ইউরোপে যখন শরণার্থীদের ঢল নামা শুরু হয়,
তখন ম্যার্কেল আশ্বাস দিয়েছিলেন৷ বলেছিলেন – ‘আমরা অবশ্যই পারবো৷’ আর আজও
নিজের সেই বিশ্বাসে অনড় জার্মান চ্যান্সেলর৷ কিন্তু জার্মানিতে বসবাসকারী
শরণার্থীদের অভিজ্ঞতা কী বলছে? সাম্প্রতিক সময়ে জার্মানিসহ ইউরোপের কয়েকটি
দেশে একের পর এক জঙ্গি হামলার জন্য অনেকেই পরোক্ষভাবে আঙ্গেলা ম্যার্কেলের
উদার শরণার্থী নীতিকে দায়ী করছেন৷ দেশের ভেতরে এতদিনের শক্ত অবস্থান আর নেই
চ্যান্সেলরের৷ শরণার্থী সংকটের কারণে নিজের রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে সমর্থন
হারাচ্ছেন তিনি৷ এমনকি সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা বলছে, চতুর্থবারের মতো
বিশ্ব রাজনীতিতে ‘লৌহমানবী' হিসেবে পরিচিতি ম্যার্কেলকে আর চ্যান্সেলর
হিসেবে দেখতে চান না জার্মানির দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ৷ চ্যান্সেলরের ইতিবাচক
আশ্বাসে তাদের যেন আর বিশ্বাস নেই৷ অনেকেই আজ শরণার্থীদের চায় না৷
জার্মানিতে ছুটে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীরা কি তবে আজ সাধারণের চক্ষুশূল? কী
বলছেন জার্মানিতে বসবাসকারী শরণার্থীরা? #MsgToMerkel অভিযানে অংশ নেওয়া
তাদের কয়েকজনের কথাই তুলে ধরেছে ডয়চে ভেলে:
মুহাম্মদ টাঙ্কো, নাইজার
![]() |
| মুহাম্মদ টাঙ্কো |
‘‘ইউরোপে
আফ্রিকা থেকে আসা মানুষদের তুলনায় একটা কুকুরের প্রতিও বেশি সম্মান দেখানো
হয়৷ তাই তো আমি এখানে আফ্রিকানদের অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করছি৷ কাজ করছি
তাদের জন্য, যাদের গায়ের রং ‘কালো’ হওয়ার কারণে জার্মানি ছেড়ে যেতে বাধ্য
করা হচ্ছে৷”
![]() |
| রেজা আকবরি |
রেজা আকবরি, আফগানিস্তান
‘‘আমি যখন আফগানিস্তান থেকে জার্মানিতে এসেছিলাম, তখন আমার মেয়ের বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর৷ ওর চোখে স্বপ্ন ছিল, জার্মানির স্কুলে পড়বে, বড় হবে৷ কিন্তু আজও আমাদের একটা শরণার্থী শিবিরে আরো ৫০০ জনের সঙ্গে গাদাগাদি করে বাস করতে হচ্ছে৷ আমরা জানি না এভাবে আর কতদিন থাকতে হবে৷ আজ মনে হচ্ছে, আমার মেয়ের ভবিষ্যত সত্যিই অন্ধকার৷”
‘‘আমি যখন আফগানিস্তান থেকে জার্মানিতে এসেছিলাম, তখন আমার মেয়ের বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর৷ ওর চোখে স্বপ্ন ছিল, জার্মানির স্কুলে পড়বে, বড় হবে৷ কিন্তু আজও আমাদের একটা শরণার্থী শিবিরে আরো ৫০০ জনের সঙ্গে গাদাগাদি করে বাস করতে হচ্ছে৷ আমরা জানি না এভাবে আর কতদিন থাকতে হবে৷ আজ মনে হচ্ছে, আমার মেয়ের ভবিষ্যত সত্যিই অন্ধকার৷”
মোহাম্মদ মোহাম্মাদি, ইরান
“ইরান ছেড়ে আসার সময় আমার পরিবারকে শেষ দেখি আমি৷ জার্মানিতে ঢোকার সময়ই আমরা আলাদা হয়ে যাই৷ আজও আমরা একেকজন একেক শহরে আছি৷ এভাবে আর কতদিন? আমরা কি কোনোদিনই আবার আগের মতো একসঙ্গে থাকতে পারবো না?”
“ইরান ছেড়ে আসার সময় আমার পরিবারকে শেষ দেখি আমি৷ জার্মানিতে ঢোকার সময়ই আমরা আলাদা হয়ে যাই৷ আজও আমরা একেকজন একেক শহরে আছি৷ এভাবে আর কতদিন? আমরা কি কোনোদিনই আবার আগের মতো একসঙ্গে থাকতে পারবো না?”



No comments:
Post a Comment