সকাল
পৌনে ৯টা, জাহাপুর কে কে একাডেমি কলেজ কেন্দ্র। শত শত পুরুষ ও মহিলা
ভোটারদের লম্বা লাাইন। ভোট চলছে ভেতরে অবাধে। কিন্তু লাইনে ভোটার কমছে না।
সময় বাড়ছে, লাইনও দীর্ঘ হচ্ছে। সাংবাদিকদের গাড়ি কেন্দ্রের সামনে যেতেই
সবাই সতর্ক। আর কেন্দ্রে প্রবেশ মাত্রই ঘোষনা, সবাই সাবধান, বাইরে সাংবাদিক
ভাইয়েরা। কেন্দ্রে প্রবেশ করা মাত্রই পুলিশ ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তার আদর
আপ্যায়নের জোরাজোরি। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বললেন ভোট
শান্তিপুর্ন ভাবে চলছে। ভেতরে যাবার দরকার নেই। বাইরে বাতাস আছে এখানেই
থাকেন। আর পুলিশ কর্মকর্তা বললেন, ভেতরে গরম। বাইরে কি সুন্দর ও ঠান্ডা
বাতাস, আলহামদুলিল্লাহ। তিনি, আনসার সদস্যকে দিয়ে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে
ডাকিয়ে আনেন। বলেন সাংবাদিক ভাইরা আসছেন। ওনাদের সাথে কথা বলেন। পরে
কর্মকর্তাসহ অন্যান্যরারা চা-নাস্তা করানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠেন। তাদের
আথিতেয়তাকে এড়িয়ে বুথে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। সরকারি দলের চেয়ারম্যান
প্রার্থী একেএম শফিকুল ইসলামের এজেন্টারা নিজেদের মতো করে সীল মারছে।
নেই
ধানের শীষসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কোনো এজেন্ট নেই। কেন এজেন্ট নেই জানতে
চাইলে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জানান, ওনারা দেন নি। আর আমার কাছে কোনো অভিযোগ
নাই। অভিযোগ আসলে আমি ব্যবস্থা নেব। কিন্তু বাস্তবতা আলাদা। প্রান নাশের
হুমকির কারনে কেউ ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্ট হয়নি। ফলে ২২৭১ ভোটারের মধ্যে
একঘন্টায় ভোট পড়েছে ৪শ। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী তৌফিক মীর জানান,
দুদিন ধরে আমার বিভিন্ন কর্মীদের হুমকি দেয়া হচ্ছে। তারা সব বাড়ি ছাড়া। কেউ
প্রান ভয়ে এজেন্ট হতে চায়নি। যার কারনে আমার কোনো এজেন্ট বেশির ভাগ
কেন্দ্রে দিতে পারি নাই। আর স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম ভোট দিয়ে এসে
সাংবাদিকদের বলেন, প্রশাসন যেদিকে ভোট সেদিকে। তবে সবাই খুব আতঙ্কে ছিল এই
কেন্দ্র নিয়ে। কিন্তু সাংবাদিকদের দেখে সবাই সাহস পেয়ে ভোট দিতে আসছে।
সারাদেশের চিত্র আর এখানে এক।

No comments:
Post a Comment