![]() |
| বরিশালের বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীতে গতকাল লঞ্চডুবির পর সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন আলেয়া বেগম। কিন্তু স্বামীর কোনো হদিস না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। ফাইল ছবি: প্রথম আলো |
বরিশালের
বানারীপাড়া উপজেলায় সন্ধ্যা নদীতে লঞ্চডুবির ঘটনায় আরও চারজনের লাশ উদ্ধার
করা হয়েছে। তবে তাঁদের পরিচয় মেলেনি। এ নিয়ে মোট ১৭ জনের লাশ উদ্ধার হলো।
গতকাল বুধবার প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে একটি লঞ্চ সন্ধ্যা নদীতে ডুবে যায়।
রাত নয়টা পর্যন্ত ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বানারীপাড়া থানার
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল আহসান আজ বৃহস্পতিবার সকালে জানান, এরপর
আরও চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার
সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ
(বিআইডব্লিউটিএ)। তবে নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
নিহত
ব্যক্তিদের মধ্যে নয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন বানারীপাড়া উপজেলার
সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের সাগর মির (২৫), ফিরোজা বেগম (৫০); উত্তর হাড়তা গ্রামের
সুখদেব মল্লিক (৪০), মোজাম্মেল মোল্লা (৬০); স্বরূপকাঠি ইউনিয়নের রাবেয়া
খাতুন (৪৫); জিরাকাঠি ইউনিয়নের রেহানা বেগম (৩০), জয়নাল হাওলাদার (৬০);
মজিবাড়িয়া গ্রামের কোহিনূর বেগম (৪৫) ও শান্তা (৭)। দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চের
বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা বলেন, গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এমএল ঐশী নামের ছোট
আকারের লঞ্চটি বানারীপাড়া থেকে প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে উজিরপুর উপজেলার
হাড়তার দিকে যাচ্ছিল। পথে সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের দাসেরহাট ঘাটে যাত্রী নামাতে
যাওয়ার পথে তীরের কাছাকাছি গিয়ে লঞ্চটি ডুবে যায়। লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার পর
সাঁতরে তীরে ওঠা আলেয়া বেগম প্রথম আলোকে বলেন,
বানারীপাড়া
থেকে স্বামীর সঙ্গে লঞ্চে ওঠেন তিনি। দাসেরহাট ঘাটে ভিড়তে গিয়ে নদীর পাড়ের
একটি বড় অংশজুড়ে মাটি ভেঙে পড়লে সেখানে ঘূর্ণিপাকের সৃষ্টি হয়। এতে
স্রোতের তোড়ে লঞ্চটি ডুবে যায়। তিনি সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও তাঁর স্বামী
নিখোঁজ রয়েছেন। সৈয়দকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান
মৃধা বলেন, যাত্রী নামাতে দাসেরহাট ঘাটে ভিড়ছিল লঞ্চটি। এ সময় হঠাৎ করে
নদীর পাড়ের অনেকটা মাটি ভেঙে পানিতে পড়ে। এতে লঞ্চটি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে
এবং স্রোতের তোড়ে ডুবে যায়। বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো.
ফারুক হোসেন শিকদার প্রথম আলোকে বলেন, লঞ্চটি প্রায় ১০০ মিটার পানির নিচে
রয়েছে। সেটিকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment