Wednesday, August 31, 2016

নৌপথের সিগন্যালগুলো লণ্ডভণ্ড : ঈদযাত্রায় শঙ্কা

আর কয়েক দিন পরই ঈদুল আজহা। প্রিয়জনের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে মানুষের একটি বৃহৎ অংশ নৌপথ ব্যবহার করবেন ঈদযাত্রায়। নদনদীতে প্রবল স্রোতের কারণে এবার নৌপথে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন অনেকে। আর এ কারণে নৌপথে যাতায়াতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে যে হারে ভারত থেকে পানি নামছে, তাতে ঈদ পর্যন্ত পদ্মার পানিপ্রবাহে বিপদসীমার অতিক্রম অব্যাহত থাকবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০০৪ থেকে ১২ সাল পর্যন্ত পদ্মার পানি বিপদসীমার ওপরে যায়নি। ১৯৯৮, ২০০৩ ও ২০১৩ সালেও সেপ্টেম্বরে ফারাক্কার পানির কারণেই বিপদসীমার ওপরে ছিল পদ্মা। ফারাক্কার গেট খুলে দেয়ায় এবারো সেপ্টেম্বরের শুরুতে রয়েছে সেই আশঙ্কা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ফারাক্কায় প্রতি বছরই কয়েকটি করে গেট খুলে দেয়া হয়। এবার তার চেয়ে বেশি গেট খুলে দেয়ায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ার হার বেশি। সম্প্রতি ভারতের উত্তর প্রদেশ, বিহার ও ঝাড়খন্ডে ব্যাপক বন্যা দেখা দেয়ায় গঙ্গার পানি নামাতে খুলে দেয়া হয় ফারাক্কার ১০৪টি গেট। যার ফলে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে পদ্মার পানি। লঞ্চ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বেশির ভাগ বড় নদীতেই পানি বাড়ার সাথে সাথে সরে গেছে বয়া বাতিগুলো। দ্রুত এগুলো যথাস্থানে পুনঃস্থাপন না করলে ঈদ যাতায়াতে নৌপথে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে শঙ্কা লঞ্চচালকদের।
গাজী জহিরউদ্দিন নামে এক চালক বলেন, নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে সিগন্যালগুলো লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে, যে কারণে তারা ঠিকমতো লঞ্চ চালাতে পারছেন না। কোনো কোনো স্থানে স্রোত এতটাই প্রবল যে, বড় বড় নৌযানগুলো সামলে রাখা কষ্ট হয়। নৌযান কর্তৃপক্ষ বলেছে, ঈদে অর্ধকোটি যাত্রীকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিতে নতুন লঞ্চের কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি চলছে লঞ্চ মেরামতও। চলছে শেষ মুহূর্তের ঝালাইয়ের কাজ। দ্রুত কাজ শেষ করতে নিজেদের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছেন শ্রমিকেরা। কারণ ঈদের আগেই লঞ্চগুলো ভাসাতে হবে নদীতে। বুড়িগঙ্গা তীরের ডকগুলোর চিত্র এখন এমনই। এ ছাড়া যাত্রীদের সুবিধার্থে সদরঘাট টার্মিনাল মেরামত করা হয়েছে বলেও জানান তারা। তবে কিছু অকেজো নৌযানও ঈদকে সামনে রেখে প্রস্তুত হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র জানায়। ছোট লঞ্চগুলো এই সময় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যবারের চেয়ে এ বছর নদীতে পানির উচ্চতা বেশি হওয়ায় লঞ্চমালিকেরাও চিন্তিত। স্রোতের কারণে ভেসে বা সরে যাওয়া পদ্মা-মেঘনার চলাচল সহায়ক সিগন্যাল বাতিগুলো দ্রুত নির্ধারিত জায়গায় সরিয়ে না আনলে ঈদে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাদেরও। জানা গেছে, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪৭টি জেলা কোনো না কোনোভাবে নৌ-যোগাযোগের সাথে যুক্ত। আর এই বিশাল নৌপথে প্রায়ই চলছে নৌদুর্ঘটনা। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৪ আগস্ট ঈদের সময় পিনাক-৬-এ যাত্রী হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন শ’খানেক মানুষ। একই বছরে নৌপথে দুর্ঘটনা হয়েছিল ১৪৬টি; নিহত হয়েছেন ২৩৮ জন।

No comments:

Post a Comment