রাজধানীর শপিং কমপ্লেক্স বসুন্ধরা সিটিতে
বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছিল বলে মনে করছে ফায়ার সার্ভিসের
তদন্ত কমিটি। ঘটনার নয় দিন পর তদন্ত কমিটি বলছে, মার্কেটের ১০১টি দোকান
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা যায়নি। শিগগিরই
তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে। তদন্ত কমিটির প্রধান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল
ডিফেন্স অধিদফতরের উপ-পরিচালক অজিত কুমার ভৌমিক বলেছেন, প্রাথমিকভাবে ধারনা
করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। সি ব্লকের ৬০
নম্বর জুতার দোকানের সিলিং থেকে আগুন লাগে। সিলিং এর উপরে বৈদ্যুতিক তার
রাখা ছিল। তারগুলো আলাদা কোনো ট্রেতে ছিল না। ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে যায়।
তিনি জানান, সি ব্লকের ৯৯টি দোকান ও মালামাল আগুনের পুড়ে গেছে। আগুনের তাপে
ওপরের তলার (সপ্তম তলা) সি ব্লকের দুটি মেগাশপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে
ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
তদন্তের আগ্রগতির বিষয়ে অজিত কুমার ভৌমিক
জানান, এ পর্যন্ত তারা শপিং মলের দুই দোকান মালিক এবং বসুন্ধরা সিটির ১১
অগ্নিনির্বাপন কর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীর সাথে কথা বলেছেন। দোকান মালিকদের
সাথে আরো কথা বলা দরকার। এখনো তদন্ত শেষ হয়নি। তদন্তে আরো কয়েকদিন লাগবে।
কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও নিরূপণ করা যাবে। গত ২১
আগস্ট সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর পান্থপথে বহুতল শপিং কমপ্লেক্স বসুন্ধরা
সিটির ষষ্ঠ তলার সি ব্লকে আগুন লাগে। ১০ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কথা
বলা হলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে সময় লাগে দুই দিন। এরপর ২৩ আগস্ট ভবনটি
কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেয় ফায়ার সার্ভিস। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত করতে
উপ-পরিচালক অজিত কুমার ভৌমিককে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে
ফায়ার সার্ভিস। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- ফায়ার সার্ভিসের সহকারী
উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম ও মামুন মাহমুদ, সিনিয়র স্টেশন অফিসার তানহারুল
ইসলাম ও শাহজাদী সুলতানা। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন
দিতে বলা হয়। বসুন্ধরা সিটির হেড অব মার্কেটিং এম জসিম উদ্দিন জানান,
মার্কেটে এখনো সংস্কার কাজ চলছে। কেন্দ্রীয় শীতাতপ যন্ত্র (এসি) মেরামতের
কাজ শেষ না হওয়ায় শপিং মল খুলতে দেরি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার শপিং মল খুলে
দেয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি। বসুন্ধরা সিটি দোকান মালিক সমিতির সভাপতি এমএম
হান্নান আজাদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পর নয় দিন ধরে মার্কেট বন্ধ থাকায়
মার্কেটের ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment