Tuesday, July 5, 2016

শোকে মুহ্যমান দেশ- প্রধানমন্ত্রী, কূটনীতিক, রাজনীতিক, গণমানুষের শ্রদ্ধা

শোকার্ত গোটা দেশ। শোকাবহ রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়াম। দেশি-বিদেশি অতিথি, স্বজনদের চোখ অশ্রুসজল। সবার দৃষ্টি শ্রদ্ধা নিবেদনের অস্থায়ী মঞ্চের দিকে। সেখানে পাশাপাশি তিনটি কফিন রাখা। কফিনগুলো বাংলাদেশের পতাকা দিয়ে মোড়ানো। একটি কফিনে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাও ছিল। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক অবিন্তা কবীরের কফিন ছিল এটি। কূটনৈতিক জোনের হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় জঙ্গিদের বর্বরতার শিকার ওই অবিন্তা কবীরসহ ৩ বাংলাদেশি    ফারাজ আয়াজ হোসেন ও ইশরাত আখন্দ। শুক্রবার রাতের ওই নৃশংসতায় স্বাগতিক বাংলাদেশসহ পাঁচ দেশের ২০ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের শেষ বিদায়ের এ আয়োজন মঞ্চে ৫ দেশের পতাকাই টাঙানো হয়। মাঝে ছিল বাংলাদেশের পতাকা। ভারত, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা ছিল দু’পাশে। দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের শেষ দিনের এ আয়োজনে সকাল থেকেই শোকার্ত মানুষ ছুটে যায় আর্মি স্টেডিয়ামে। ১০টার আগেই শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সরকার, বিরোধী দল, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ১৪ দল, নাগরিক সমাজ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শামিল ছিলেন ওই শোকের মিছিলে। রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সবাই সন্ত্রাসবাদের ভিকটিমদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। কফিনগুলোকে ঘিরে সব দলমতের উপস্থিতি জানান দিয়েছে- সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে গোটা বাংলাদেশ এক এবং অভিন্ন। সন্ত্রাস বা উগ্রপন্থার প্রশ্নে কোনো ছাড় নয়, রাজনৈতিক দোষারোপও আর নয়। এদের মোকাবিলা কাঠোর ঐক্যবদ্ধ প্রায়শই কামনা করেছেন শোকের মিছিলে শামিল হওয়া সাধারণ মানুষেরা।
শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতার শুরুতে প্রেসিডেন্ট আবুল হামিদের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্জন করা হয়। ওই সকালে প্রেসিডেন্ট বিদেশে ছিলেন। ১০টা ২ মিনিটে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে একে একে ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলা, ইতালির রাষ্ট্রদূত মারিও পালমা, জাপানের রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওয়াতানবে এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাট পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। জঙ্গি হামলায় ইতালির নয়জন, জাপানের সাতজন, ভারতের একজন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন একজন নাগরিক নিহত হয়েছেন। বিদেশি দূতরা কেউ করজোড়ে, কেউবা মাথা নিচু করে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর বাংলাদেশে থাকা বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকেরা দলবদ্ধভাবে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর দুপুর ১২টা পর্যন্ত সর্বস্তরের সাধারণ জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদন মঞ্চ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। সেখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ১৪ দল, ১১ দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। সেখানে সরকারি কর্মকর্তারাও দলবদ্ধভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এক মিনিটের নীরবতা: আর্মি স্টেডিয়ামের শ্রদ্ধা নিবেদন মঞ্চে দু’জন বাংলাদেশি ফারাজ আয়াজ হোসেন ও ইশরাত আখন্দ এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক অবিন্তা কবীরের মরদেহের কফিন রাখা হয়। নিহতদের কফিনে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদনের পর তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, নিহতদের স্বজনগণ, তিন বাহিনী প্রধানগণ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে প্রধানমন্ত্রী নিহতদের পরিবার-পরিজনের সঙ্গে কথা বলেন ও তাদের সহানুভূতি জানান। প্রধানমন্ত্রী এ সময় যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারত ও ইতালির রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গেও কথা বলেন। এরপর একে একে নিহত জিম্মিদের পরিবার-পরিজন, বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতবৃন্দ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ১৪ দলীয় নেতৃবৃন্দ, এফবিসিসিআই নেতৃবৃন্দ, নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের সদস্যগণ, ঢাকা সিটি করপোরেশনের দুই মেয়র আনিসুল হক ও সাঈদ খোকন নিহতদের কফিনে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। উল্লেখ্য, গুলশান-২ এলাকার ৭৯ নম্বর সড়কের স্প্যানিশ মালিকানাধীন হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় শুক্রবার রাতে সন্ত্রাসী হামলায় ২০ দেশি-বিদেশি জিম্মি নিহত হন। যাদের মধ্যে ৯ জন ইতালীয় নাগরিক, ৭ জন জাপানি, একজন ভারতীয় ও একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক রয়েছেন। এদিনের ঘটনা প্রতিহত করতে গিয়ে দুজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা- বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাউদ্দিন আহমেদ খান ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপকমিশনার রবিউল ইসলামও নিহত হন।
