চট্টগ্রামের
সীতাকুণ্ড ও মিরসরাইয়ের মাঝামাঝি এলাকায় ছোট আকারের একটি বন্দর তৈরি করার
পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কাজ সম্পন্ন হয়েছে প্রাক সম্ভাব্যতা
যাচাইয়েরও। সারা দেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা এই উদ্যোগ নেয়া
হয়েছে বলে গতকাল বুধবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই কথা জানান বন্দর চেয়ারম্যান
রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খালেদ ইকবাল। বন্দরের মুন্সী আব্দুর রউফ অডিটোরিয়ামে
‘বন্দরের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ নিয়ে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা
হয়। এতে বন্দরের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন করেন
বন্দরের সদস্য জাফর আলম। পরে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সরকার সারা দেশে ১০টি
অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ফেনী, মিরসরাই ও
আনোয়ারায় ৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। এই ৩টি অঞ্চলই চট্টগ্রাম
বন্দরের কাছে। বিষয়টি বিবেচনা করে সরকারের পক্ষ থেকে মিরসরাই-সীতাকুণ্ডের
মাঝামাঝি এলাকায় কোনো বন্দর বানানো যায় কি না সে বিষয়ে আমাদের নির্দেশনা
দেয়া হয়। ইতিমধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে একটি
বন্দর তৈরি করা সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে। তবে এই এলাকায় ড্রেজিং করে নদীর
গভীরতা বাড়াতে হবে। পরের ধাপে টেকনো ইকোনোমিক ফিজেবিলিটি স্টাডি করা হবে।
এই বন্দরটি হলে ফেনী ও মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলকে সাপোর্ট করা যাবে।
সরকারের গৃহীত ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অর্থনৈতিক করিডোর পরিকল্পনার অংশ
হিসেবে এই বন্দর তৈরি করা হবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য চট্টগ্রাম
বন্দর সার্বিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই মুহূর্তে জাহাজ জট স্বাভাবিক করতে
বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যার ফলে এখন জাহাজ জট নেই। বন্দরের
প্রবৃদ্ধি বাড়াতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। যন্ত্রপাতি বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছি।
যন্ত্রপাতি সংকট কাটানোর জন্য এরই মধ্যে বেশকিছু ভারি যন্ত্রপাতি কেনা
হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্দরের প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। আগামী ১০ বছরে এখানে
যে পরিমাণ আমদানি রপ্তানি হবে তা এ বন্দর দিয়ে হ্যান্ডেল করা সম্ভব হবে না।
তাই বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে বে-টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে এক মাসের মধ্যে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট পাব। এরপরই
ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হবে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment