Thursday, September 29, 2016

খানাখন্দে মহেশপুরের মানুষের ভোগান্তি

ঝিনাইদহের খালিশপুর-জিন্নানগর সড়ক বেহাল। ছবিটি
বুধবার সড়কের কুশাডাঙ্গা এলাকা থেকে তোলা। প্রথম আলো
সংস্কার না করায় ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খালিশপুর-মহেশপুর-জিন্নানগর সড়কটির পিচ ও খোয়া উঠে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বৃষ্টি হলে এসব গর্তে জমে পানি। এ কারণে রাস্তাটি দিয়ে চলাচলে ভোগান্তিতে পড়েছে উপজেলার অর্ধেক মানুষ। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ৪২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি সম্প্রতি বৃষ্টির কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি আপাতত চলাচলের উপযোগী করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তা ছাড়া নতুন করে মেরামতের প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে। এলাকাবাসী জানান, ভারত সীমান্তঘেঁষা মহেশপুরের ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টিতে মানুষের চলাচলের একমাত্র সড়ক খালিশপুর-মহেশপুর-জিন্নানগর সড়ক। উপজেলার এসবিকে, পান্তাপাড়া, স্বরূপপুর, শ্যামকুড়, নেপা, কাজীরবেড় ইউনিয়নসহ ফতেপুর ও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নেরও অনেক মানুষ সড়কটি দিয়ে চলাচল করে। এর সঙ্গে রয়েছে মহেশপুর পৌরসভার লোকজন। কিন্তু বর্তমানে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
ওই সড়কের পাশের গুড়দা বাজারের বাসিন্দা দবির হোসেন বলেন, একটি উপজেলার অর্ধেকের বেশি মানুষ যে সড়ক দিয়ে চলাচল করে, সেই সড়কের এমন দুরবস্থা ভাবাই যায় না। সড়কটি সওজ বিভাগের আওতাভুক্ত। ২০০০ সালে তাঁদের এলাকায় বন্যা হয়েছিল। সেই বন্যায় সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সওজ নতুন করে সড়কটি তৈরি করে। এরপর কিছুদিন ভালোই ছিল। কিন্তু অল্পদিনেই সড়কটির কিছু কিছু স্থান ভেঙে গেলে ২০০৭ সালে তা মেরামত করা হয়। সেটি আবারও ভেঙেচুরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কটিতে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। অনেক স্থানে গর্ত এত বড় যে প্রায়ই চলাচলকারী যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনায় পড়ছে। কালীগঞ্জ মোটর মালিক সমিতির সদস্য আবদুল ওয়াহেদ বিশ্বাস বলেন, সড়কটি দিয়ে ভারী যানবাহনের পাশাপাশি আধঘণ্টা পরপর কালীগঞ্জ-জিন্নানগর পথে বাস চলাচল করে। তা ছাড়া প্রতিদিন এখান থেকে সড়কটি দিয়ে ঢাকায় সাতটি বাস যাতায়াত করে। সড়কটি বেহালের কারণে প্রায়ই গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকছে। এতে যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে।
অনুরোধ করে বুঝিয়ে রাস্তায় গাড়ি পাঠানো হলেও ফিরে এসে চালকেরা আর যেতে চান না। স্বরূপপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রশিদ বলেন, সড়কটি নিয়ে তাঁরা প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের কাছ থেকে গালমন্দ শুনছেন। এরপরও কিছু করতে পারছেন না। সওজের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁরা এ বিষয়ে অনেকবার যোগাযোগ করেছেন। তাঁরাও আশ্বস্ত করতে পারেননি। ঝিনাইদহ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, সড়কটি মেরামতের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সেটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তা ছাড়া আপাতত চলাচলের জন্য তাঁরা ইট-বালু ফেলে গর্ত ভরাট করছেন। বৃষ্টিতে অনেক মহাসড়কও নষ্ট হয়ে গেছে। সেগুলো সংস্কারে বেশি প্রাধান্য দিতে হচ্ছে। তারপরও উপজেলা সড়কগুলো দিয়ে যাতে মানুষ ভালোভাবে চলাচল করতে পারে, সে চেষ্টাও তাঁরা করে যাচ্ছেন।

No comments:

Post a Comment