জঙ্গি প্রতিরোধে পারিবারিক সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ: সন্ত্রাস ও জঙ্গি প্রতিরোধে পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে সাধারণ মানুষ এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা শফিকুর রহমান খান বলেন, সবকিছুর জন্য সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের সামাজিকভাবে জেগে উঠা প্রয়োজন। তিনি বলেন, দেশের ১৬ কোটি মানুষের জন্য ১৬ কোটি পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা সম্ভব নয়। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেকটি নাগরিককে দায়িত্ববান ও সচেতন হতে হবে। ধর্মের নামে যাতে সন্তানদের কেউ বিপথগামী করতে না পারে, এজন্য প্রত্যেকের উচিত তাদের সন্তানদের বিষয়ে ভালোভাবে খোঁজখবর রাখা। পাশাপাশি সমাজের অন্যান্য যুবকরা কে কোথায় কি করছে, তারও খোঁজখবর রাখতে হবে। নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি চর্চার অনুপস্থিতির কারণেই যুবসমাজ বিপথে যাচ্ছে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে যুব সম্প্রদায়ের জন্য পর্যাপ্ত বিনোদনের ব্যবস্থার তাগিদ দেন তিনি। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ বলেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক, সর্বোপরি রাষ্ট্রীয়ভাবে ঐক্য গড়ে তোলতে হবে। ঐক্য হতে হবে পারস্পরিক পরিচিতজনদের মধ্যে।
স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর
: শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি ফারাজ আইয়াজ হোসেন ও ইশরাত আকন্দ এবং এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অবিন্তা কবীরের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় অবিন্তার স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রধানমন্ত্রী তাদের সান্ত্বনা দেন। তাদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী নিহত অপর চারটি দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গেও কথা বলেন। ১০টা ১০ মিনিটে তিনি স্টেডিয়াম ছেড়ে যান। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা এবং এরপর নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যরা শ্রদ্ধা জানান। বেলা পৌনে ১১টার দিকে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে চলে যান। আর্মি স্টেডিয়ামে নিহত ১৭ বিদেশির মরদেহ আনা হয়নি। তাদের মরদেহ সিএমএইচের হিমঘরে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
ওআইসি’র সমবেদনা: গুলশানে সন্ত্রাসী হামলায় হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীকে টেলিফোন করেছেন ওআইসি মহাসচিব ইয়াদ আমিন মাদানি। ফোনালাপে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে বাংলাদেশকে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থাটির সহযোগিতার আশ্বাসও তিনি দিয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গুলশানের ওই ঘটনায় বাংলাদেশের মানুষ ও সরকারকে সমবেদনা জানাতে বাংলাদেশে আসতে চেয়েছিলেন ওআইসি প্রধান। আসন্ন ঈদের কারণে আসতে না পারায় শীঘ্রই সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফর করতে চান তিনি। পৃথক এক ?বিবৃতিতে গুলশানের ঘটনায় ওআইসির গভীরভাবে শোকাহত হওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। বিবৃতিতে ওআইসি মহাসচিব নিরস্ত্র ও নিরপরাধ মানুষ হত্যার নিন্দা জানিয়ে এই ‘সঙ্কটময় ও বেদনাদায়ক’ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রতি সংস্থাটির সমবেদনা ও দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। বিবৃতিতে ওআইসি মহাসচিব হতাহতদের পরিবার ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ওআইসির ‘কঠোর অবস্থানের’ কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। গুলশানের মতো মানবতাবিরোধী ঘটনা ঠেকাতে বিবৃতিতে আবারও সম্মিলিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণে গুরুত্বারোপ করার পাশাপাশি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে উগ্রবাদ, সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদ বোঝা ও তা মোকাবিলার ওপর জোর দেন ওআইসি প্রধান।
জাপানিদের তথ্য প্রকাশ নয়: গুলশানে জঙ্গি হামলায় নিহত জাপানিদের ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেছেন তাদের স্বজনরা। রোববার একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছার পর সেনানিবাসের ভেতরে একটি জায়গায় নিহত সাত জাপানির প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারা। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সেইজি কিহারা ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম রাতভর নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে থেকে তাদের সান্ত্বনা দিয়েছেন। শাহরিয়ার আলম বলেন, জাপানিদের পরিবার ও সরকারের অনুরোধের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে কোনো তথ্য প্রকাশ করবো না এবং বাংলাদেশের গণমাধ্যমও একই ওই অনুরোধের প্রতি শ্রদ্ধা রাখবে। গত বছর রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে হত্যার পরও তার পরিবারের পক্ষ থেকে ছবি না প্রকাশ করতে অনুরোধ করা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে কাঁদলেন ইতালির রাষ্ট্রদূত
আর্মি স্টেডিয়ামে নিহতদের কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর উপস্থিত দেশি- বিদেশি স্বজনদের এবং কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে উপস্থিত ইতালির রাষ্ট্রদূত মারিও পালমার সামনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রায় আধা মিনিট কথা বলেন। কথা যখন প্রায় শেষ তখন শেখ হাসিনার হাত ধরে তিনি ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠেন। আবেগাপ্লুত প্রধানমন্ত্রীও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন কয়েক সেকেন্ডের জন্য। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনসহ অন্যদের সেই আবেগ ছুঁয়ে যায়। পরে অবশ্য সবাই স্বাভাবিক হন। গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তরাঁর হত্যাকাণ্ডে নয় জন ইতালীয় নাগরিককে হত্যা করা হয়। সেখানে সাতজন জাপানি নাগরিককেও হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর শেষ আয়োজন ছিল গতকাল। যেখানে রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ইতালিসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিকরাও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সাত জাপানির মরদেহ টোকিও’র পথে: ওদিকে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় জঙ্গি হামলার ঘটনায় নিহত সাত জাপানি নাগরিকের মরদেহ একটি বিশেষ বিমানে করে জাপানে নেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে সাত জাপানির লাশ কঠোর নিরাপত্তায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা বলেন, দুপুর ২টার কিছু আগে সাত জাপানি নাগরিকের লাশ বিমানবন্দরে আনা হয়। তিনি বলেন, জাপান সরকারের পাঠানো বিশেষ বিমানে নিহতদের স্বজনরা ও দেশটির সরকারি কর্মকর্তারাও যাবেন। আজ স্থানীয় সময় সকালে টোকিওতে বিশেষ বিমানটি পৌঁছানোর কথা জানিয়েছেন দেশটির গণমাধ্যম। এদিকে ইতালির ৯ নাগরিকের লাশ আজ যাচ্ছে। ইতালি থেকে আসা বিশেষ বিমানে লাশগুলো রোম পৌঁছাবে বলে জানা গেছে। 
সন্ত্রাস দমনে পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও ইতালি
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহযোগিতার পাশাপাশি এর বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াইয়ের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও ভারতের দূত। গতকাল দুপুরে আর্মি স্টেডিয়ামে গুলশান হামলায় নিহতদের কফিনে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তারা। মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাট বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস নির্মূলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করবে। আমরা সব ধরনের সহযোগিতা দিতে রাজি।  কেননা, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ  মোকাবিলায় আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। গুলশানের ভয়াবহ হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় আমরা মর্মাহত।
একসঙ্গে লড়বো- ইতালির দূত: শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ইতালির রাষ্ট্রদূত মারিও পালমা বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এটি কোনো দেশের একার সমস্যা নয়। আমাদের উচিত স্কুল-কলেজের যুবকদের ঘৃণার পরিবর্তে ভালোবাসা ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়া। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের তরুণদের প্রতি আমার অনুরোধ, উগ্র মতাদর্শের আহ্বানে কান দেবেন না। আমরা সবাই মুক্ত মানুষ, সবাই মিলে মুক্ত হিসেবে বাঁচবো। গুলশানে হামলার ঘটনায় শোক জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি দুঃখবোধ করছি, আমি দুঃখিত; ওই তরুণদের জন্য, যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা শিক্ষিত ও বয়সে তরুণ। তাই এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, আমাদের সব শিক্ষা ব্যবস্থায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করা, যাতে তরুণরা আরো বেশি সচেতন হয়। মারিও পালমা বলেন, আমাদের দরকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ যুদ্ধ। এ ইস্যুতে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে, পাশাপাশি সন্ত্রাস নির্মূলে পারস্পরিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। রাষ্ট্রদূত বলেন, মানুষকে রক্ষা করতে আমার দেশের সরকার ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোর সরকারের পক্ষে সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতার প্রস্তাব করতে চাই।
পাশে থাকবে ভারত: অনুষ্ঠান শেষে ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধণ শ্রিংলা বলেন, গুলশান হামলার ঘটনায় আমাদের প্রধানমন্ত্রী মর্মাহত, দুঃখিত আমরাও। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে বাংলাদেশের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি। হর্ষবর্ধণ শ্রিংলা বলেন, আমরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ  মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকবো আমরা।

No comments:

Post a Comment