবর্তী উত্তর সিরিয়ায় কার্যত ‘নো-ফ্লাই জোন’ কার্যকর করে
রেখেছে রাশিয়া। ফলে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের বিমান-সমর্থন দেয়ার সক্ষমতা
হারিয়েছে তুরস্ক। তারা আইএসের হামলা থেকে নিজেদের সীমান্ত সুরক্ষার
সক্ষমতাও হারিয়েছে। রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনার জের ধরে
দেশ দুটির মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটবে বলে মনে করেন না
বিশ্লেষকেরা। তবে অনেকে তাদের মধ্যে একটি ‘প্রক্সি যুদ্ধের’ আশঙ্কা করছে।
গত মাসে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে দেশটির একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করে
নিষিদ্ধ বিদ্রোহী গোষ্ঠী পিকেকে। হেলিকপ্টার ভূপাতিত করতে রাশিয়ার তৈরি
অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে। পিকেকেকে রাশিয়া অস্ত্র সরবরাহ করেছে বলে অভিযোগ
তুরস্কের। আঙ্কারাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিযোগের পক্ষে তথ্য-প্রমাণ হাজির
করতে বলেছে মস্কো। পিকেকেকে রাশিয়া অস্ত্র দিয়েছে, নাকি গোষ্ঠীটি কালোবাজার
থেকে তা সংগ্রহ করেছে, বিষয়টি পরিস্কার নয়।
তবে মস্কোর সঙ্গে পিকেকের সম্পর্কের ইতিহাস রয়েছে। এর ভিত্তিতে তুরস্কে
এমন ধারণা আছে যে মস্কো-আঙ্কারার মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনার
পরিপ্রেক্ষিতে পিকেকেকে ‘প্রক্সি’ হিসেবে ব্যবহার করছে রাশিয়া।

No comments:
Post a Comment