অ্যাভোকেডো
ফলের চাহিদা নিউজিল্যান্ডে সবসময়ই বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে এই চাহিদা আরো
বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও বেড়েছে এই ফলের চাহিদা। দামও বেড়েছে। সেই
সঙ্গে বেড়েছে অ্যাভোকেডো ফল চুরির ঘটনা। এ বছরের জানুয়ারি মাস থেকে শুরু
করে এখন পর্যন্ত অ্যাভোকেডো বাগানগুলোতে ৪০টি বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এর একেকটিতে প্রায় সাড়ে তিন শ করে অ্যাভেকেডো বাড়িয়ে নিয়েছে চোরেরা। এর
বাইরেও এই ফল চুরির আরও অনেক ঘটনারই খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ খবর জানিয়েছে বৃটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ান। খবরে বলা হয়, নিউজিল্যান্ডে
বর্তমানে একেকটি অ্যাভোকেডো বিক্রি হচ্ছে ৪ থেকে ৬ নিউজিল্যান্ড ডলারে। গত
বছর অ্যাভোকেডোর ফলন কম হওয়ায় স্থানীয় অ্যাভোকেডোর চাহিদা বেড়েছে এবং দামও
বেড়েছে। নিউজিল্যান্ড অ্যাভোকেডোর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ বছরে অ্যাভোকেডোর
স্থানীয় বাজারই ছিল ৪ কোটি ১০ লাখ ডলারের। আর বিদেশে রপ্তানি মিলিয়ে এই
বাজারের পরিমাণ ছিল ১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। ২০১৫ সালে দেশটির প্রায় ৯৬ হাজার
নতুন পরিবার অ্যাভোকেডো কিনতে শুরু করেছে। এমন চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে
পারছেন না অ্যাভোকেডো চাষিরা। অ্যাভোকেডোর বাজারের এমন অস্থিরতাই
অ্যাভোকেডো চুরির ঘটনাকে প্রভাবিত করছে। খবরে বলা হয়, বেশির ভাগ চুরিই ঘটছে
মধ্যরাতে। এই ফল গাছ থেকে ফল পাড়তে ব্যবহার করা হচ্ছে আঁকশি এবং গাছের
নিচে কম্বল বা চাদর পেতে সংগ্রহ করা হচ্ছে সেগুলো। কেউ কেউ আবার সরাসরি গাছ
থেকে হাত দিয়েই পাড়ছে অ্যাভোকেডো। মূলত অকল্যান্ডের মুদির দোকান, রাস্তার
ধারের দোকান বা ছোট ছোট ফলের দোকানেই সরবরাহ করা হচ্ছে চুরি করা
অ্যাভোকেডো। ওয়াইহির পুলিশ সার্জেন্ট অ্যারন ফ্রেজার জানিয়েছেন, এর আগেও
তিনি অ্যাভোকেডো চুরির ঘটনা অনেকই শুনেছেন। কিন্তু বর্তমানে যে মাত্রায় এই
চুরির ঘটনা ঘটছে তেমনটি আগে কখনও দেখা যায়নি। তবে চুরি করা অ্যাভোকেডো নিয়ে
শঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব ফল এখনও পাকেনি। এদের অনেকগুলোতেই
সাম্প্রতিক সময়ে কীটনাশক দেয়া হয়েছে বলে এগুলোতে এখনও এসব ক্ষতিকর উপাদান
থেকে যেতে পারে।’ তবে বর্তমানে অ্যাভোকেডোর উচ্চমূল্যের কারণে আর্থিক লাভের
জন্যই এগুলোর চুরিতে অনেকেই নিয়োজিত হচ্ছে বলে জানান তিনি। নিউজিল্যান্ড
অ্যাভোকেডোর সিইও জেন স্কোউলার অবশ্য এসব চোর নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নন।
তিনি বলেন, ‘এখন এরা লাভের আশায় এমনকি করছে। কিন্তু এবারে অ্যাভোকেডোর
বাম্পার ফলন হয়েছে এবং আসছে সপ্তাহগুলোতেই স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত
অ্যাভোকেডোতে বাজার ভরে যাবে। এসব চুরির বেশকিছু ঘটনাই ঘটেছে। কিন্তু আমার
মনে হয় না এগুলো সংঘবদ্ধ কোনো কাজ। বরং এগুলো সুবিধাবাদীদেরই কাজ।’
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment