কাঁদছে
ইরাক। গাড়িবোমায় কমপক্ষে ২১৩ জন নিহত হওয়ার পর শোকে স্তব্ধ পুরো দেশ।
সাম্প্রতিক সময়ে এত ভয়াবহ হামলা আর হয় নি ইরাকে। রোববার চালানো ওই হামলার
দায় স্বীকার করেছে আইএস। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। রোববার দিনের
শুরুতে কারাদা এলাকায় মধ্যবিত্তরা যখন ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত তখন একটি
ব্যস্ত মার্কেটে গাড়িবোমা চালায় আইএস। এ সময় মার্কেটটি ছিল লোকে লোকারণ্য।
বোমা হামলায় পুরো বাগদাদ যেন কেঁপে ওঠে। মার্কেটটির যে ছবি পরে প্রকাশ করা
হয়েছে তাতে দেখা যায়, এর বাইরের কোন বেষ্টনি নেই। বোমার আঘাতে সব ভেঙেচুরে
গেছে। দাঁড়িয়ে আছে শুধু অবকাঠামো। আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ভবনগুলোতে।
বিভিন্ন ভবনে এখনও আগুনের পোড়া চিহ্ন। এ ঘটনায় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত
করতে প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
সরকার দাবি করেছে তারা ফালুজা থেকে আইএসকে হঠিয়ে দিয়েছে। কিন্তু অন্যদিকে
রাজধানীতে আইএস এমন হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। এতে সরকারের নীতি নিয়ে ক্ষোভ দেখা
দিয়েছে। এ অবস্থায় বাগদাদের নিরাপত্তা ত্রুটি চিহ্নিত করার ঘোষণা দিয়েছেন
প্রধানমন্ত্রী আবাদি। তিনি ওই হামলায় নিহতদের স্মরণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয়
শোক ঘোষণা করেছেন। প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন হামলার হোতাদের শাস্তি নিশ্চিত
করার। সোমবারও নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা তাদের স্বজনদের খুঁজছিলেন
ধ্বংসস্তূপের ভিতর। সিভিল ডিফেন্সের এক কর্মকর্তা বলেছেন, মৃতদেহ উদ্ধার
করতে আরও কয়েক দিন লেগে যেতে পারে। সাবেক এক সেনা সদস্য হোসেন আলীর (২৪)
দোকানে কাজ করতেন ৬ জন সদস্য। তারা সবাই নিহত হয়েছেন। তারা এত বেশি পুড়েছেন
যে তাদেরকে সনাক্ত করার কোন উপায় নেই। হোসেন আলী বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে
কমপক্ষে আমি জানতে পারি আমার শত্রু কে। আমি কার সঙ্গে লড়াই করছি। কিন্তু
এখানে তো আমি কাউকে চিনি না যে। তাহলে কার সঙ্গে লড়াই করবো।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment