‘রক্ত ও পানি একসঙ্গে বইতে পারে না’- এ
কথা বলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সিন্ধু নদের চুক্তি
পুনর্বিবেচনার ঘোষণা দেয়ার পর এবার বিশ্বব্যাংকের দ্বারস্থ হয়েছে
পাকিস্তান। সিন্ধুর পানি চুক্তি ভঙ্গ করে ঝিলাম ও চেনাব নদীতে ভারতের অবৈধ
নির্মাণ কাজ বন্ধে বিশ্বব্যাংকের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে পাকিস্তান।
ওয়াশিংটনে পাকিস্তানের দূতাবাস মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, পাকিস্তানের
প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় বিশ্বব্যাংক নিরপেক্ষ থেকে সিন্ধু
চুক্তির যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে তা নিশ্চিত করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে। খবর
টাইমস অব ইন্ডিয়ার। অ্যাটর্নি জেনারেল আশতার আসফ আলীর নেতৃত্বে পাকিস্তানের
প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনে অবস্থিত বিশ্বব্যাংকের সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন
কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। এসময় তারা ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু
নদীর পানিবণ্টন চুক্তির ৯নং অনুচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি
বিশ্বব্যাংকের কাছে বিষয়টি স্থায়ী সমাধান করতে বিচারক নিয়োগের আবেদন জানান
আসফ। এর জবাবে বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তারা নিরপেক্ষ থেকে সিন্ধুর
পানিবণ্টনের বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন।
১৯৬০ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুব খানের মধ্যে ইন্দুস (সিন্ধু) পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তির মধ্যস্থতা করে বিশ্বব্যাংক। চুক্তি অনুযায়ী ভারতের উপমহাদেশের পশ্চিমমুখী ছয়টি নদীর পানি ভাগ হয় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। এ ছয়টি নদীর মধ্যে সুতলেজ, বেয়াস ও রাভি নদীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে ভারতের হাতে। অন্যদিকে, প্রায় কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই অপর তিনটি নদী ঝিলাম, চেনাব ও ইন্দুসের (সিন্ধু) পানি পাবে পাকিস্তান। তবে এও বলা হয়, প্রয়োজনের খাতিরে এ নদীগুলোর পানি ভারত সীমিত পরিসরে ব্যবহার করতে পারবে। পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত সিন্ধু, চেনাব ও ঝিলামের মূল প্রবাহ ভারতেই। সিন্ধু নদের মাত্র ২০ শতাংশ ভারত ব্যবহার করে। কিন্তু পাকিস্তান কৃষির জন্য এ তিন নদীর ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। এখন সিন্ধু নদের গতিপথ বদলে নিজেদের অংশ দিয়ে হাইড্রোলিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কথাও ভাবছে ভারত। জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান ১৯ আগস্ট সিন্ধু পানি চুক্তির জন্য জাতিসংঘের ট্রাইব্যুনালকেও অবহিত করে।
১৯৬০ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুব খানের মধ্যে ইন্দুস (সিন্ধু) পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তির মধ্যস্থতা করে বিশ্বব্যাংক। চুক্তি অনুযায়ী ভারতের উপমহাদেশের পশ্চিমমুখী ছয়টি নদীর পানি ভাগ হয় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। এ ছয়টি নদীর মধ্যে সুতলেজ, বেয়াস ও রাভি নদীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে ভারতের হাতে। অন্যদিকে, প্রায় কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই অপর তিনটি নদী ঝিলাম, চেনাব ও ইন্দুসের (সিন্ধু) পানি পাবে পাকিস্তান। তবে এও বলা হয়, প্রয়োজনের খাতিরে এ নদীগুলোর পানি ভারত সীমিত পরিসরে ব্যবহার করতে পারবে। পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত সিন্ধু, চেনাব ও ঝিলামের মূল প্রবাহ ভারতেই। সিন্ধু নদের মাত্র ২০ শতাংশ ভারত ব্যবহার করে। কিন্তু পাকিস্তান কৃষির জন্য এ তিন নদীর ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। এখন সিন্ধু নদের গতিপথ বদলে নিজেদের অংশ দিয়ে হাইড্রোলিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কথাও ভাবছে ভারত। জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান ১৯ আগস্ট সিন্ধু পানি চুক্তির জন্য জাতিসংঘের ট্রাইব্যুনালকেও অবহিত করে।
তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের
কিশান গঙ্গা নদী নিয়ে বিবাদ, ঝিলাম ও তিলম নদীর ওপর নির্মিত রেটিল
হাইড্রোলিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বন্ধের আবেদন জানায়। এদিকে,
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা সরতাজ আজিজ বলেছেন,
সিন্ধু পানি চুক্তি প্রত্যাহার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের যুদ্ধ ঘোষণার
শামিল। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার পাকিস্তানের
সংসদে আজিজ বলেছেন, সিন্ধু পানি চুক্তি প্রত্যাহার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে
যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। একতরফাভাবে এ পানি চুক্তি প্রত্যাহারের ফলে পাক
অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে। তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে, ভারত
একা চুক্তি থেকে সরে যেতে পারে না। ভারত এ চুক্তি ভাঙলে পাকিস্তান
আন্তর্জাতিক আদালতে যাবে।’ এর একদিন আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র
মোদি বলেন, রক্ত ও পানি একসঙ্গে বইতে পারে না। ভারতের অভিযোগ কাশ্মীরের
উরিতে ১৮ ভারতীয় সেনা সদস্য নিহত হওয়ার পেছনে আছে পাকিস্তান। আর এ কারণে
সিন্ধু নদের পানি বন্ধ করার চিন্তা-ভাবনাও করছে ভারত। এদিকে, কাশ্মীর নিয়ে উত্তেজনার
প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানকে চাপে রাখতে পানির পর এবার বাণিজ্যিক সম্পর্কের দিকে নজর দিতে চলেছে ভারত।
প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানকে চাপে রাখতে পানির পর এবার বাণিজ্যিক সম্পর্কের দিকে নজর দিতে চলেছে ভারত।
No comments:
Post a Comment