ক্ষমতা
ধরে রাখতে পারলেন না বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। তিনি
ব্রেক্সিটের বলি হওয়ার পর নতুন প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নে বিভোর ছিলেন জর্জ
অসবর্ন, বরিস জনসন, মাইকেল গোভ ও আন্দ্রে লিডসম। কিন্তু তারাও হালে পানি
পেলেন না। ফলে ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়ে উঠেছে তেরেসা মে’র। বৃটেনের ইতিহাসে
দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে তার অভিষেক ঘটছে
আগামীকাল বুধবার রাতে। এ জন্য তার সামনে এখন কোন চ্যালেঞ্জ নেই। নির্বাচন
ছাড়াই তার সামনের সব বাধা দূরে সরে গেছে। তিনি এখন প্রধানমন্ত্রীত্বের
রাজনৈতিক খেলায় একজনই প্লেয়ার। তার প্রধানমন্ত্রিত্বে অভিষেককে এভাবেই
বর্ণনা করেছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে বলা হয়েছে, বিরোধী
লেবার পার্টি সহ অন্যরা দেশে আগাম নির্বাচনের জন্য ব্যাপক তোড়জোড় করছে।
কিন্তু তেমন সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়েছেন তেরেসা মে। তিনি বিদায়ী
প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের হাত থেকে ক্ষমতা নিয়ে ব্রেক্সিট পরবর্তী
বৃটেনকে, এক কোলাহলময় সময়ে কিভাবে পরিচালিত করেন সে দিকে তাকিয়ে আছেন সবাই।
উল্লেখ্য, ডেভিড ক্যামেরন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন
তেরেসা মে। ব্রেক্সিট ভোটে হেরে যাওয়ার পর পদত্যাগের ঘোষণা দেন ডেভিড
ক্যামেরন। ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে উঠে আসে বেশ কতগুলো নাম। তার মধ্যে
অন্যতম ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষ অবলম্বনকারী কনজার্ভেটিভ
পার্টির অন্যতম নেতা, লন্ডনের সাবেক মেয়র বরিস জনসন। কিন্তু দলের মধ্যে তার
বিরুদ্ধে তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়। সিনিয়র নেতারা ‘বরিস জনসন ঠেকাও’ অভিযান
শুরু করেন। ফলে এক পর্যায়ে এসে তিনি বলতে বাধ্য হন, আর নয়। আমি
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো না। এ ধারায় আরও ছিলেন জর্জ
অসবর্ন, মাইকেল গোভ ও আন্দ্রেয়া লিডসম। সবাই সরে যাওয়ার লৌহমানবী খেতাব
পাওয়া বৃটিশ প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের পর দ্বিতীয় নারী
প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন তেরেসা মে। প্রার্থিতা ঘোষণা করার পর দলীয় নেতা ও
প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য তার হাতে সময় ছিল ৮ সপ্তাহের বেশি। এ সময়ে
তিনি কনজার্ভেটিভ দলের সদস্যদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছিলেন। নির্ধারিত
সময়ের আগেই তার কপাল খুলে গেছে। পার্লামেন্টের কাছেই কাউলি স্ট্রিটে এক
জমায়েতে আন্দ্রেয়া লিডসম যেন বোমা ফাটালেন। এতদিন আলোচনা ছিল তিনি
কনজার্ভেটিভ পার্টি থেকে নির্বাচন করলে জিতে যেতে পারেন। কিন্তু তিনি করলেন
কি? তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেন। ১৫ মিনিটের মধ্যে এ খবর
ছড়িয়ে পড়লো চারদিকে। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে আন্দ্রেয়া লিডসম বেরিয়ে এলেন।
তার সামনে একগাদা ক্যামেরা, বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক, কৌতুহলী মানুষ। তিনি
তাদের সামনে একটি টিঠি পড়লেন। তা লিখেছেন গ্রাহাম ব্রাডলিকে উদ্দেশ্য করে।
এতে তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর
ঘোষণা দিলেন। পরিষ্কার হয়ে গেল তেরেসা মে’র সামনের পথ। এ খবর পেয়ে অকস্মাৎ
তেরেসা মের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। তিনি দ্রুত বার্মিংহাম থেকে
বেরিয়ে যান। চটজলটি সাক্ষাত করেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে।
যোগাযোগ করেন রাজপ্রাসাদের সঙ্গে। কারণ, তার শপথ নেয়ার সময় রাণী দ্বিতীয়
এলিজাবেথকে লন্ডনে প্রয়োজন হবে। কারণ, ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করার পর ১৩তম
প্রধানমন্ত্রীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবেন। এরই মধ্যে তেরেসা মে’কে
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে বৃটিশ মিডিয়ায়।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment