Wednesday, August 10, 2016

সাগর উত্তাল, তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মৌসুমী নিম্নচাপের কারণে বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে পড়েছে। এর প্রভাবে দমকা বাতাসসহ ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চলে।
বুধবার সকালে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ সতর্ক বার্তায় বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে মৌসুমী নিম্নচাপটি উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে সকাল ৬টায় খুলনা অঞ্চল ও তার আশপাশে ছিল। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এজন্য মংলা, চট্টগ্রাম ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
নিম্নচাপের কারণে উপকূলীয় জেলা, এসব এলাকায় ঘণ্টায় ৫০/৬০ কিলোমিটার বা তারও বেশি বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকা স্বাভাবিকের চেয়ে তিন/চার ফুট বেশি উচ্চতার জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হতে পারে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়।
এ মাসের মাঝামাঝিতে আবারো বন্যা হতে পারে
বন্যার পানি কমছে। তবে এ মাসের মাঝামাঝিতে আবারো তা শুরু হতে পারে। বর্ষণজনিত কারণ ছাড়াও বরফগলা পানিও যোগ হতে পারে এর সাথে। গত সপ্তাহে মওসুমী বায়ু কিছুটা দুর্বল থাকলেও সামনে দিনগুলোতে আবারো কিছুটা সক্রিয় হতে পারে। এর ফলে শুরু হতে পারে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ। বাংলাদেশ ছাড়াও উত্তর-পূর্ব ভারতেও বৃদ্ধি পেতে পারে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ। ফলে বর্ষণজনিত পানি বাংলাদেশের নদীগুলোর ভরে গিয়ে আবারো সৃষ্টি করতে পারে বন্যা পরিস্থিতির।
ইতোমধ্যে সিলেট বিভাগের সুরমা-কুশিয়ারী নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এ দুই নদীতে পানি বাড়লে তা গিয়ে পড়বে মেঘনা নদীতে। ফলে মেঘনা তীরেও হতে পারে বন্যার। ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্যে বর্ষণ হলে সে পানি বাংলাদেশের যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদী দিয়ে গড়িয়ে যাবে। সে পানিতে এ দুই নদীর তীরে আবারো বন্যা হতে পারে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আগস্ট মাসের দ্বিতীয়ার্ধে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় স্বাভাবিক বন্যা হতে পারে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে। অপরদিকে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী দুই দিনে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি হ্রাস অব্যাহত থাকতে পারে। সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী দুই দিনে মানিকগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকতে পারে। ঢাকার আশেপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা (নারায়ণগঞ্জ) প্রভৃতি নদীসমূহের পানি হ্রাস পাচ্ছে। এসব নদীর পানি হ্রাস পাওয়া অব্যাহত থাকবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড পর্যবেক্ষণ করে এমন ৯০ স্টেশনের মধ্যে আজ মঙ্গলবার ধলেশ্বরী নদী এলাসিনে ৪১ সেন্টিমিটার, কালিগঙ্গা নদী তারাঘাটে ১৮ সেন্টিমিটার, ধলেশ্বরী নদী জাগিরে ২৯ সেন্টিমিটার ও তিতাস নদী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ নদীগুলোর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও আজ যথাক্রমে ১১, ১৬, ১১ ও ৯ সেন্টিমিটার পানি কমেছে।
মওসুমী বায়ু বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে বেশ সক্রিয় রয়েছে। ফলে আজ চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও বরিশাল জেলায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। আজ টেকনাফে ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। কুতুবদিয়ায় ৯৩, কক্সবাজারে ৬০ মিলিমিটার, সিলেটে ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

No comments:

Post a Comment