মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র
করে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী তিন বিতর্কের প্রথমটিতে আশা জাগিয়েছেন ডেমোক্রেটিক
প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। বিপরীতে আশংকা ছড়িয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউএসএ টুডে জানায়, বিতর্কের সময় ট্রাম্পের ভাষা ও যুক্তি
শুনে তাকে জাতীয় মূল্যবোধের জন্য হুমকি বলে অভিহিত করেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট
বারাক ওবামা। মঙ্গলবার রেডিও পার্সোনালিটি রায়ান সি ক্রেস্টকে দেয়া
সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন। ৮ নভেম্বরের আসন্ন নির্বাচনে ভোটার
রেজিস্ট্রেশন, প্রচারণা এবং প্রস্তুতি সম্পর্কিত আলোচনায় তিনি সোমবারের
(বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার) বিতর্ক সম্পর্কে খোলামেলা মন্তব্য করেন। ওবামা
বলেন, বিতর্ক দেখে মনে হয়েছে যে, দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার মতো যথাযথ প্রস্তুতি ও
মেজাজ কোনোটা নেই ট্রাম্পের। তাছাড়া জাতীয় মূল্যবোধের প্রতিও সম্মান
দেখাতে পারেননি তিনি। কিন্তু হিলারিকে যথেষ্ট প্রস্তুত মনে হয়েছে।
আমেরিকার
এ প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নিজের উত্তরসূরি হিসেবে দেশ চালানোর জন্য
যোগ্য নেতা হিসেবে হিলারির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। তিনি আরও বলেন, আমার
বক্তব্য হিলারির প্রতি কিছুটা পক্ষপাতিত্বের মতো মনে হতে পারে। কারণ আমি
নিজে হিলারির সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছি। কিন্তু বাস্তবতা হল, পরবর্তী
প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য হিলারিই উপযুক্ত ব্যক্তি। সঠিক মেজাজের মানুষ তিনি।
দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে হয় কীভাবে তিনি তা জানেন। কারণ, এসব বিষয়ে
দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের
জন্য তিনি এখন প্রস্তুত। ইউএসএ টুডে জানায়, দলের অভ্যন্তরীণ মনোনয়ন
যুদ্ধে ‘প্রাইমারি নির্বাচনের আগে’ বিতর্ক-পরবর্তী সময়ে তার মতামত চেয়েও
পাওয়া যায়নি। তখন তিনি বলেছিলেন, সকালে উঠে পত্রিকা দেখেই তিনি সব সংবাদের
আপডেট পান। নিজে এসব বিষয়ে কথা বলতে চান না। কিন্তু এবার ঠিক উল্টোটাই
ঘটছে। রেডিও সি ক্রেস্টকে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার দেয়ার মাধ্যমে তিনি
পরিষ্কার করে দেন যে,
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে হিলারির পক্ষে
ক্রমেই তার সক্রিয়তা বাড়ছে। হিলারিকে নির্বাচনে জেতাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন
করতে চান তিনি। এসময় দুই কারণে সংশয় প্রকাশ করেন ওবামা। পরমাণু অস্ত্রের
বিস্তার এবং জলবায়ু পরিবর্তন দুই বিষয়েই ট্রাম্পকে নির্ভর করা যায় না বলেই
মনে করেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি শংকিত বোধ করি যখন
ট্রাম্পের মতো একজন মানুষ বলেন যে- জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা
নিয়ে আমেরিকা এত উদ্বিগ্ন থাকে কেন তা আমি বুঝি না। আমার মনে হয়, নিজেদের
নিরাপত্তার জন্য তাদের পরমাণু বোমা বানানো উচিত।’ এছাড়া জলবায়ু বিষয়ে
ট্রাম্প মনে করেন, এটা পুরোপুরি চীনের ইস্যু। এর সঙ্গে মার্কিনিদের কোনো
সম্পর্ক নেই। ওবামা ট্রাম্পের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে ধাপ্পাবাজি বলে অভিহিত
করেন। হোয়াইট হাউসের ‘ইন্ডিয়ান ট্রিটি’ রুমে বসে হিলারি-ট্রাম্পের প্রথম
বিতর্কটি উপভোগ করেন ওবামা। এ রুমটি অধ্যয়নের জন্য ব্যবহার করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নির্বাচন প্রসঙ্গে তরুণ প্রজন্মের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন
তিনি। আগামী নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র থেকে মুখ ফিরিয়ে না নেয়ার জন্য তাদের
আহ্বান জানান ওবামা।

No comments:
Post a Comment